মৃত্যুর পর চল্লিশা করার বিয়টি পর্যালোচনা

পর্যালোচনায়: আলহাজ্জ মাওলানা, মোফাসসেরে কোরআন, ড. মো. সামিউল হক

[নামাজ, রোজা, হজ, জাকাত, পরিবার, সমাজসহ জীবনঘনিষ্ঠ ইসলামবিষয়ক প্রশ্নোত্তর অনুষ্ঠান ‘আপনার জিজ্ঞাসা’। জয়নুল আবেদীন আজাদের উপস্থাপনায় এনটিভির জনপ্রিয় এ অনুষ্ঠানে দ‍র্শকের বিভিন্ন প্রশ্নের উত্তর দেন বিশিষ্ট আলেম ড. মুহাম্মদ সাইফুল্লাহ।]

আমরা এখানে মহামান্য আলেম ড. মুহাম্মদ সাইফুল্লাহ সাহেবের উত্তরের পর্যালোচনা করব:

আপনার জিজ্ঞাসার ১৮৫৪তম পর্বে ই-মেইলে মৃত ব্যক্তির চল্লিশা করা সম্পর্কে ঢাকা থেকে জানতে চেয়েছেন আবদুল্লাহ। অনুলিখনে ছিলেন জহুরা সুলতানা।

প্রশ্ন : মৃত্যুর পর আমাদের মৃত ব্যক্তির জন্য অনেক কিছু করা হয়, যেমন : মিলাদ বা চল্লিশ দিনের সময় অনেক লোক খাওয়ানো। এ সম্পর্কে বলবেন?

ড. মুহাম্মদ সাইফুল্লাহ : 

খুব গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন করেছেন। প্রথম কথা হচ্ছে, আমাদের আত্মীয়স্বজন যখন মারা যায়, সে হতে পারে মা, হতে পারে বাবা অথবা হতে পারে স্ত্রী, অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ মানুষের মধ্যে কেউ হতে পারে। তাঁদের জন্য আমাদের করণীয় আছে। কারণ, তাঁরাও তো আমাদের জন্য অনেক কিছু করেছেন। পিতা-মাতা কত কষ্ট করে সন্তানকে লালন-পালন করেন। সে ক্ষেত্রে তাঁদের মৃত্যুর পর সন্তানের করণীয় রয়েছে।

কিন্তু করণীয়টা না জানার কারণে আমাদের যেটা করা দরকার, সেটা না করে ভুল কাজ করে ফেলি। আমরা এমন কাজ করে ফেলি, যেটা করার মধ্যে আমাদের কোনো কল্যাণ নেই, তাঁদেরও কোনো কল্যাণ নেই। আমরা আবেগতাড়িত হয়ে বেদআতি কাজের মাধ্যমে চেষ্টা করি তাঁদের উপকার করার জন্য।

আল্লাহ রাব্বুল আলামিন কোরআনের মধ্যে শিক্ষা দিয়েছেন, আল্লাহর নবী (সা.) তো কত সুন্দর করে বলে দিয়ে গেছেন, ‘যখন কোনো ব্যক্তি মারা যায়, তখন তার সমস্ত আমল বন্ধ হয়ে যায়।’ অর্থাৎ তার আমল আর চলতে থাকে না, আমলনামার মধ্যে আর কোনো আমল যোগ হয় না। তিনটি ব্যতীত, প্রথমত সাদকায়ে জারিয়া। তাঁদের জন্য আমরা সাদকায়ে জারিয়া করতে পারি। যেমন—একটা স্কুল করে দিলেন, একটা মাদ্রাসা করে দিলেন, একটা টিউবওয়েল বসিয়ে দিলেন। নবীকে (সা.) জিজ্ঞেস করা হয়েছে, হে আল্লাহর নবী (সা.), সবচেয়ে উত্তম সাদকা মৃত ব্যক্তির জন্য কোনটি? তখন নবী (সা.) বলেছেন যে, মানুষদের সুপেয় পানি পান করানোর ব্যবস্থা করা।

দ্বিতীয়ত, এমন জ্ঞান, যে জ্ঞান সে রেখে গেছে, যার মাধ্যমে মানুষ উপকৃত হচ্ছে।

সবশেষে নেক সন্তান, যে নেক সন্তান তার জন্য দোয়া করবে। সুতরাং নেক সন্তান পরিগঠন করতে হবে এবং হাদিসে এই দোয়ার কথাই মূলত বলা হয়েছে। অনেক সময় নিজে দোয়া না করে বাইরের থেকে বা লোক ভাড়া করে দোয়া করা হয়। তাহলে তো আপনি নেক সন্তান হতে পারলেন না। পিতা-মাতার জন্য দোয়া আপনি নিজেই করবেন।

নবী (সা.)-এর আরেকটি হাদিসে এসেছে, ‘যখন কোনো ব্যক্তি মারা যান, তাঁর কবরের মধ্যে কিছু কাজের প্রতিদান নিয়মিত যেতে থাকে।’ এখানে নবী (সা.) যে কাজগুলোর কথা উল্লেখ করেছেন, তার মধ্যে তিনটি কাজের বাইরে ১- তিনি যখন কোনো গাছ রোপণ করেন এবং এর ফল মানুষ ভক্ষণ করবে। ২-কোনো নদী যখন তিনি প্রবাহিত করে গেছেন এর থেকে মানুষ যখন উপকৃত হবে। ৩- কোনো একটি কোরআন বা কিতাব কাউকে দিয়ে গেছেন, এ বইয়ের মাধ্যমে যখন তিনি উপকৃত হবেন। এগুলো খুবই গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। এই কাজগুলো আমরা করব এবং তাদের জন্য দোয়া করব।

ড. মো. সামিউল হক

অত্যন্ত ধন্যবাদ ড. মুহাম্মদ সাইফুল্লাহ সাহেবকে। এতটুকু সত্যকথা বলার জন্য যে, উক্ত তিনটি কাজ আমরা করব এবং তাদের জন্য দোয়া করব, কারণ তা করার জন্য নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়ালিহি ওয়া সাল্লামের কাজ থেকে যুক্তি তুলে ধরেছেন এবং বলেছেন যে, এই তিনটি কাজ ছাড়া আর কোন কাজের সওয়াব মৃত ব্যক্তির আমল নামায় যোগ হয় না। কিন্তু সব শেষে তিনি বলেছেন: এই কাজগুলো আমরা করব এবং তাদের জন্য দোয়া করব।

আমি তার এবং অনুরূপ যুক্তিবিদদের এ কথার জবাবে বলব: ভাইসকল! নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়ালিহি ওয়া সাল্লামের কাজ থেকে যুক্তি তুলে ধরে বলেছেন যে, এই তিনটি কাজ ছাড়া আর কোন কাজের সওয়াব মৃত ব্যক্তির আমল নামায় যোগ হয় না। আপনাদের এ কথা মেনে নিলাম। কিন্তু আমার প্রশ্ন: এই তিনটি কাজ অর্থাৎ: প্রথমত সাদকায়ে জারিয়া, দ্বিতীয়ত, এমন জ্ঞান, যে জ্ঞান সে রেখে গেছে, যার মাধ্যমে মানুষ উপকৃত হচ্ছে; সবশেষে নেক সন্তান, যে নেক সন্তান তার জন্য দোয়া করবে। অথাব ১- তিনি যখন কোনো গাছ রোপণ করেন এবং এর ফল মানুষ ভক্ষণ করবে। ২-কোনো নদী যখন তিনি প্রবাহিত করে গেছেন এর থেকে মানুষ যখন উপকৃত হবে। ৩- কোনো একটি কোরআন বা কিতাব কাউকে দিয়ে গেছেন, এ বইয়ের মাধ্যমে যখন তিনি উপকৃত হবেন।

এই তিনটি কাজ কি ঐ মৃত ব্যক্তির না কি তার উত্তরসূরীদের?! নিশ্চয়ই জবাব দিবেন যে, তা তার নিজের কাজ।

তাহলে আমার আরেকটি প্রশ্ন, আর তা হল: মৃত্যুর পর কোন ব্যক্তি কি তার ছওয়াবে যোগ হওয়ার মত কোন কাজ করতে পারেন? নিশ্চয়ই না। এমনকি সে নিজের জন্য কুলখানি বা চল্লিাশা করতে সক্ষম নয়। এমনকি এটা একটা অবান্তর কথা যে কেউ তার নিজের জন্য চল্লিাশা করবে।  তবে কেন এই খোড়া যু্ক্তি তুলে ধরলেন যে, এই তিনটি কাজ ছাড়া আর কোন কাজের সওয়াব মৃত ব্যক্তির আমল নামায় যোগ হয় না। যে ব্যক্তি মারা গেছেন সে তো আর কিছু্ই করতে সক্ষম নয়।

মৃত ব্যক্তি যদি কোন সওয়াবের কাজ করতে না পারে অথচ সে তার সম্পদ রেখে যায়। এখন যদি সে সম্পদ থেকে তার উত্তরসূরীরা গরীব-মিসকিনকে খাওয়ায় তাহলে কি সেই সওয়াব সেই মৃত ব্যক্তির আমলে যোগ হবে না? নিশ্চয়ই হবে। কারণ সে আল্লাহ তায়ালা এমন বখিল নন যে, কারো রেখে যাওয়া অর্থ থেকে দান খয়রাত করা বা ফকির-মিসকিনকে খাওয়ানো হলে তার সওয়াব মৃত ব্যক্তি আমল নামায় যোগ হবে না।

আর এ কারণেই আমাদের আলেম ওলামা বলে থাকেন: লোকজনকে খাওয়ানো যাবে, ঠিক যেরূপ ড. মুহাম্মদ সাইফুল্লাহ সাহেবও বলেছেন।;;;  

ড. মুহাম্মদ সাইফুল্লাহ

লোকজনকে খাওয়ানো যাবে, কিন্তু চল্লিশ দিনে চল্লিশা করা যাবে না। এটি রাসূল (সা.) বলেননি। আপনার সামর্থ্য অনুযায়ী যেকোনো সময় আত্মীয়স্বজন, লোকদের খাওয়াতে পারেন। কিন্তু সেটি চল্লিশ দিনেই হতে হবে, সেটি নির্ধারণ করা যাবে না। ইসলামে নিজস্ব ইবাদতের পদ্ধতি তৈরি করার কোনো সুযোগ নেই। যেকোনো সময়ে আপনার সামর্থ্য অনুযায়ী আপনি আত্মীয়স্বজনকে খাওয়াতে পারেন। তবে সেটাকে ৪০তম দিনেই নির্ধারণ করা যাবে না।

ড. মো. সামিউল হক

উপরোক্ত কথার জবাবে বলব:  আপনি যে বললেন, ‚লোকজনকে খাওয়ানো যাবে, কিন্তু চল্লিশ দিনে চল্লিশা করা যাবে না। এটি রাসূল (সা.) বলেননি। আপনার সামর্থ্য অনুযায়ী যেকোনো সময় আত্মীয়স্বজন, লোকদের খাওয়াতে পারেন।“ একদিকে তিনি বললেন, ‚আপনার সামর্থ্য অনুযায়ী যেকোনো সময় আত্মীয়স্বজন, লোকদের খাওয়াতে পারেন।“ কিন্তু অন্যদিকে বললেন, ‚কিন্তু চল্লিশ দিনে চল্লিশা করা যাবে না। এটি রাসূল (সা.) বলেননি।“ এ কথার যুক্তি শুধু এতটুকু যে, এটি রাসূল (সা.) বলেননি।

এর জবাবে বলব: আপনারা কোথায় পেয়েছেন যে, যে বিষয়টি নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়ালিহি ওয়া সাল্লাম বলেন নি, তা হারাম। বরং ইসলামের যুক্তি হল যে বিষয়গুলো আল্লাহ তায়ালা কোরআনে হারাম ঘোষণা করেছন যেমন: সুরা নিসা আয়াত নং ২৩, সূরা মায়েদার ৩ নং আয়াতে ঘোষিত হারাম বিষয়াদি ছাড়া আমাদের নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়ালিহি ওয়া সাল্লাম যেসব বিষয় সুস্পষ্টভাবে হারাম ঘোষণা করেছেন তাই হারাম। তা ছাড়া অন্য কোন বিষয়কে হারাম বলতে গেলে হয় তাকে নবী হতে হবে, নতুবা আল্লাহ মনোনিত ইমাম। কারণ আল্লাহ, তাঁর রাসূল ও মনোনিত ইমাম ছাড়া আর কেউ কোন কিছু হারাম বলতে পারে না। এর মূল কারন হল শরিয়তি আইন প্রনয়নের ক্ষমতা আল্লাহ তায়ালা আর কাউকে দেন নি। যেমনটি আল্লাহ তায়ালা কোরআনে বলেছেন, ‚হে ঈমানদারগণ! আনুগত্য কর আল্লাহ্‌র, আনুগত্য কর রাসূলের এবং তোমাদের মধ্যকার উলিল আমরদের। তারপর যদি তোমরা কোন বিষয়ে বিবাদে লিপ্ত হয়ে পড়, তাহলে তা আল্লাহ্‌ ও তাঁর রসূলের প্রতি প্রত্যর্পণ কর-যদি তোমরা আল্লাহ্‌ ও কেয়ামত দিবসের উপর বিশ্বাসী হয়ে থাক। আর এটাই কল্যাণকর এবং পরিণতির দিক দিয়ে উত্তম।“ (সূরা নিসা, আয়াত নং ৫৯)

এখন প্রশ্ন হল: আল্লাহ, তার নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়ালিহি ওয়া সাল্লাম অথবা নবীর উলিল আমরদের মধ্য থেকে কে নিষেধ করেছেন যে, চল্লিশা করা হারাম? কেউ তে নিষেধ করেন নি বরং নবীর উলিল আমরদের মধ্য থেকে অনেক ইমামই, ইমাম হোসাইনের চল্লিশা করার জন্য জোর তাগাদা প্রদান করেছেন। আর এ কারণেই দেখা যায় প্রতি বছর ইমাম হোসাইনের চল্লিশায় কোটি কোটি মুসলমান তাঁর মাযার যিয়ারতের জন্য পাগল হয়ে ছুটে যায় কারবালার দিকে এবং ইমাম হোসাইনের মাযারেজ চল্লিশার অনুষ্টানে যে দোয়া ও যিয়ারত পড়া হয় তা নবীর আহলে বাইতের ইমামদের মতে খাটি মুসলমান হবার আলাম হিসেবে বর্ণিত হয়েছে।

«قال العسکری علیه السلام: "علامات المؤمنین خمس : صلاةُ الاحدی و الخمسین و زیارةُ الاربعین والتـَختم فی الیَمین و تـَعفیرُ الجـَبین و الجَهر ببسم الله الرحمن الرحیم.»

নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়ালিহি ওয়া সাল্লাম এর আহলে বাইতের এগারতম ইমাম, ইমাম হাসান আসকারি (আল্লাহ তাঁর  উপর শান্তি বর্ষিত করুক) বলেন: মুমিনদের আলামত পাঁচটি তার মধ্যে অন্যতম হল: চল্লিশায় ইমাম হোসাইনের যিয়ারত পাঠ করা। বিহারুল আনোয়ার বৈরুত প্রিন্ট, খন্ড ৯৮, পৃ: ৩২৯; আল মাযার, শেখ মুফিদ, পৃ: ৫৩।

যেখানে নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়ালিহি ওয়া সাল্লাম এর আহলে বাইতের ইমাম বলেন যে, চল্লিশায় ইমাম হোসাইনের যিয়ারত পাঠ করা মুমিনের আলামত। সেখানে কিভাবে চল্লিশার অনুষ্টানকে আপনারা হারাম ঘোষণা করেন। আপনারা কি নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়ালিহি ওয়া সাল্লাম এর আহলে বাইতের ইমামের চেয়েও বড় আলেম হয়ে গেলেন?!

প্রিয় ও সম্মানিত পাঠকবর্গ এর পরও কি আপনারা ড. মুহাম্মদ সাইফুল্লাহ সাহেব ও তাদের অনুরূপ অন্যান্য আলেমদের কথা মেনে নেবেন? যেখানে তারা বলেছেন: ‚কিন্তু সেটি চল্লিশ দিনেই হতে হবে, সেটি নির্ধারণ করা যাবে না। ইসলামে নিজস্ব ইবাদতের পদ্ধতি তৈরি করার কোনো সুযোগ নেই। যেকোনো সময়ে আপনার সামর্থ্য অনুযায়ী আপনি আত্মীয়স্বজনকে খাওয়াতে পারেন। তবে সেটাকে ৪০তম দিনেই নির্ধারণ করা যাবে না।“ তিনি বললেন, ‚লোকজনকে খাওয়ানো যাবে, কিন্তু চল্লিশ দিনে চল্লিশা করা যাবে না। এটি রাসূল (সা.) বলেননি।“

বিবেকবান পাঠক বর্গের কাছে জানতে চাইবে: ‚লোকজনকে খাওয়ানো যাবে, কিন্তু চল্লিশার দিনে খাওয়ানো  যাবে না। এই নিষেধাজ্ঞা তারা কোথায় পেলেন? তারা কি নবি, না কি ইমাম যে কারণে তার শরিয়তি বিধান প্রণয়ন করতে পারবেন?

চল্লিশার বিরুদ্ধে এত অলার্জি কি ইমাম হোসাইনের চল্লিশার মহা সমাবেশের বিরুদ্ধে যুদ্ধ? যদি তাই হয়ে থাকে, তবে বলব তারা এজিদের অনুসারী। কারণ এজিদ সেদিন নবী বংশকে হত্যা করেছে আর আজকে যারা সেই ইমাম হোসাইনকে ভালবেসে চল্লিশা পালন করে তাদের বিরুদ্ধে ফতোয়া দেয় যাতে কেউ ইমাম হোসানের মহব্বত না দেখায় ও তাঁর চল্লিশা পালন না করে। এজিদও চায়নি কেউ ইমাম হোসাইনকে ভাল বাসুক ও তার জন্য ক্রন্দন করুক। অথচ ইমাম হোসাইনের সন্তান ইমাম জয়নুল আবেদিন আ. ইমাম হোসাইনের শাহাদাতের চল্লিশতম দিনে কারবালায় পৌঁছে ইমাম হোসাইনসহ কারবালার শহিদদের দাফন সম্পন্ন করেন ও প্রথম চল্লিশার অনুষ্ঠান পালন করেন।

চল্লিশার ইতিহাস

চল্লিশার মূল ইতিহাস রচিত হয়েছে ইমাম হোসাইনের শাহাদাত ও কারবালার হৃদয়বিদারক ঘটনার পর থেকে এবং ইতিহাসের প্রথম আনুষ্ঠানিক চল্লিশা শুরু হয় ইমাম হোসাইনের চল্লিশা থেকে। আর তাই দেখা যায় এজিদ পক্ষের আলেমগণ বরাবরই চল্লিশার বিরোধিতা করে এসেছে। তাই বলা যায় আজকেও যারা চল্লিশার বিরোধী বক্তব্য রাখেন তারাও হয়তো এজিদ পন্থী লোক যে কিনা ইমাম হোসাইনের হত্যার মূল নায়ক ছিল।

বিখ্যাত সাহাবী জাবের ইবনে আব্দুল্লাহ আনসারী ও চল্লিশা

ইসলামের ইতিহাসে দল-মত নির্বিশেষ সব ফেরকার মুসলমানরাই ইমাম হোসাইনের চল্লিশায় কারবালায় হাজির হয় তার চল্লিশার যিয়ারত করার জন্য। এমনকি নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়ালিহি ওয়া সাল্লাম এর বিখ্যাত সাহাবী জাবের ইবনে আব্দুল্লাহ আনসারী ইতিহাসের প্রথম ইমাম হোসাইনের যিয়ারতকারী হিসেবে পরিগণিত, যিনি ৬১ হিজরির ২০শে সফর অর্থাৎ ইমাম হোসাইনের প্রথম চল্লিশায় প্রথম যিয়ারতকারী হিসেবে হাজির হয়। (কোমি, সাফিনাতুল বিহার, প্রকাশ কাল ১৪১৪হি, খ্ন্ড ৮, পৃ৩৮৩)

কারবালায় নবী পরিবারের বন্দিদের প্রস্থান ও চল্লিশা

কারবালায় নবী পরিবারের বন্দিদেরকে বিভিন্ন শহর ঘুড়িয়ে এজিদের দরবারে নিয়ে যাওয়া হয়। ইতিহাসে বর্ণিত হয়েছে যে, ইমাম হোসাইনের শাহাদাতের পর কারবালায় নবী পরিবারের মহিলা, শিশু ও অসুস্থ ইমাম জয়নুল আবেদিনকে বন্দি করে বিভিন্ন শহর ঘুড়িয়ে এজিদের দরবারে নিয়ে যাওয়ার পূর্বে ২০ শে সফর অর্থাৎ ইমাম হোসাইনের প্রথমি চল্লিশায় কারবালাতে প্রত্যাবর্তন করানো হয়। তারা সেখানে নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়ালিহি ওয়া সাল্লাম এর বিখ্যাত সাহাবী জাবের ইবনে আব্দুল্লাহ আনসারী ও কিছু বণি হাশের লোকদেরকে দেখতে পান। (রুজু করুন: আল লোহুফ আলা কাতলিত তোফুফ, সাইয়েদ ইবনে তাউস)

উপসংহার

পরিশেষে সম্মানিত পাঠকবর্গের কাছে আবেদন করব: আমাদের এই পর্যালোচনা বিবেচনার দৃষ্টিতে দেখবেন এবং নিজ নিজ জ্ঞান মোতাবেক চল্লিশা সম্পর্কে ইসলামের দৃষ্টিভঙ্গি তুলে ধরবেন। আশা করি কাল কেয়ামতের দিন আপনাদের সকলের উত্থান হবে ইমাম হোসাইনের সাথে যে কিনা বেহেশ্তের যুবকদের সর্দার। আল্লাহ আমাদের সবাইকে হেফাজত করুক এবং আল্লাহর কাছে আবেদন করব: আমাদের মৃত্যুর পর আমাদের ছেলে-সন্তানরা যাতে আমাদের চল্লিশা পালন করে গরিব-মিসকিনদেরকে খাওয়ায় এবং তাদের দোয়া আমাদের নসীব হয়, আমিন ইয়া রাব্বাল আলামিন।