ইসতিহাযা

অনুবাদ: আলহাজ্জ ড. মো. সামিউল হক

মহিলাদের যেসব রক্তস্রাব হয়ে থাকে তারই এক প্রকার রক্তের নাম ইসতিহাযা। আর সেই রক্তস্রাবের সময় উক্ত মহিলাকে মোস্তাহাযাহ বলা হয়।

মাসআলা: ৩৯০- ইসতিহাযার রক্ত অধিকাংশ সময় হলুদ রংয়ের ও ঠান্ডা হয়ে থাকে এবং জ্বলাপোড়া ছাড়াই আসে। আর তা খুব গাঢ় হয় না; কিন্তু তথাপি কখনও কাল বা লাল, গরম ও গাঢ় এবং জ্বলনসহ আসতে পারে।

মাসআলা: ৩৮১- ইসতিহাযার রক্ত তিন প্রকারের : ১। স্বল্প ২। মাঝারি পরিমাণ ও ৩। অধিক পরিমাণ।

স্বল্প পরিমাণ ইসতিহাযা : স্বল্প পরিমাণ ইসতিহাযা এমন রক্তকে বলা হয় যখন স্ত্রীলোকেরা  নিজ লজ্জাস্থানে তুলা বা অনুরূপ কিছু রাখলে সে রক্ত শুধু তুলার বহিরাংশে লাগে এবং তুলার ভিতরে আসে না।

মাঝারি পরিমাণ ইসতিহাযা : তখন লজ্জাস্থানে রাখা তুলাতে রক্ত প্রবেশ করে ভিতরে যাবে, কিন্তু অপর প্রানত্ম দিয়ে বেরুবে না।

অধিক পরিমাণ ইসতিহাযা : সে তুলাতে রক্ত প্রবেশ করে অপর প্রানত্ম দিয়ে বের হবে এবং তার উপরের ঢাকনা বা পেন্টিকে স্পর্শ করবে।

ইসতিহাযার আহকাম

মাসআলা: ৩৯২- স্বল্প পরিমাণ ইসতিহাযার রক্ত যাদের থেকে নির্গত হয় সেসব নারীকে প্রত্যেক ওয়াজিব ও মুস্তাহাব  নামাযের জন্য পৃথক অযু করতে হবে। এহতিয়াতে মুস্তাহাব  হল, তার সাথে সাথে তুলাও বদল করতে হবে। আর যদি তার লজ্জাস্থানের বাইরে পর্যনত্ম এসে রক্ত লেগে যায় তাহলে তাও প্রত্যেক নামাযের জন্য ধৌত করতে হবে।

মাসআলা: ৩৯৩- মাঝারি পর্যায়ের মুস্তাহাযাহ নারীগণ সারাদিনের নামাযের জন্য একটি গোসল এবং স্বল্প পরিমাণ ইসতিহাযার জন্য যা করণীয় তাও করতে হবে। ঐ রক্ত যখনই আসুক এবং যতক্ষণই থাকুক এই নিয়মের পরিবর্তন হবে না। অতএব কোন মহিলা যদি ফজরের আগে মাঝারি পর্যাযের মুস্তাহাযাহ হয়, তবে ফজর নামাযের আগেই গোসল করতে হবে, যদি ইচ্ছাকৃতভাবে বা ভুলে গিয়ে তখন গোসল করা না হয়, তবে যোহর ও আসর নামাযের আগে গোসল করতে হবে; আর যদি ইচ্ছাকৃতভাবে বা ভুলে গিয়ে তখনও গোসল করা না হয়, তবে মাগরিব ও এশা নামাযের আগে গোসল করতে হবে।

মাসআলা: ৩৯৪- অধিক পরিমাণ ইসতিহাযার রক্ত যাদের নির্গত হয় তাদেরকে স্বল্প ও মাঝারি রক্তধারী নারীদের সব কর্ম আঞ্জাম দিতে হবে এবং যে পট্টিতে রক্ত লেগেছে তা প্রত্যেক নামাযের সময় বদল করতে হবে অথবা সেটাই পুনরায় পাক করে বাঁধতে হবে। আর যদি যোহর ও আসর নামায একসাথে পড়া হয়, তবে প্রত্যেক যোহর ও আসরের নামাযের জন্য একবার গোসল করতে হবে; আর যদি আসরের নামায যোহরের অনেক পরে পড়া হয়, তাহলে প্রত্যেক নামাযের জন্য আলাদা গোসল করতে হবে। অনুরূপভাবে মাগরিব ও এশার নামাযের জন্যও একই হুকুম। অবশ্য উভয় নামাযকে যদি দেরীতে পড়া হয় কিন্তু তার মাঝে রক্ত দেখা না যায়, তাহলে একবার গোসল করলেই যথেষ্ট এমনকি কয়েকটি নামাযের মাঝেও (যেমন : যোহর, আসর, মাগরিব ও এশা ইত্যাদি) যদি রক্ত দেখা না যায় তবে নতুন করে গোসল করার প্রয়োজন হবে না। আর অধিক পরিমাণ ইসতিহাযার রক্ত যাদের নির্গত হয় তাদের ক্ষেত্রে নামাযের জন্য অযু করার প্রয়োজন নেই; অর্থাৎ গোসলই যথেষ্ট।

মাসআলা: ৩৯৫- ইসতিহাযার রক্ত যদি নামাযের সময় হবার আগেই শেষ (বন্ধ) হয়ে যায়, তাহলেও সে নামাযের জন্য ইসতিহাযার আহকাম মেনে চলতে হবে অর্থাৎ সে নামায পড়ার জন্য অযু বা গোসল করতে হবে।

মাসআলা: ৩৯৬- এহতিয়াতে ওয়াজিবের ভিত্তিতে মাঝারি পর্যায়ের মোস্তাহাযা মহিলা প্রথমে গোসল করবে এবং পরে অযু করবে। কিন্তু বেশি পরিমাণ মোস্তাহাযা মহিলা যদি অযু করতে চায় তাহলে গোসলের আগে অযু করতে হবে।

মাসআলা: ৩৯৭- কোন অল্প পরিমাণ মোস্তাহাযা মহিলা যদি ফজর নামাযের পর মাঝারি পরিমাণে হয়ে যায় তখন তার উচিত হবে যোহর ও আসর নামাযের জন্য গোসল করা। আর যদি যোহর ও আসর নামাযের পর ¯^í রক্ত মাঝারি পরিমাণ হয়ে যায় তাহলে মাগরিব ও এশা নামাযের জন্য গোসল করতে হবে।

মাসআলা: ৩৯৮- স্বল্প বা মাঝারি পরিমাণ মোসত্মহাযা যদি ফজর নামাযের পর অধিক পরিমাণে হয়ে যায় এবং তা স্থায়ী হয়, তাহলে পরবর্তী নামাযের জন্য তার উপর ৩৯৪ নং মাসআলার হুকুম বলবৎ হবে।

মাসআলা: ৩৯৯- যোহর ও আসর এবং মাগরিব ও এশা নামায যদি একত্রে পড়া হয়, তাহলে অধিক মাত্রায় মোস্তাহাযার জন্য দু’টি করে নামাযের জন্য একটি করে গোসল কারলেই যথেষ্ট; কিন্তু যদি আলাদা আলাদাভাবে পড়া হয়, তাহলে প্রত্যেক নামাযের জন্য গোসল করতে হবে।

মাসআলা: ৪০০- স্বল্প পরিমাণ মোস্তাহাযার হুকুম এহতিয়াতমূলক নামায, ভুলে যাওয়া সেজদা ও তাশাহুদের (যদি অনতিবিলম্বে দিয়ে থাকে তাহলে অযু করার দরকার নেই) জন্যও প্রযোজ্য হবে, সেই নামাযের অযু দিয়েই তা পালন করতে পারবে। সাহু সেজদার জন্যও একই হুকুম; কিন্তু অন্যান্য নামায বা পুনরাবৃত্তিমূলক নামাযের জন্য অযু পুনরাবৃত্তি করতে হবে।

মাসআলা: ৪০১- ইসতিহাযার রক্ত থেমে যাবার পর শুধু এক নামাযের জন্য ইসতিহাযার আহকামের উপর আমল করতে হবে; তারপর আর প্রয়োজন নেই। অতএব যদি যোহরের নামাযের পূর্বে রক্ত থেমে যায় তাহলে কেবল যোহরের নামাযের জন্যই গোসল বা অযু করতে হবে। অবশিষ্ট নামায সমূহ সাধারণ নিয়ম মোতাবেক আমল করতে হবে।

মাসআলা: ৪০২- যদি কোন  মহিলা জানতে বা বুঝতে না পারে যে, কোন প্রকারের ইসতিহাযার রক্ত তার আসছে, তাহলে তার জন্য ওয়াজিব হচ্ছে নামাযের সময় হবার পর অল্প পরিমাণ তুলা লজ্জাস্থানে রেখে দিয়ে কিছুক্ষণ অপেড়্গা করবে; অতঃপর তা বের করে দেখবে যে, ইসতিহাযার উল্লে­খিত প্রকারগুলোর মধ্যে কোনটি। আর যদি সে নিশ্চিত থাকে যে, তার অবস্থা অ থাকবে, তাহলে নামাযের সময় হবার আগেও সে কাজ করতে পারবে।

মাসআলা: ৪০৩- মোস্তাহাযা নারী তার উপর করণীয় আমল করার পর নতুন করে অনুসন্ধান করার আগেই যদি আলস্নাহর নৈকট্য হাসিলের উদ্দেশ্যে নিয়তের মাধ্যমে নামায শুরু করে, তাহলে তার নামায সঠিক হবে। নতুবা তার নামায বাতিল হয়ে যাবে।

মাসআলা: ৪০৪- মোস্তাহাযা নারী যদি অনুসন্ধান করতে সক্ষম না হয়, তাহলে তার জানামত করণীয় আমল করলেই যথেষ্ট। যেমন  : যদি ইতোপূর্বে তার অল্প পরিমাণ ইসিত্মহাযা ছিল এখন তার মাঝারি পর্যায়ে পরিণত হয়েছে না বেশি পরিমাণে, তবে অল্প পরিমাণ ইসিত্মহাযার করণীয় পালন করতে হবে।

মাসআলা: ৪০৫- প্রথম অবস্থায় কোন মহিলার ইসতিহাযার রক্ত যদি লজ্জাঙ্গের ভিতর থেকে বের না হয়, তাহলে সে মহিলার অযু বা গোসল বাতিল হবে না। কিন্তু যদি বের হয় এবং তা যত কম পরিমাণই হোক না কেন অযু বা গোসল বাতিল হয়ে যাবে।

মাসআলা: ৪০৬- মোস্তাহাযা নারী নামাযের পর যদি অনুসন্ধান করে দেখে যে, কোন রক্ত নেই; তাহলে নতুন করে রক্ত আসার আগ পর্যনত্ম পূর্বের অযু দিয়ে নামায পড়তে পারবে। যদিও জানা থাকে যে, পরে রক্ত আসবে।

মাসআলা: ৪০৭- অযু বা গোসল করার পর মোস্তাহাযা নারীকে অনতিবিলম্বে নামায পড়া আবশ্যক নয় বরং যতক্ষণ পর্যনত্ম নিশ্চিত থাকবে যে, নতুন করে রক্ত বেরুবে না, ততক্ষণ পর্যনত্ম দেরি করে নামায পড়লেও কোন শরিয়তি বিধানে অসুবিধা নেই।

মাসআলা: ৪০৮- যদি কোন মোস্তাহাযা স্ত্রী লোকের জানা থাকে যে, নামাযের সময় শেষ হবার আগেই তার রক্ত আসা একেবারে বন্ধ হয়ে যাবে অথবা শুধুমাত্র নামাযের ওয়াজিব অংশগুলো আদায় করার সময়কালের জন্য রক্ত থেমে যাবে, তাহলে তার জন্য এহতিয়াতে ওয়াজিবের ভিত্তিতে কর্তব্য হচ্ছে যে, সে অপেক্ষা করবে এবং সেরূপ সময় ঘনিয়ে আসলে নামায আদায় করবে।

মাসআলা: ৪০৯- যদি কোন মোস্তাহাযা স্ত্রী লোকের জানা থাকে যে, নামাযের সময় শেষ হবার আগেই তার রক্ত আসা একেবারে বন্ধ হয়ে যাবে অথবা অযু বা গোসলসহ নামাযের ওয়াজিব অংশগুলো আদায় করার সময়কালের জন্য রক্ত থেমে যাবে, তাহলে তার জন্য এহতিয়াতে ওয়াজিবের ভিত্তিতে কর্তব্য হচ্ছে যে, সে অপেক্ষা করবে এবং ঐ সময়ে নামায আদায় করবে। আর যদি তখন নামাযের সময় এতটাই সংকীর্ণ হয়ে যায় যে, অযু বা গোসল করার সময় হাতে নেই তাহলে পূর্বের অযু বা গোসলেই নামায পড়তে হবে।

মাসআলা: ৪১০- অধিক পরিমাণ মোস্তাহাযা নারীর রক্তস্রাব সম্পূর্ণরূপে বন্ধ হয়ে গেলে নামাযের উদ্দেশ্যে গোসল শুরু করার পর যদি পুনরায় রক্ত বের না হয়, তাহলে নতুন করে গোসল করার প্রয়োজন নেই; নতুবা গোসল করতে হবে। আর মাঝারি পর্যায়ের মোস্তাহাযা নারীর রক্তস্রাব বন্ধ হয়ে যাবার পর গোসল করার প্রয়োজন নেই।

মাসআলা: ৪১১- কম পরিমাণ মোস্তাহাযা নারী অযু করার পর, মাঝারি পরিমাণ মোস্তাহাযা নারী গোসল ও অযু করার পর এবং অধিক পরিমাণ মোস্তাহাযা নারী গোসল করার পর অনতিবিলম্বে নামায পড়া উচিত; তবে ৩৯৪ ও ৪০৭ নং মাসআলায় বর্ণিত মহিলার জন্য তা জরুরী নয়। কিন্তু নামাযের আগে আজান ও একামত বলাতে (যে সময় ব্যয় হয় তাতে) অসুবিধা নেই; অনুরূপভাবে নামাযের মুস্তাহাব আমল পালন করতেও শরিয়তি বিধানে অসুবিধা নেই।

মাসআলা: ৪১২- মোসত্মাযাহাহ নারীর যদি করণীয় এমন হয় যে, সে গোসল বা অযু করার পর অনতিবিলম্বে নামায পড়বে, কিন্তু তার করণীয় যদি পালন না করে; তাহলে নতুন করে গোসল বা অযু করে নামায পড়তে হবে।

মাসআলা: ৪১৩- মোস্তাহাযা নারীর রক্তস্রাব যদি অনবরত হতে থাকে এবং বন্ধ না হয়, তখন যদি তার ক্ষতি না হয়; তাহলে এহতিয়াতে ওয়াজিব হল, সে গোসলের পূর্বে (কোনভাবে) রক্তস্রাব বন্ধ করবে। আর যদি তাতে অবহেলা করার কারণে রক্ত বের হয় এবং সে অবস্থায় নামায পড়ে; তাহলে পুরনায় সে নামায পড়তে হবে; বরং এহতিয়াতে মুস্তাহাব  হল, পুনরায় গোসল করে নামায পড়তে হবে।

মাসআলা: ৪১৪- গোসলের মধ্যে যদি রক্তস্রাব বন্ধ না হয়, তাহলে গোসল সহীহ; কিন্তু গোসলের মাঝখানে যদি মাঝারি পর্যায়ের ইসতিহাযা অধিক পরিমাণে হয়ে যায়; তাহলে নতুন করে গোসল শুরু করতে হবে।

মাসআলা: ৪১৫- মোস্তাহাযা নারীকে ফরজ রোযা রাখতে হবে; আর রোযা থাকা অবস্থায় এহতিয়াতে মুস্তাহাবের ভিত্তিতে যতক্ষণ সম্ভব রক্তস্রাব বন্ধ রাখতে হবে।

মাসআলা: ৪১৬- মশহুর ফতোয়ার ভিত্তিতে অধিক পরিমাণে মোস্তাহাযা নারীর রোযা সহীহ হবার জন্য আগের দিনের মাগরিব ও এশা নামাযের আগে থেকে নিয়মিত নামাযের জন্য গোসল করতে হবে। তবে গোসল ছাড়াও রোযা সহীহ হবার সম্ভাবনা রয়েছে; ঠিক যেমন মাঝারি পর্যায়ের মোস্তাহাযা নারীর জন্য শক্তিশালী ফতোয়ার ভিত্তিতে গোসল করার শর্ত নেই।

মাসআলা: ৪১৭- আসর নামাযের পরে কেউ যদি মোস্তাহাযা হয়, তাহলে মাগরিবের আগে গোসল না করলেও রোযার কোন অসুবিধা নেই অর্থাৎ তার রোযা সহীহ হবে।

মাসআলা: ৪১৮- প্রত্যেক নামাযের পূর্বে মোস্তাহাযা মহিলার যে অবস্থা সর্বানেত্ম দেখা দেবে সে মোতাবেক আমল করতে হবে। যেমন যদি কম পর্যায় থেকে মাঝারি বা বেশি পর্যায়ে যায় তাহলে মাঝারি বা বেশি পর্যায় মোতাবেক আমল করে নামায পড়তে হবে।

মাসআলা: ৪১৯- নামাযের মাঝখানে যদি মাঝারি পর্যায়ের ইসতিহাযা বৃদ্ধি পেয়ে অধিক পরিমাণে হয়, তাহলে নামায ছেড়ে দিয়ে নতুন অবস্থার পেড়্গিতে আমল করে (অর্থাৎ অযু ও গোসল করে) তারপর নামায পড়তে হবে। কিন্তু যদি নামাযের সময় সংকীর্ণ হবার কারণে গোসল করা না যায়, তাহলে তার পরিবর্তে তায়াম্মুম করতে হবে; যদি তায়াম্মুমের সময় না থাকে তাহলে সে অবস্থাতেই নামায পড়তে হবে (অর্থাৎ নামায ছেড়ে দেয়া যাবে না); তবে এ ক্ষেত্রে নামাযের সময় শেষ হবার পরে উক্ত নামাযের কাযা আদায় করতে হবে। একইভাবে নামাযের মাঝখানে যদি স্বল্প পর্যায়ের ইসতিহাযা বৃদ্ধি পেয়ে মাঝারি বা বেশি পরিমাণে হয়, তাহলে নামায ছেড়ে দিয়ে নতুন অবস্থার পেড়্গিতে আমল করে তারপর নামায পড়তে হবে। 

মাসআলা: ৪২০- নামাযের মাঝখানে রক্তস্রাব বন্ধ হয়ে যাবার পর মোস্তাহাযা যদি বুঝতে না পারে যে, (লজ্জাঙ্গের) ভিতরে রক্তস্রাব বন্ধ হয়েছে, নাকি হয় নি এবং পবিত্রতা অর্জন ও নামাযের সময় অবশিষ্ট থাকবে কিনা; এসব ক্ষেত্রে এহতিয়াতে ওয়াজিব হল, কর্তব্য অনুসারে ঐ মহিলা অযু বা গোসল করে পুনরায় নামায পড়বে।

মাসআলা: ৪২১- কোন মহিলার বেশি পরিমাণ ইসিত্মহাযা থেকে যদি পরিবর্তন হয়ে মাঝারি পর্যায়ে আসে, তাহলে শুধু প্রথম নামাযের জন্য বেশি পরিমাণ ইসিত্মহাযার আমল করতে হবে এবং পরবর্তী নামাযের জন্য মাঝারি পর্যায়ের ইসিত্মহাযার নিয়মানুসারে আমল করতে হবে। কিন্তু যদি তার পরবর্তী প্রথম নামাযের জন্য বেশি পরিমাণ ইসিত্মহাযার আমল অর্থাৎ গোসল না করে থাকে, তবে তার পরবর্তী নামাযের জন্য গোসল করতে হবে; এভাবে তা চলতে থাকবে অর্থাৎ দু’টি বা তিনটি নামাযের জন্য গাসল না করে থাকলেও তার পরবর্তী নামাযের জন্য অর্থাৎ তৃতীয় বা চতূর্থ নামাযের জন্য গোসল করতে হবে।

মাসআলা: ৪২২- প্রত্যেক নামাযের পূর্বে যদি বেশি পরিমাণ মোস্তাহাযার রক্তস্রাব বন্ধ হয় ও পুনরায় আসে, তাহলে প্রত্যেক নামাযের জন্যই সতন্ত্র গোসল করতে হবে।

মাসআলা: ৪২৩- কোন মহিলার বেশি পরিমাণ ইসিত্মহাযা যদি পরিবর্তন হয়ে স্বল্প পরিমাণ হয়, তবে শুধু প্রথম নামাযের জন্য বেশি পরিমাণ ইসিত্মহাযার আমল করতে হবে এবং পরবর্তী নামাযের জন্য কম পরিমাণ ইসিত্মহাযার নিয়মানুসারে আমল করতে হবে। অনুরূপভাবে কোন মহিলার মাঝারি পরিমাণ ইসিত্মহাযা যদি পরিবর্তন হয়ে স্বল্প পরিমাণ হয়, তবে শুধু প্রথম নামাযের জন্য মাঝারি পরিমাণ ইসিত্মহাযার আমল করতে হবে এবং পরবর্তী নামাযের জন্য কম পরিমাণ ইসিত্মহাযার নিয়মানুসারে আমল করতে হবে।

মাসআলা: ৪২৪- মোস্তাহাযা মহিলা যেকোন একটি ওয়াজিব করণীয় তরক করলে (বাদ দিলে) তার নামায বাতিল বলে গণ্য হবে।

মাসআলা: ৪২৫- কম বা মাঝারি ধরণের মোস্তাহাযা মহিলা যদি নামাযের বাইরে অন্য কোন কাজ করতে চায় যার শর্ত হল, অযু করা; তাহলে এহতিয়াতে ওয়াজিবের ভিত্তিতে তার জন্য নতুন করে অযু করতে হবে। নামাযের জন্য করা অযু তার জন্য যথেষ্ট নয়; যদিও নামাযের পরপরই তা করে থাকে।

মাসআলা: ৪২৬- মোস্তাহাযা নারী ওয়াজিব গোসল করার পর মসজিদে প্রবেশ করা, সেজদার আয়াত তেলাওয়াত করা, স্বামীর সাথে সহবাস করা ইত্যাদি হালাল; অনুরূপভাবে সে অবস্থায় নামাযের জন্য প্রয়োজনীয় অন্যান্য যেসব কর্তব্য পালন করা আবশ্যক নয়। যেমন তুলা বা প্যাড পাল্টানোর প্রয়োজন নেই; বরং গোসল না করেও উপরোক্ত কাজ সমূহ করা যেতে পারে। তবে এহতিয়াতে ওয়াজিবের ভিত্তিতে গোসল না করে স্বামীর সাথে সহবাস করা জায়েয নেই।

মাসআলা: ৪২৭- অধিক বা মাঝারি পর্যায়ের মোস্তাহাযা নারী যদি নামাযের সময়ের পূর্বে সেজদার আয়াত তেলাওয়াত করতে চায় বা মসজিদে প্রবেশ করতে চায় অথবা স্বামীর সাথে সহবাস করতে চায়; তাহলে এহতিয়াতে মুস্তাহাব  হল, সেসবের পূর্বে গোসল করতে হবে।

মাসআলা: ৪২৮- মোস্তাহাযার জন্য নিদর্শণের নামায ওয়াজিব এবং সেজন্য তার উপর দৈনন্দিন নামাযের সকল হুকুম বলবৎ হবে।

মাসআলা: ৪২৯- মোস্তাহাযা নারীর দৈনন্দিন নামাযের সময় হবার সাথে সাথে নিদর্শণের নামায ওয়াজিব হলেও এহতিয়াতে ওয়াজিবের ভিত্তিতে সে এক গোসল বা অযু দিয়ে উভয় নামায আদায় করতে পারবে না।

মাসআলা: ৪৩০- মোস্তাহাযা নারী যদি কাযা নামায আদায় করতে চায়, তাহলে দৈনন্দিন নামাযের মতই সকল করণীয় পৃথকভাবে পালন করতে হবে; এহতিয়াতের ভিত্তিতে দৈনন্দিনের (আদা) নামাযের জন্য করা অযু বা গোসল দিয়ে কাযা নামায আদায় করা যাবে না।

মাসআলা: ৪৩১- কোন মহিলা যদি বুঝতে পারে যে, তার ভিতর থেকে বের হওয়া রক্ত জখমের রক্ত নয়, কিন্তু তা সনাক্ত করতে সক্ষম নয় যে, তা হায়েজ, নিফাস বা ইসতিহাযার কোনটি; যদি তখন শরিয়তি হায়েয ও নিফাসের হুকুম সে না জেনে থাকে, তাহলে তাকে ইসতিযাহার নিয়ম পালন করতে হবে; তবে শর্ত হল, হায়েজ ও নিফাসের আলামত সম্পর্কে সে তখনো অবগত হয় নি বা জানে না; এমনকি সে যদি সন্দেহ করে যে, তা ইসিত্মহাযাব না অন্য কোন রক্ত তবুও এহতিয়াতে ওয়াজিবের ভিত্তিতে ইসতিহাযার নিয়ম পালন করতে হবে।