আযান, ইকামত ও নামাযের ওয়াজিব বিষয়াবলী

-মোতাবেকে আয়াতুল্লাহ আল উজমা সাইয়েদ আলী হোসাইনী সিস্তানির ফতোয়া

অনুবাদ: আলহাজ্জ ড. মো. সামিউল হক

আযান, ইকামত ও নামাযের নামাযের ওয়াজিব বিষয়াবলীর মধ্যে গণ্য না হলেও নামাযের পূর্বে আযান ও ইকামতের অনেক গুরুত্ব ও ফজিলত রয়েছে।  এ ক্ষেত্রে মাসলা নিম্নরূপ:

মূল মাসআলা: কোন মুস্তাহাব নামাযেরই আযান বা ইকামত নেই। (আল উরওয়াতুল ওয়াছকা, খণ্ড -১, পৃ-৬০১)। তবে এ ক্ষেত্রে আনুসাঙ্গিক বিষয়াদি নিম্নে উল্লেখ করা হল:

১- নামাযের জন্য এটা মুস্তাহাব যে, দৈনন্দিন প্রতিটি নামায শুরুর আগে প্রথমে আযান তারপর ইকামত দিবে (তৌযিহুল মাসায়েল, মাসআলা নং ৯১৮)।

২- আযান ও ইকামত নামাযের ওয়াক্তে বলতে হবে, যদি তা ওয়াক্তের পূর্বে বলা হয়ে থাকে তবে তা বাতিল বলে গণ্য হবে (তৌযিহুল মাসায়েল, মাসআলা নং ৯৩৫)।

৩- ইকামত অবশ্যই আযানের পরে বলতে হবে, যদি তা আযানের আগে বলা হয়ে থাকে তবে তা সাঠিক নয় (তৌযিহুল মাসায়েল, মাসআলা নং ৯৩১)।

৪- আযান ও ইকামত বলার সময় বাক্য উচ্চারণের ক্ষেত্রে অবশ্যই যেন অধিক সময়ের ব্যবধান না হয়। আর যদি তা উচ্চারণের ক্ষেত্রে সাধারণ পরিমাণের তুলনায় অধিক সময়ের ব্যবধান হয়ে যায় তবে অবশ্যই তা পুনরায় প্রথম থেকে শুরু করতে হবে (তৌযিহুল মাসায়েল, মাসআলা নং ৯২০)।

৫- যদি জামায়া’তের নামাযের জন্য আযান ও ইকামত বলা হয়ে থাকে এবং কোন ব্যক্তি ওই জামায়া’তের সাথে নামায শুরু করে তবে সে যেন অবশ্যই নিজের জন্য আযান ও ইকামত না বলে (তৌযিহুল মাসায়েল, মাসআলা নং ৯২৩)।

৬- মুস্তাহাব হচ্ছে যে, যে ব্যক্তিকে আযান দেয়ার জন্য নির্দিষ্ট করা হবে সে যেন ন্যায়পরায়ন, সময় সচেতন এবং তার গলার আওয়াজ যেন উচ্চ হয় (তৌযিহুল মাসায়েল, মাসআলা নং ৯৪১)।

৭- মুস্তাহাব হচ্ছে যে, শিশু জন্ম নেয়ার প্রথম দিনে তার ডান কানে আযান ও বাম কানে ইকামত বলা (তৌযিহুল মাসায়েল, মাসআলা নং ৯১৭)।

আযানের নিয়মঃ

আযান নিম্নলিখিত ধারাবাহিকতায় বলতে হয়:

১- চার বার বলা: «الله أكبر» আল্লাহু আকবার; অর্থ: আল্লাহ সবচেয়ে বড়।

২- দুই বার বলা: «أَشْهَدُ أن لا إِلَه إِلاّ الله» আশহাদু আন্ লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ; অর্থ: আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আল্লাহ ছাড়া কোন মাবুদ নাই।

৩- দুই বার বলা: «أَشْهَدُ أنَّ مُحَمَّداً رَسُولُ الله» আশহাদু আন্না মুহাম্মাদান রাসূলুল্লাহ; অর্থ: আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, মুহাম্মদ আল্লাহর রাসূল।

আর উত্তম হল: «أَشْهَدُ أنَّ عَلِياً وَلی الله» আশহাদু আন্না আলিয়্যান ওলি উল্লাহ; অর্থ: আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আলী আল্লাহর ওলি। এই তৃতীয় সাক্ষ্যও দুই বার বলা। তবে জ্ঞাতব্য বিষয় হল এই বাক্য আযানের অংশ নয়।

৪- দুই বার বলা: «حَیّ عَلَی الصَلاةِ»  হাই আলাস সালাহ; অর্থ: নামাযের জন্য এসা।

৫- দুই বার বলা: «حَیّ عَلَی الفَلاحِ» হাই আলাল ফালাহ; অর্থ: কল্যাণের দিকে এসো।

৬- দুই বার বলা: «حَیّ عَلَی خَيرُ الْعَمَل» হাই আলা খাইরিল আমাল; সর্বোত্তম আমলের দিকে এসো।

৭- দুই বার বলা: «الله أكبر» আল্লাহু আকবার; অর্থ: আল্লাহ সবচেয়ে বড়।

৮- দুই বার বলা: «لا إِلَه إِلاّ الله» লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ; অর্থ: আল্লাহ ছাড়া কোন মাবুদ নাই।

একামতের নিয়ম

একামত নিম্নলিখিত ধারাবাহিকতায় বলতে হয়:

১- দুই বার বলা: «الله أكبر» আল্লাহু আকবার; অর্থ: আল্লাহ সবচেয়ে বড়।

২- দুই বার বলা: « أَشْهَدُ أن لا إِلَه إِلاّ الله» আশহাদু আন্ লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ; অর্থ: আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আল্লাহ ছাড়া কোন মাবুদ নাই।

৩- দুই বার বলা: «أَشْهَدُ أنَّ مُحَمَّداً رَسُولُ الله» আশহাদু আন্না মুহাম্মাদান রাসূলুল্লাহ; অর্থ: আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, মুহাম্মদ আল্লাহর রাসূল।

আর উত্তম হল: «أَشْهَدُ أنَّ عَلِياً وَلی الله» আশহাদু আন্না আলিয়্যান ওলি উল্লাহ; অর্থ: আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আলী আল্লাহর ওলি। এই তৃতীয় সাক্ষ্যও দুই বার বলা। তবে জ্ঞাতব্য বিষয় হল এই বাক্য একামতের অংশ নয়।

৪- দুই বার বলা: «حَیّ عَلَی الصَلاةِ»  হাই আলাস সালাহ; অর্থ: নামাযের জন্য এসা।

৫- দুই বার বলা: «حَیّ عَلَی الفَلاحِ» হাই আলাল ফালাহ; অর্থ: কল্যাণের দিকে এসো।

৬- দুই বার বলা: «حَیّ عَلَی خَيرُ الْعَمَل» হাই আলা খাইরিল আমাল; সর্বোত্তম আমলের দিকে এসো।

৭- দুই বার বলা: «قَدْ قَامَتِ الصَّلاَةُ» কাদ কা’মাতিস সালাহ; অর্থ: সত্যরই নামায কায়েম হচ্ছে।

৮- দুই বার বলা: «الله أكبر» আল্লাহু আকবার; অর্থ: আল্লাহ সবচেয়ে বড়।

৯- এক বার বলা: «لا إِلَه إِلاّ الله» লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ; অর্থ: আল্লাহ ছাড়া কোন মাবুদ নাই।

নামাযের ওয়াজিব বিষয়াবলী

১- “আল্লাহু আকবার” বলার সাথে নামায শুরু এবং সালাম পাঠের মধ্য দিয়ে তা শেষ হয়।

২- যা কিছু নামাযের মধ্যে আঞ্জাম দেয়া হয় তা হয় ওয়াজিব অথবা মুস্তাহাব।

৩- নামাযের ওয়াজিব বিষয়গুলো হচ্ছে ১১ টি। যার কিছু সংখ্যক রুকন এবং কিছু সংখ্যক অরুকন। রুকন ও অরুকন-এর মধ্যে পার্থক্য: নামাযের আরকান (আরকান হচ্ছে রুকনের বহুবচন) হচ্ছে নামাযের বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ অংশ। তাই তার যে কোন একটিও যদি আঞ্জাম না দেয়া হয় অথবা অতিরিক্ত আঞ্জাম দেয়া হয়, যদিও তা ভুলবশত: হয়ে থাতে তথাপিও নামায বাতিল হয়ে যাবে। অন্যান্য ওয়াজিব বিষয়গুলো, যদিও তা আঞ্জাম দেয়া আবশ্যক কিন্তু যদি ভূলবশত: তা আঞ্জামের ক্ষেত্রে বেশী অথবা কম আঞ্জাম দেয়া হয় তবে সেজন্য নামায বাতিল হয়ে যাবে না (তৌযিহুল মাসায়েল, মাসআলা নং-৯৪২)।

নামাযের ওয়াজিব বিষয়াবলীর আহ্‌কাম

নিয়ত: ১- একজন নামাযের নামায শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত অব্যশই মনে থাকা উচিৎ যে, সে কোন নামায পড়ছে এবং তা আল্লাহ্‌ তাবারাক ওয়া তা’আলার নির্দেশে আঞ্জাম দিচ্ছে (তৌযিহুল মাসায়েল, মাসআলা নং ৯৪৩ ও ৯৪৪)।

২- নিয়ত উচ্চারণ করে বলার প্রয়োজন নেই। তবে যদি তা উচ্চারণ করেও বলে তাতে কোন অসুবিধা নেই (তৌযিহুল মাসায়েল, মাসআলা নং ৯৪৩)।

৩- নামায অবশ্যই সকল ধরনের রিয়া অথবা লোক দেখানোর উদ্দেশ্য আওতাহীন হতে হবে; অর্থাৎ নামায শুধুমাত্র আল্লাহ্‌ তাবারাক ওয়া তা’আলার নির্দেশ পালনের নিমিত্তে আঞ্জাম দিয়ে হবে। আর যদি ওই নামায অথবা তার কোন একটি ক্ষুদ্রতম অংশও আল্লাহ্‌ তাবারাক ওয়া তা’আলা ব্যতীত অন্য কারো উদ্দেশ্যে পড়া হয় তবে তা বাতিল হয়ে যাবে (তৌযিহুল মাসায়েল, মাসআলা নং ৯৪৬-৯৪৭)।

৪- যদি নামাযি আল্লাহ্‌ তাবারাক ওয়া তা’আলার নির্দেশ পালন ছাড়াও নামায পড়ার ক্ষেত্রে অন্য উদ্দেশ্যও রেখে থাকে তবে তা তিনটি শর্তযুক্ত হলে অসুবিধা নেই। শর্ত তিনটি হচ্ছে যথা: - রিয়া অথবা লোক দেখানোর উদ্দেশ্য না থাকে। - আল্লাহ্‌ তাবারাক ওয়া তা’আলার নির্দেশ পালনটাই হচ্ছে মূল উদ্দেশ্য কিন্তু তার সাথে অন্য নিয়তও সংযুক্ত করা। - অন্য যে নিয়ত সংযুক্ত করবে তা যেন অবশ্যই মুবাহ্‌ অথভা নেক উদ্দেশ্য হয়। সুতরাং যদি আল্লাহ্‌ তাবারাক ওয়া তা’আলার নির্দেশ পালনের উদ্দেশ্যে নামায পড়ে সাথে সাথে সংযুক্ত নিয়ত হিসেবে ওই নামায পড়ার নিমিত্তে অন্যকে তা শিক্ষা দান করা, এক্ষেত্রে কোন অসুবিধা নেই (তাহ্‌রিরুল ওয়াসিলাহ্‌, খণ্ড -১, কিতাবুস সালাত, ফুসলু ফি আফয়া’লিস সালাত, পৃ. ১৫৭, মাসআলা নং ৩)।

নিয়ত পরিবর্তন করা

১- এক নামায থেকে অন্য নামাযে নিয়ত পরিবর্তন করা নিম্নলিখিত ক্ষেত্রসমূহে কোন অসুবিধা নেই যথা: - আসর নামাযের থেকে যোহ্‌রের নামাযে নিয়ত পরিবর্তন করা। এমনটাই যে, আসর নামায পড়ার মধ্যে বুঝতে পারে যে যোহ্‌র নামায পড়া হয় নি অথবা তা পড়া হয়েছে কিন্তু বাতিল হয়ে গেছে। সেক্ষেত্রে ওয়াজিব হচ্ছে নিয়ত পরিবর্তন করে যোহ্‌রের নামাযের নিয়ত করতে হবে। - আসরের কাযা নামায থেকে যোহ্‌রের কাযা নামাযে নিয়ত পরিবর্তন করা। - এ’শার নামায থেকে মাগরিবের নামাযে। - এ’শার কাযা নামায থেকে মাগরিবের কাযা নামাযে। - আদা নামায থেকে কাযা নামাযে। - জামায়া’তের নামায থেকে ফুরাদা নামাযে।

২- নিম্নলিখিত ক্ষেত্রসমূহে নিয়ত পরিবর্তন করা সঠিক নয় যথা: - যোহরের নামায থেকে আসরের নামাযে। - মাগরিবের নামায থেকে এ’শার নামাযে। - কাযা নামায থেকে আদা নামাযে। - ফুরাদ নামায থেকে জামায়া’তের নামাযে (সতর্কতামূলক ওয়াজিব)। - মুস্তাহাব নামায থেকে ওয়াজিব নামাযে। - এক মুস্তাহাব নামায থেকে অন্য এক মুস্তাহাব নামাযে। - ওয়াজিব নামায তেকে মুস্তাহাব নামাযে, তবে নিম্নলিখিত দু’টি ক্ষেত্রে সম্ভব যথা: জুময়া’র দিনে যোহরের ওয়াক্তে যে ব্যক্তি সূরা জুময়া’হ্‌ ভূলে গেছে এবং অন্য সূরা পড়তে শুরু করেছে আর তা অর্ধেক পড়াও হয়ে গেছে অথবা তারও একটু বেশী। ওয়াজিব নামায পড়ায় মশগুল রয়েছে এবং রুকুতে না যেয়ে থাকে ও তৃতীয় রাকায়া’ত না হয়ে থাকে, সাথে সাথে জামায়া’তের নামায শুরু হতে যাচ্ছে কিন্তু তার মনে ভয় রয়েছে যে, সে জামায়া’ত থেকে পিছনে থেকে যাবে (তাহ্‌রিরুল ওয়াসিলাহ্‌, খণ্ড-১, পৃ.-১৫৯, মাসআলা নং- ১২ ও ১৩, ফাসলু ফি সালাতিল জামায়া’হ্‌, পৃ.- ২৬৬, মাসআলা নং (৬ ও ৭ ।

তাকবিরাতুল ইহরাম

নামাযের প্রথম তাকবিরকে তাকবিরাতুল ইহরাম” বলা হয়। কেননা, এই তাকবিরের কারণেই অনেক কাজ যা নামাযের পূর্বে জায়েয ছিল কিন্তু বর্তমানে তা আঞ্জাম দেয়া নামাযের জন্য হারাম হয়ে গেছে। যেমন; খাওয়া ও পান করা, হাসি ও কান্না ইত্যাদি।

তাকবিরাতুল ইহরামের ওয়াজিব বিষয়াবলী

১- আরবী ভাষায় সঠিক উচ্চারণসহ বলতে হবে।

২- “আল্লাহু আকবার” বলার সময় সম্পূর্ণ শরীর স্থীর থাকতে হবে।

৩- তাকবিরাতুল ইহরাম এমনভাবে বলতে হবে যেন যদি কোন অন্তরায় না থাকে তবে নিজে তা শুনতে পায়। অর্থাৎ, অনেক আস্তে যেন বলা না হয়।

৪- সতর্কতামূলক ওয়াজিব হচ্ছে তাকবিরাতুল ইহরামকে অন্য কিছুর সাথে সংযুক্ত করে না বলা। অর্থাৎ তা বলার আগে যা বলছিল তা বলতে বলতেই তার সাথে সম্পৃক্ত করে এক সঙ্গে তাকবিরাতুল ইহরাম না বলা (তৌযিহুল মাসায়েল, মাসআলা নং ৯৪৮-৯৫২ )। তাকবিরাতুল ইহরাম ও নামাযের অন্যান্য তাকবির বলার ক্ষেত্রে মুস্তাহাব হচ্ছে হস্তদ্বয় কর্ণদ্বয়ের সমপরিমাণ উপরে ওঠানো (তৌযিহুল মাসায়েল, মাসআলা নং ৯৫৫)। কিয়াম কিয়াম অর্থাৎ দাড়ানো, যা কখনো কখনো নামাযে আরকান হিসেবে গন্য হয় এবং তা পরিহার করলে নামায বাতিল হয়ে যায়। কিন্তু যে সকল ব্যক্তি দাড়িয়ে নামায পড়তে পারে না তাদের দায়িত্ব ভিন্ন যা পরবর্তি মাসআলাগুলোতে আলোচিত হবে।

কিয়ামের আহ্‌কাম

১- তাকবিরাতুল ইহরাম বলার পূর্বে এবং পরে একটুখানি স্থির হয়ে দাড়ানো হচ্ছে ওয়াজিব। যাতে করে বিশ্বাস স্থাপন হয় যে, কিয়ামের অবস্থায় তাকবিরাতুল ইহরাম বলা হয়েছে (তৌযিহুল(তৌযিহুল মাসায়েল, মাসআলা নং ৯৫৯)।

২- রুকুর সাথে সংযুক্ত কিয়ামের অর্থ হচ্ছে যে, দাড়িয়ে থাকা অবস্থায় রুকুতে যাওয়া। সুতরাং যদি কেউ রুকু ভূলে যায় এবং কিরায়াতের পরে সিজদাহ্‌তে চলে যায় কিন্তু সিজদাহ্‌ দেয়ার পূর্বে তার স্মরণ হয় যে, সে রুকু আঞ্জাম দেয় নি সেক্ষেত্রে অবশ্যই সম্পূর্ণরূপে দাড়াবে এবং রুকু আঞ্জাম দিবে ও তারপর সিজদাহ্‌ দিবে (তৌযিহুল মাসায়েল, মাসআলা নং ৯৬০)।

৩- কিয়ামের অবস্থায় যে সকল বিষয়গুলো অবশ্যই পরিহার করতে হবে: - দেহ অস্থির রাখা। - যে কোন দিকে ঝুকে থাকা। - কোন কিছুর সাথে ওহেলান দিয়ে দাড়ানো। - দু’পায়ের মাঝে বেশী পরিমাণে ফাকা রাখা। - জমিন থেকে পা তুলে নেয় (তৌযিহুল মাসায়েল, মাসআলা নং ৯৬১-৯৬৪)।

৪- নামাযি অবশ্যই দাড়ানোর সময় তার দু’পা জামিনের উপর রাখবে, কিন্তু তার শরীরের সম্পূর্ণ ভার দু’পায়ে উপর দেয়ার প্রয়োজন নেই। কেননা এক পায়ের উপর তার সম্পূর্ণ শরীরের ভার দেয়াতে কোন অসুবিধা নেই (তৌযিহুল মাসায়েল, মাসআলা নং ৯৬৩)।

৫- মানুষ নামায পড়ার সময় যদি সমান্ন পরিমাণ আগে বা পিছে অথবা শরীরকে ডান অথবা বাম দিকে নাড়াতে চায় তবে সে সময় যেন কোন কিছু বলা থেকে বিরত থাকে (তৌযিহুল মাসায়েল, মাসআলা নং ৯৬৫)।

৬- সূরা হাম্‌দ পড়ার সময় হাত বা আঙ্গুল নাড়ানোতে কোন অসুবিধা নেই, যদিও সতর্কতামূলক মুস্তাহাব হচ্ছে তাও যেন না নাড়ায় (তৌযিহুল মাসায়েল, মাসআলা নং ৯৬৭)।

৭- সূরা হাম্‌দ ও অন্য সূরা অথবা তাসবিহাতে আরবায়া’ পড়ার সময় অনিচ্ছায় শরীর নাড়ে যায় যা শরীরকে স্থির অবস্থা থেকে বের করে আনে তবে সেক্ষেত্রে সতর্কতামূলক ওয়াজিব হচ্ছে শরীর অস্থির থাকার সময় যা কিছু পড়েছে, শরীর স্থির হবার পর ওই গুলো পুনরায় পড়া (তৌযিহুল মাসায়েল, মাসআলা নং ৯৬৮)।

৮- যে ব্যক্তির পক্ষে কোন ক্রমেই দাড়িয়ে নামায পড়া সম্ভব নয়, সে অবশ্যই কিবলা মুখি হয়ে বসে নামায পড়বে। আর যদি বসেও না পড়তে পারে তবে অবশ্যই শুয়ে নামায পড়বে (তৌযিহুল মাসায়েল, মাসআলা নং ৯৭০-৯৭১)।

৯- যে ব্যক্তি শুয়ে নামায পড়বে, অবশ্যই সে ডান পার্শ্বে ভার দিয়ে শুবে। আর যদি তা না পারে তবে বাম পার্শ্বে ভার দিয়ে শুবে। তাও যদি সম্ভব না হয় তবে চিৎ হয়ে শুবে যাতে করে তার পায়ের তলা কিবলা মুখি থাকে (প্রাগুক্ত ৯৭১)।

১০- ওয়াজিব হচ্ছে রুকুর পরে সম্পূর্ণরূপে দাড়ানো এবং তারপর সিজদাহ্‌তে যাওয়া। যদি এই কিয়াম ইচ্ছাকৃতভাবে বাদ দেয়া হয় তবে নামায বাতিল হয়ে যাবে (তাহ্‌রিরুল ওয়াসিলাহ্‌, খণ্ড-১, পৃ.- ১৬২, মাসআলা নং- ১, উরওয়াতুল উছকা, খণ্ড- ১, পৃ ৬৬৫)।