ইমাম মাহদী (আঃ) সম্পর্কে কোরআনের আয়াত

নাহাজুল বালাগায় হযরত আলী (আঃ)-এর পজ্ঞাপূর্ণ কথা- ২০৫ নম্বর এ আছে যে তিনি বলেন :“ পৃথিবী আমাদের দিকে বাকাঁ হয়ে আসবে অবাধ্য হওয়ার পর , যেভাবে কামড় দেয় এমন মাদী উট তার বাচ্চার দিকে বাকাঁ হয়।”

এটি একটি রূপক মন্তব্য। নবী (সাঃ)-এর সময় বাহ্যিক ও আধ্যাত্মিক অভিভাবকত্ব দু’ টোই ছিলো তার ঘরে। একইভাবে হযরত মাহদী (আঃ)- এর পুনরাগমনে সরকার ও আধ্যাত্মিক অভিভাবকত্ব দু’ টোই নেতার জন্য প্রস্তুত থাকবে।

এরপর তিনি এ আয়াত তেলাওয়াত করেন:

) وَنُرِ‌يدُ أَن نَّمُنَّ عَلَى الَّذِينَ اسْتُضْعِفُوا فِي الْأَرْ‌ضِ وَنَجْعَلَهُمْ أَئِمَّةً وَنَجْعَلَهُمُ الْوَارِ‌ثِينَ(

 

 “ এবং আমরা চাইলাম তাদের ওপর নেয়ামত দান করতে যাদেরকে পৃথিবীতে দূর্বল ভাবা হতো এবং তাদেরকে ইমাম বানাতে এবং তাদেরকে উত্তরাধিকারী বানাতে।” (সূরা ক্বাসাসঃ ০৫)

ইবনে আবিল হাদীদ মোতাযালী তার নাহজুল বালাগার ব্যাখ্যায় বলেন (পৃষ্ঠা ৩২৯ , খণ্ড-৪) :“ আমাদের সাথীরা বলেন যে এ আয়াতে আল্লাহ ইমাম ও নেতার কাছে ওয়াদা করেছেন যে সে পৃথিবীর দখল পাবে এবং সব জাতির উপর নিয়ন্ত্রণ লাভ করবে।”

আবু আব্দুল্লাহ নাইম ইবনে হেমাদ‘ ইকদুদ দুরার’ বইয়ের সপ্তম অধ্যায়ে বলেছেন :“ ইমাম আবু ইসহাক্ব সালবী ঐশীح م ع س ق বক্তব্যের তাফসীরে ইবনে আব্বাসের উদ্ধৃতি দিয়ে বলেছেন :ح ইঙ্গিত করে কুরাইশ ও দাসদের মধ্যে যুদ্ধের যেখানে কুরাইশরা বিজয়ী হবে ;م ইঙ্গিত করে বনি উমাইয়্যাদের রাজ্য ও সরকারের ;ع হচ্ছে বনি আব্বাসের মর্যাদা ও সম্মান ;س ইঙ্গিত করে মাহদী ( আঃ ) এর যুগ।ق ইঙ্গিত করে ঈসার নাম ও মাহদী ( আ ) এর আত্মপ্রকাশের সময়। লেখক বলেনس হচ্ছে মাহদী (আা .) এর উজ্জ্বলতা এবংق ঈসা ইবনে মরিয়মের ক্ষমতা।”

ইবনে হাজার তার সাওয়ায়েক্বের ১৬ পৃষ্ঠায় ব্যাখ্যা করেন এ কথার এভাবে :

) وَإِنَّهُ لَعِلْمٌ لِّلسَّاعَةِ(

 

 “ এবং সে ক্বিয়ামতের নিদর্শন” (সূরা যুখরুফঃ ৬১ )

 “ তাফসীরকারকদের মধ্যে মাক্বাতেল ইবনে সুলাইমান ও তার অনুসারীগণ বলেছেন যে এ আয়াত আল মাহদী (আঃ)- এর পক্ষে নাযিল হয়েছে।‘ ইসাফুর রাগেবীনের লেখক ১৫৬ তম পৃষ্ঠায় তাই লিখেছেন।”

 ‘ নুরুল আবসার’ - এর লেখক আবু আব্দুল্লাহ গাঞ্জি থেকে ২২৮ নং পৃষ্ঠায় বর্ণনা করেছেনঃ আল্লাহ বলেন:

) لِيُظْهِرَ‌هُ عَلَى الدِّينِ كُلِّهِ وَلَوْ كَرِ‌هَ الْمُشْرِ‌كُونَ(

 

 “যেন তা সব ধর্মের উপরে বিজয় লাভ করে , মুশরিকরা তা যতই অপছন্দ করুক।” (সূরা আস সাফ্ফঃ ০৯)

সাইয়্যেদ ইবনে জুবায়ের বলেন : “তা মাহদীর কথা বলে যিনি ফাতেমা (আঃ)- এর বংশধর , যিনি এ আয়াতের আদেশ বলে সব ধর্মের উপর বিজয় লাভ করবেন।”

ইয়ানাবিউল মুওয়াদ্দা’ -র ৪৪৩ পৃষ্ঠায় মানাক্বিবে খাওয়ারাযমী থেকে এবং তা জাবীর ইবনে আব্দুল্লাহ আনসারী থেকে এক দীর্ঘ ঘটনা বর্ণনা করেন , সেখানে একজন ইহুদী নবী (সাঃ)- এর কাছে আসে এবং তাকে বিভিন্ন প্রশ্ন জিজ্ঞাসা করে যার ফলে সে ইসলাম গ্রহণ করে। একটি প্রশ্ন সেই ইসলাম গ্রহণকারী জিজ্ঞেস করেছিলো নবী (সাঃ)-এর উত্তরাধীকারী সম্পর্কে এবং নবী (সাঃ) উত্তরে বলেছিলেন তারা সংখ্যায় বারোজন। তিনি নাম নিয়ে প্রত্যেককে গোনেন ইমাম হাসান আল আসকারী পর্যন্ত। এরপর তিনি বলেন :“ তার পর আসবে তার ছেলে মুহাম্মাদ যে পরিচিত হবে মাহদী , ক্বায়েম ও হুজ্জাত নামে। এরপর সে কিছু সময়ের জন্য লোকচক্ষুর আড়ালে যাবে এবং আবার উপস্থিত হবে এবং যখন সে তা করবে সে পৃথিবীকে ইনসাফ ও ন্যায়বিচারে পূর্ণ করে দিবে। কারণ ততদিনে পৃথিবী নিষ্ঠুরতায় ও নিপীড়নে পূর্ণ হয়ে যাবে।

রহমতপ্রাপ্ত তারা যারা তার অন্তরালে যাওয়ার সময়টিতে ধৈর্য ধরবে এবং রহমতপ্রাপ্ত তারা যারা তাঁর প্রতি ভালোবাসায় দৃঢ় থাকবে। তারাই হলো ওরা যাদেরকে আল্লাহ তাঁর কিতাবে প্রশংসা করেছেন এভাবে:

) وَالَّذِينَ يُؤْمِنُونَ بِمَا أُنزِلَ إِلَيْكَ وَمَا أُنزِلَ مِن قَبْلِكَ وَبِالْآخِرَ‌ةِ هُمْ يُوقِنُونَ(

 

যারা অদৃশ্যে বিশ্বাস করে (যেমন মাহদীর অর্ন্তধান) এবং নামাজ ক্বায়েম করে এবং আমরা যে রিয্ক দিয়েছি তা থেকে ব্যায় (সূরা বাক্বারাঃ ০৩)

আল্লাহ আরো বলেন :

) أُولَـٰئِكَ حِزْبُ اللَّـهِ أَلَا إِنَّ حِزْبَ اللَّـهِ هُمُ الْمُفْلِحُونَ(

 

 তারাই হলো আল্লাহর দল; জেনো যে আল্লাহর দলই সফলতা লাভ করবে। (সূরা মুজাদিলাঃ ২২ )

(হাদীসটি এখানে শেষ । )

উপরোক্ত বইয়ের ৪৪৮ পৃষ্ঠায় তিনি ‘ফারায়েদুস সিমতাইন’ বই থেকে একটি হাদীস উল্লেখ করেছেন যা হাসান ইবনে খালিদ বর্ণনা করেছেন আবু হাসান আলী ইবনে মুসা রেযা (আঃ) থেকে মাহদী (আঃ) সম্পর্কে। যেখানে তিনি উল্লেখ করেছেন তিনি হবেন তার বংশ থেকে চতুর্থ এবং যখন তিনি পুনরায় আগমন করবেন পৃথিবী ঐশী আলোতে ঢেকে যাবে। এরপর ইমাম বলতে লাগলেন: সে-ই ঐ ব্যক্তি যার পুনরাগমন আকাশ থেকে এক আহবানকারীর আহবানের সময়ের সাথে মিলে যাবে, তা এমন হবে যে পৃথিবীর সব অধিবাসী তার এ চীৎকার শুনবে- “জেনো যে আল্লাহর হুজ্জাত (প্রমাণ) আল্লাহর ঘরের কাছে আত্মপ্রকাশ করেছে, তাই তাকে অনুসরণ করো। কারণ সত্য তার ভেতরে আছে এবং তার সাথে আছে।” আল্লাহর কথাও তাই বলেঃ

) إِن نَّشَأْ نُنَزِّلْ عَلَيْهِم مِّنَ السَّمَاءِ آيَةً فَظَلَّتْ أَعْنَاقُهُمْ لَهَا خَاضِعِينَ(

 

 “আমরা যদি চাই , আমরা তাদের ওপর এক নিদর্শন পাঠাবো আকাশ থেকে , যেন তাদের ঘাড় এর দিকে নীচু হয়।” (সূরা শু’ আরাঃ ০৪ )

নিশাবুরী তার তাফসীরে (খণ্ড-১) এ আয়াতের ব্যাখ্যায় বলেনঃ শিয়াদের কেউ কেউ বিশ্বাস করেন “অদৃশ্য” এ আয়াতে মাহদীকে (আঃ) ইঙ্গিত করে , যার প্রতীক্ষা করা হচ্ছে। যার সম্পর্কে আল্লাহ তার কিতাবে এরকম ওয়াদা করেছেন :

) وَعَدَ اللَّـهُ الَّذِينَ آمَنُوا مِنكُمْ وَعَمِلُوا الصَّالِحَاتِ لَيَسْتَخْلِفَنَّهُمْ فِي الْأَرْ‌ضِ(

 

 “ আল্লাহ তোমাদের মধ্যে যারা বিশ্বাস করে এবং ভালো কাজ করে তাদেরকে ওয়াদা করেছেন যে তিনি অবশ্যই তাদেরকে পৃথিবীর শাসক বানাবেন।” (সূরা নূ রঃ ৫৫)

এছাড়া , তার সম্পর্কে নবী (সাঃ) বলেছেন :

 “ যদি পৃথিবীর জীবন এক দিনের বেশী অবশিষ্ট না থাকে সর্বশক্তিমান আল্লাহ সেদিনকে এত লম্বা করে দেবেন যতক্ষণ পর্যন্ত না এক ব্যক্তি আমার বংশধর থেকে আসবে যে আমার নামে নাম বহন করবে এবং পৃথিবীকে ন্যায়বিচার দিয়ে পূর্ণ করে দিবে ঠিক বিপরীতভাবে যেভাবে তা অবিচার ও নিপীড়নে পূর্ণ হয়ে গিয়েছিলো।”

নিশাবুরী আরো বলেন :

 “ আহলে সূন্নাতের মত অনুযায়ী উপরোক্ত আয়াত‘ খোলাফায়ে রাশেদীনের’ ইমামত সম্পর্কে ইঙ্গিত করে। কারণ শব্দটি পবিত্র আয়াতে‘ অংশ’ ইঙ্গিত করে এবং যখন সম্বোধন করা হবে এ‘ অংশ’ -র জন্য উপস্থিত থাকা জরুরী । এছাড়া এটি সবাই জানে যে চার খলিফা (আবু বকর , উমর , উসমান এবং আলী) বিশ্বাসী ও নৈতিকগুণ সম্পন্ন ছিলেন এবং তারা তখন উপস্থিত ছিলেন। পরিণতিতে খিলাফত ও বিজয় তাদের জন্য নিশ্চিত ছিলো। তাই এটি বলা প্রয়োজন যে এ আয়াত তাদেরকেই ইঙ্গিত করে।”

এরপর তিনি বলেন :

 “ একদল তাদের ( উপরোক্ত অভিমতের ) বিরুদ্ধে গিয়েছেন এ যুক্তি দিয়ে যেمن ‘ শব্দটি’ প্রকাশ করা অর্থে ধরা অনুমোদন যোগ্য নয়। তারা বলেন পৃথিবীর উত্তরাধিকারী হওয়া অর্থ এর দখল ও এর ওপরে অধিপত্য যেমন তা হয়েছিলো বনি ইসরাইলীদের ক্ষেত্রে।”

তিনি আরো বলেন : “চলুন আমরাمن শব্দটির অর্থ“ অংশ” -ই গ্রহণ করি, কিন্তু কিসের ভিত্তিতে তা অনুমোদনযোগ্য হবে না যদি‘ অংশ’ বলতে আলীর খেলাফত বোঝায় এবং ধরুনمن এখানে বহুবচনে ধরা হয়েছে শুধু আলীর সম্মান ও বিরাট মর্যাদা দেখানোর জন্য অথবা হযরতের প্রতি ও তার পরে তার এগারোজন সন্তানের প্রতি ইঙ্গিত করার জন্য।”

সূত্র: http://alhassanain.org/bengali/?com=book&id=58