নবী (স.) ও আহলে বাইত (আ.)'দের বানীতে ইমাম হোসাইন

 ১-হাদীসে কুদসী :

إِنِّی أَنَا اللَّهُ لَا إِلَهَ إِلَّا أَنَا ... فَجَعَلْتُ حَسَناً مَعْدِنَ عِلْمِی بَعْدَ انْقِضَاءِ مُدَّةِ أَبِیهِ وَ جَعَلْتُ حُسَیْناً خَازِنَ وَحْیِی وَ أَكْرَمْتُهُ بِالشَّهَادَةِ وَ خَتَمْتُ لَهُ بِالسَّعَادَةِ فَهُوَ أَفْضَلُ مَنِ اسْتُشْهِدَ وَ أَرْفَعُ الشُّهَدَاءِ دَرَجَةً جَعَلْتُ كَلِمَتِیَ التَّامَّةَ مَعَهُ وَ حُجَّتِیَ الْبَالِغَةَ عِنْدَهُ بِعِتْرَتِهِ أُثِیبُ وَ أُعَاقِبُ

... আমি আল্লাহ হোসাইনকে ওহীভান্ডারের রক্ষক মনোনীত করেছি এবং তাকে শাহাদাতের মাধ্যমে সম্মান প্রদান করেছি। আর তার শেষ পরিণতিকে চরম সফল্যমন্ডিত করেছি। তাই সে–ই হল শহীদদের শিরোমণি এবং সকলের শীর্ষে তার অবস্থান । আমি আমার র্পূণ কালিমাকে তার সাথে রেখেছি এবং আমার র্পূণনিদর্শনকেও (ইমামতের ধারা) তাঁর বংশধারায় স্থাপন করেছি। আর তার বংশধারার মাধ্যমেই মানুষের প্রতিদান ও শাস্তি প্রদান করব। (উসুল আল কাফী, খন্ড ২, পৃ. ৪৭২, মাযাআ ফি ইসনা আশার ওয়ান নাস্ আলাইহা অধ্যায়, হাদীস নং ৩।)

 ২- মহানবী (স.) বলেছেন:

إنّ لِقَتلِ الحُسينِ حَرارَةً في‌ قُلوبِ المُؤمِنينَ لاتَبرُدُ اَبَداً.

নি:সন্দেহে হোসেনের (আ.) শাহাদাত মুমিনদের অন্তরে এমন এক উত্তাপ ও আবেগের সৃষ্টি করবে যা কখনও শীতল হবে না। (মুস্তাদরাকুল ওসাইল ১০ম খন্ড, পৃ. ৩১৮, ৪৯তম আবওবাবুল মাজার অধ্যায়,  হাদীস নং ১৩।)

৩- হযরত আমিরুল মুমেনিন আলী (আ.) বলেছেন: ইমাম আলী (আ.) নিজ সন্তান হোসাইনের দিকে তাকিয়ে বললেন : এ এমন এক ব্যক্তি যার স্মৃতি ও নামের স্মরণ মুমিনদের চোখে অশ্রু ঝরাতে থাকবে। হোসাইন (আ.) বললেন : ওহে পিতা আপনি কি আমাকেই সম্বোধন করে বলছেন? তিনি উত্তরে বললেন : হ্যাঁ, আমার সন্তান। (বিহারুল আনোয়ার ৪৪তম খন্ড, পৃ: ২৮০, ওয়া ফাজলু যিয়ারাতুল হোসায়েন (আ.), পৃ ৩৮।)

৪- হযরত ফাতেমা জাহরা (আ.) বলেছেন: আমার গর্ভে যখন হোসাইন (আ.) ছয় মাসে উর্ত্তীণ হল, তখন থেকে রাতের আধাঁরে আর আমার প্রদ্বীপের প্রয়োজন হয়নি। আর ইবাদতের সময় ও প্রভুর সান্নিধ্য লাভের জন্য যখন র্নিজনতা অবলম্বন করতাম তখন তাঁর তাসবিহ ও তাকদীস পাঠের আওয়াজ শুনতে পেতাম। (বিহারুল আনোয়ার খন্ড ৪৩, পৃ: ২৭৩। আওয়ালেম গ্রন্থ ১৭তম খন্ড, পৃ: ১১। আদ্দামায়াস সাকিরাহ্ পৃ: ২৫৯, এবং খাসাইসুস হোসাইনীয়া পৃ: ৩১।)

৫- ইমাম হাসান (আ.) বলেছেন: আমাকে বিষ পানে শহীদ করা হবে; কিন্তু ওহে আবা আব্দিল্লাহ্! তোমার মুসিবতের দিনটির ন্যায় আর কোন মুসিবতের দিন আসবে না। (‌আমুলী-ই শেখ সাদুক পৃ: ১১৬, । বিহারুল আনোয়ার ৪৫তম খন্ড, পৃ:২১৮। মাসিরুল আহজান, পৃ:৯। আল আওয়ালেম, ১৭তম খন্ড, পৃ:১৫৪; এবং লুহুফ, পৃ: ২৫।)

৬- হযরত ইমাম হোসাইন (আ.) বলেছেন: আমার হত্যা ক্রোন্দনের মাধ্যমে এক মহাধারার সৃষ্টি হবে। আর কোন মুমিন ব্যক্তিই দু:খ ও অশ্রুসিক্ত চোখ না নিয়ে আমাকে স্মরণ করবে না। (‌আমুলী, শেখ সাদুক পৃ: ১৩৭;কামিরুজ জিয়ারাত, পৃ:১০৮। বিহারুল আনোয়ার ৪৪তম খন্ড, পৃ:২৮৪। আল আওয়ালেম, ১৭তম খন্ড, পৃ:৫৩৬; এবং ইসবাতুল হিদাইয়া ২য় খন্ড, পৃ:৫৮৪।)

৭- হযরত সাইয়েদুস সাজেদিন হোসাইন বিন আলী (আ.) বলেছেন: আমি এক ব্যক্তির সন্তান যার জন্য আসমানের ফেরেস্তাগণ, ভূ–পৃষ্ঠে জ্বীনেরা, পাখিরা এবং বাতাস শোকে শোকাহত হয়ে ক্রন্দন করেছিল । (বিহারুল আনোয়ার ৪৫তম খন্ড, পৃ: ১৭৪ এবং আওয়ালেম গ্রন্থ ১৭তম খন্ড, পৃ: ৪৮৫।)

৮- হযরত ইমাম মুহাম্মদ বাকের (আ.) বলেছেন: ইয়াহিয়া ইবনে জাকারিয়ার মৃত্যুর পর একমাত্র হোসাইন ইবনে আলীর (আ.) শাহাদাত ব্যতীত আর কোন ব্যক্তির মৃত্যুতে আসমানকে কাঁদতে দেখা যায়নি । তাঁর শাহাদাতে আসমান চল্লিশদিন যাবৎ শোকে ক্রন্দনরত ছিল। (বিহারুল আনোয়ার ৪৫তম খন্ড, পৃ:২১১; আল আওয়ালেম, ১৭তম খন্ড, পৃ:৪৬৯।)

৯- হযরত জাফর সাদিক (আ.) বলেছেন: মুসিবতের সময় আহাজারি ও ফরিয়াদ করে কান্নাকাটি করা অপছন্দনীয় তবে কেবল হোসাইন (আ.)এর শোকে ক্রন্দন করা জায়েয ও প্রশংসনীয় এবং হোসাইনের (আ.) শোকে ক্রন্দন ও আহাজারির জন্য প্রতিদান দেয়া হবে। (বিহারুল আনোয়ার ৪৪তম খন্ড, পৃ:২৯১। আল আওয়ালেম, ১৭তম খন্ড, পৃ: ৫৩৩।)

১০- হযরত মুসা ইবনে জাফর (আ.) ইমাম রেজার উদ্ধৃতি দিয়ে বলেন : মহররম মাস যখন শুরু হত তখন আমার পিতার মুখে আর হাসি–খুশী দেখা যেত না। তিনি যেন দু:খ ও বেদনায় ভরাক্রান্ত হয়ে পড়তেন। এভাবে আশুরার দিন পযন্ত প্রতিদিন, শোক ও দু:খে ক্রন্দন করতেন। আর বলতেন এমন একটি দিনে হোসাইনকে হত্যা করা হয়েছিল। (‌আমুলী, শেখ সাদুক পৃ:১২৮। বিহারুল আনোয়ার ৪৪তম খন্ড, পৃ: ২৮৪। আল আওয়ালেম, ১৭তম খন্ড, পৃ: ৫৩৮।)

১১- ইমাম আলী ইবনে মুসা রেজা (আ.) বলেছেন: হোসেনের (আ.)মুসিবত আমাদের অন্তরকে আহত ও চক্ষুকে ব্যথিত করে তুলেছে। এ মুসিবত আমাদের অশ্রু ঝরিয়েছে কারণ আমাদের আপনজনদেরকে ঐ দুরদেশে লাঞ্চিত ও অসয়হ করেছে। সেদিনের দু:খ বেদনা এতই গভীর যে আমাদেরকে চিরদিনের জন্য শোকাহত ও ব্যথিত করেছে। (‌আমুলী, শেখ সাদুক পৃ:১২৮। বিহারুল আনোয়ার ৪৪তম খন্ড, পৃ: ২৮৪। । আল আওয়ালেম, ১৭তম খন্ড, পৃ:৫৩৮।)

১২- হযরত ইমাম ত্বাকী (আ.) বলেছেন: কোন ব্যক্তি যদি ২৩ রমজানে (যে রাতটি কদরের রাত হওয়ার সম্ভবনা আছে) ইমাম হোসাইনকে (আ.) জিয়ারত করে তাহলে ২৪ হাজার ফেরেস্তা এবং স্বয়ং মহানবীও (স.) তার সাক্ষাত করেন। এরা ঐদল যারা এই রাতে ইমাম হোসাইনকে (আ.) জিয়ারত করার জন্য আল্লাহর কাছে অনুমতি আবেদন করেন। (ওসাইলুশ শীয়া ১০ম খন্ড, পৃ: ১৭০, ৫৩ নম্বর অধ্যায় আল আববাসুল মাজার, হাদীস নং ৫।)

১৩- হযরত ইমাম আলী নাকী (আ.) বলেছেন: যে ব্যক্তি ইমাম হোসাইনকে (আ.) জিয়ারতের জন্য নিজ গৃহ থেকে বের হয়ে ফুরাতের নদে স্নান করবে। খোদা তার নাম সফল ব্যক্তিদের লিষ্টে লিখবেন। আর যখন সে হোসাইনকে (আ.) সালাম করবে তখন তাকে সফলতা লাভকারী ব্যক্তি হিসেবে গণনা করবেন। তারপর যখন সে জিয়ারতের নামাজ শেষ করে তখন ‍একজন ফেরেস্তা তাকে বলেন : আল্লাহর রাসুল তোমার প্রতি দরুদ পাঠিয়েছেন এবং তোমার গোনাহসমূহ ক্ষমা করা হয়েছে। অতপর তখন তুমি আবার জন্মের প্রথম অবস্থায় ফিরে গেছে। (স। ওসাইলুশ শীয়া ১০ম খন্ড, পৃ: ৩৮০, ৫৯ নম্বর অধ্যায় আল আববাসুল মাজার, হাদীস নং ১০; কামিলুজ জিয়ারাত, পৃ: ১৮৫-১৮৬।)

১৪- হযরত ইমাম হাসান আসকারী (আ.) বলেছেন: হে আল্লাহ্ আমি তাঁর উসিলা দিয়ে তোমার কাছে প্রার্থনা করছি যে এমন একটি দিনে (৩রা শাবান) জন্ম গ্রহণ করেছিল। যার জন্মের পূর্বে তাঁর শাহাদাতের প্রতিশ্রুতি দেয়া হয়েছিল। যার শোকে আসমান ও আসমানবাসীরা, আর ভূ–পৃষ্ঠ ও তার অধিবাসীগণ ক্রন্দন করছে। এটা এমন এক অবস্থায় যখন সে পৃথিবীতেই পা রাখেনি। (মিসবাহুল মুতাহাজ্জিদ, পৃ: ৭৫৮, বিহারুল আনোয়ার ৯৮তম খন্ড, পৃ: ৩৪৭; মাফাতিহুল জিনান, মহরমের তৃতীয় দিনের আমল।)

১৫- হযরত ইমাম মাহদী (আ.) বলেছেন: যদিও সময় আমাকে পিছিয়ে দিয়েছে এবং পরিণতি আপনাকে সাহায্য করা থেকে বিরত রেখেছে; যার ফলে আপনার সাথী হয়ে দুশমনদের বিরুদ্ধে লড়াই করতে পারিনি । তবে প্রতিটি সকাল থেকে সন্ধ্যা অবধি্ কাঁদছি আর আপনার স্মৃতিচারণ করে বুক ফাটা কান্নায় আর্তনাদ করছি। (বিহারুল আনোয়ার , ৯৮তম খন্ড, পৃ: ৩২।)

অনুবাদ :মো. আলী নওয়াজ খান

সংগ্রহ ও সম্পাদনা: আলহাজ্ব ড. মো. সামিউল হক