রোজার ফিতরা: একটি গবেষণা ধর্মী আলোচনা

পূর্বে আমি আমার এ লেখাটি ভিন্ন শিরনামে প্রকাশ করেছি। যেহেতু উপলদ্ধিটি গবেষণা ধর্মী তাই এটি কিছুটা সংশোধন করে পুন: প্রকাশ করলাম। ফিতরা আদায়ে ধর্মীয় দায়িত্ব পালনের সাথে সাথে মানবিকতার একটা বিরাট ভূমিকা রয়েছে। তাই এ বিষয়ে উপলদ্ধিটা ব্যপক ও বিস্তৃত হওয়া দরকার। আর তাই এ বিষয়ে আপনার সুচিন্তিত মতামতের আশা করছি।

এক

রমজান মাসের শেষে ঈদুল ফিতরের নামাজের আগে আমরা সাদকাতুল ফিতরা আদায় করে থাকি। বাংলাদেশের মুসলমানেরা কেন অমুসলমানগনও এ বিষয়ের সাথে পরিচিত। কারন এ বিষয় নিয়ে নানা রূপ আয়োজন হয়ে থাকে। বাংলাদেশের আলেমদের পক্ষ থেকে ঘোষণা আসে চলতি বছরে ফেতার মূল্য কত হবে। ধনীরা এবং রাজনীতিবিদগণ বা উদ্দেশ্যবাদীগন তাদের উদ্দেশ্য হাসিলের জন্যে ফেতরা বা/এবং যাকাত প্রদানের জন্যে ক্যাম্প খুলে থাকেন। আর এরমক আয়োজনের কারণে মাঝে মাঝে নানারূপ অঘটনও ঘটে থাকে।

আসুন আমরা সাদকাতুল ফিতরের মূল কিছু উৎস সম্পর্কে জেনে নেই। আধুনিক প্রকাশনী, ২৫, শিরিশ দাস লেন, ঢাকা-১ থেকে ১৯৮৬ সনের সেপ্টেম্বর মাসে প্রকাশিত বঙ্গানুবাদকৃত সহীহ আল বুখারী এর ২য় খন্ডের ৬১ থেকে ৬৩ পৃষ্টায় ক্রমিক নং ১৪০৬ থেকে ১৪১৫ পর্যন্ত মোট ১০ টি হাদিস সাদকাতুল ফিতরের উপর বর্ণিত হয়েছে। সেগুলো আমরা এখানে হুবহু তুলে ধরলাম।

সদকায়ে ফিতর ফরয হওয়ার বর্ণনা

আবুল আলীয়া, আতা ও ইবনে সীরীন-এর মতে সদকায়ে পিতর ফরয।

১৪০৬. ইবনে উমর (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (সঃ) মুসলিম দাস ও স্বাধীন ব্যক্তি; নর ও নারী এবং বালক ও বৃদ্ধের ওপর সদকায়ে ফিতর (রোযার ফিতরা) এক সা’১৮ খেজুর কিংবা এক সা’ যব নির্ধারিত করে দিয়েছেন। তিনি এটাও আদেশ করেছেন যে, লোকদের (ঈদের) নামাযে যাবার পূর্বেই যেন তা আদায় করা হয়।

দেশীয় ওজনে এক সা’ সমান তিন সের এগার ছটাক।

সদকায়ে ফিতর মুসলিম দাস ও স্বাধীণ সবার ওপর ওয়াজিব

১৪০৭. ইবনে উমর (রাঃ) থেকে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ (সঃ) মুসলিম নর-নারীর স্বাধীন ও গোলাম প্রত্যেকের ওপর সদকায়ে ফিতর এক সা’ খেজুর অথবা এক সা’ যব নির্ধারিত করে দিয়েছেন।

সদকায়ে ফিতরার পরিমাণ

 

১- ১৪০৮. আবু সাঈদ খুদরী (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমরা সদকায়ে ফিতর বাবত এক আ’ যব খাওয়ায়ে দিতাম।

২- সদকায়ে ফিতর বাবদ এক সা’ খাবার প্রদান করা:

১৪০৯. আবু সাঈদ খুদরী (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমরা (রাসূলুল্লার যমানায়) সদকায়ে ফিতর বাবত (মাথা পিছু) এক সা’ পরিমান খাবার অথবা এক সা’ যব অথবা এক সা’ খেজুর অথবা এক সা’ পনির কিংবা কিশমিশ-মোনাক্কা প্রদান করতাম।

৩- সদকায়ে ফিতর বাবদ এক সা’ খেজুর প্রদান করা।

৪- ১৪১০. আব্দুল্লাহ ইবনে উমর (রাঃ) বলেন, নবী (সঃ) সদকায়ে ফিতর বাবত এক সা’ খেজুর অথবা এক সা’ যব প্রদান করতে নির্দেশ দিয়েছেন। আব্দুল্লাহ বলেন, (পরবর্তীকালে) লোকেরা (আমীর মুয়াবিয়া ও তার সঙ্গীরা) তার স্থলে দুই ‘মুদ’১৯ গম নির্ধারিত করেছেন।

দুই ‘মুদ’ হলোঃ এক সা’র দু’ ভাগের এক ভাগ। অর্থাৎ এক সের সাড়ে তের ছটাক।

৫- এক সা’ কিশমিশ-মোনাক্কা প্রদান করা:

১৪১১. আবু সাঈদ খুদরী (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী (সঃ)-এর যমানায় আমরা ফিতরা বাবত (মাথা পিছু) এক সা’ খাবার অথবা এক সা’ খেজুর অথবা এক সা’ যব কিংবা এক সা’ কিশমিশ-মোনাক্কা প্রদান করতাম। মুয়াবিয়া (রাঃ)-এর যমানায় যখন গম আমদানী হল তখন তিনি বললেন, আমার মতে এর (গমের) এক ‘মুদ’ (অন্য জিনিসের) দুই মুদের সমান।

ফিতরা আদায় করার সময়

১৪১২. ইবনে উমর (রাঃ) থেকে বর্ণিত। নবী (সঃ) লোকদের (ঈদের) নামাযে গমনের পূর্বেই সদকায়ে ফিতর আদায় করার নির্দেশ দিয়েছেন।

১৪১৩. আবু সাঈদ খুদরী (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী (সঃ)-এর যমানায় ঈদুল ফিতরের দিন আমরা ফিতরা বাবত (মাথা পিছু) এক সা’ পরিমান খাবার প্রদান করতাম। আবু সাঈদ (খুদরী) বলেন, তখন আমাদেও খাবার ছিল যব, শিমিশ-মোনাক্কা, পনির ও খুরমা।

ক্রীতদাস ও স্বাধীন উভয়ের ওপর সদকায়ে ফিতর ওয়াজিব।

যুহরী বলেনঃ ব্যবসার ক্রীতদাসের ক্ষেত্রে যাকাত ও ফিতরা দু’টোই আদায় করতে হবে।

১৪১৪. ইবনে উমর (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী (সঃ) নর ও নারী এবং স্বাধীন ও ক্রীতদাসের ওপর সদকায়ে ফিতর অথবা বলেছেন রোযার ফিতরা (রাবীর সন্দেহ) এক সা’ খেজুর অথবা এক সা’ যব নির্ধারিত কওে দিয়েছেন। পরবর্তীকালে লোকেরা আধা সা’ গমকে এর (এক সা’ খেজুরের) সমান ধওে নিয়েছেন। ইবনে উমর (সব সময়) খেজুর প্রদান করতেন। একবার মদীনাবাসীর ওপর খেজুরের আকাল দেখা দিলে তখন তিনি যব প্রদান করেন। এবং ইবনে ইমর ছোট বড় সবার ফিতরা প্রদান করতেন। (রাবী নাফে বলেন,) আমার ছেলে মেয়েদের ফিতরাও তিনি দিয়ে দিতেন। ইবনে ইমর ওদেরকেই ফিতরা প্রদান করতেন যারা তা গ্রহণ করত এবং সাহাবারা ঈদুল ফিতরের এক কিংবা দু’দিন পূর্বেই (আদায়কারীর নিকট ফিতরা দিয়ে দিতেন।

বড় ও ছোট সবার উপর সিদকায়ে ফিতর ওয়াজিব:

আবু উমর বলেনঃ উমর, আলী, ইবনে উমর, জাবির, আয়শা, তাইস, আতা ও ইবনে সীরীন-এর মতে এতিমের মাল থেকেও যাকাত (সদকায়ে ফিতরা) আদায় করতে হবে। যুহুরী বলেনঃ পাগলের সম্পদেরও যাকাত দিতে হবে।

১৪১৫. ইবনে উমর (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ (সঃ) প্রত্যেক ছোট, বড়, স্বাধীন ও ক্রীতদাসের ওপর সদকায়ে ফিতর এক সা’ যব অথবা এক সা’ খেজুর নিরর্ধারিত করে দিয়েছেন।

সদকায়ে ফিতর বা রোযার ফিতরা সম্পর্কিত হাদিস

১। সদকায়ে ফিতর কে আদায় করবে- ক্রীতদাস, স্বাধীন, নর, নারী, বালক, বৃদ্ধ, ছোট বা বড় প্রত্যেক মুসলিম ব্যক্তির উপর সদকায়ে ফিতর আদায় করা বাধ্যতামূলক।

২। কী কী উপাদানের মাধ্যমে সদকায়ে ফিতর আদায় করা যাবে- খেজুর, যব, খাবার, পনির, কিশমিশ-মোনাক্কা দ্বারা সদকায়ে ফিতর আদায় করা। প্রথম চার খলিফার সময়ে এগুলো দিয়ে সদকায়ে ফিতরা আদায় করা হত। পরবর্তী কালে মুয়াবিয়ার সময়ে গম প্রদান শুরু হয়। অবশ্য হাদিসে ‘খাবার’ শব্দ থাকায় সুবিধা হল আমরা যা খাবার (যার যার প্রধান খাবার) হিসাবে খেয়ে থাকি তা দ্বারা আমরা ফিতরা আদায় করতে পারি।

৩। সদকায়ে ফিতরার পরিমান হবে কত- যে উপাদানেই দেওয়া হোক না কেন তার পরিমান হবে এক সা’ (এ দেশীয় ওজনে এক সা’ সমান তিন সের এগার ছটাক)। রাসূলুল্লাহ (সঃ) এর সময় থেকে চতুর্থ খলিফা পর্যন্ত এ পরিমানই দেওয়া হতো। কিন্তু মুয়াবিয়ার সময়ে এর পরিমান অর্ধেক হয়ে যায় অর্থাৎ আধা সা’ (এক সের সাড়ে তের ছটাক) হয়ে যায়।

রোযার ফিতরা সম্পর্কে আমাদের দেশে যা দেখতে পাই তা হ’ল- রমজান মাসের শেষের দিকে এসে আমাদের আলেম সম্প্রদায় এভাবে একটা ঘোষণা দেন যে এবারের ফিতরা হ’ল ‘এত’ (আধা সা’ গম বা চালের দাম হিসাবে ধরুন ৪৫) টাকা। আর সে মোতাবেক দেশবাসী ঐ পরিমান টাকা প্রদান করে ফিতরা আদায় করে। আর এ ক্ষেত্রে তারা রসূলুল্লাহর (সঃ) এর শরীয়তে পরিবর্তন এনে মুয়াবিয়ার শরীয়ত প্রবর্তন করে নিজেদের ক্ষতিসাধন করছে। আমাদের দেশের প্রচলিত এ প্রথা সম্পর্কে আমার কিছু জিজ্ঞাসার উদ্ভব হয়েছে।

প্রশ্ন ১: রাসূলুল্লাহ (সঃ) এর সময় থেকে চতুর্থ খলিফা পর্যন্ত চলে আসা উপাদানের পরিমান হঠাৎ করে মুয়াবিয়ার সময়ে কেন এক সা’ থেকে আধা সা’ এ পরিনত হ’ল?

এ বিষয়ে আমি অনেক আলেম এর সাথে আলোচনা করেছি। তারা আমাকে কোন যুক্তিগ্রাহ্য উত্তর দিতে পারেন নি। তাদের কাছ থেকে যেসব উত্তর পেয়েছি তার কয়েটি নিম্নরূপ-

উত্তর-১.১। মনে হয় অন্যান্য প্রদেয় উপকরণের চেয়ে গমের দাম বেশী ছিল।

 

এ উত্তর আমি গ্রহণ করতে পারি নি। কারণ হিসাবে আমি তাদের পাল্টা প্রশ্ন করেছি যে রসূলুল্লাহ (সঃ)-এর সময়ের উল্লেখিত পণ্যসমূহের দাম কি এক রকম ছিল? যেমন যবের দাম, পনিরের দাম, খেজুরের দাম, কিশমিশ-মোনাক্কার দাম বা সকল খাবারের দাম কি একই ছিল? বুদ্ধি কি বলে? আর উত্তরটি ‘মনে হয়’ দিয়ে শুরু করা হয় নি কি? উত্তরদাতারা আমার এ সকল পাল্টা প্রশ্নের আর কোন জবাব দিতে পারেন না।

উত্তর-১.২। নর নারী মানে স্বামী স্ত্রী। তাহলে দু জনের জন্যে এক সা’ হলে এক জনের জন্যে তো আধা সা’-ই হয়।

এ উত্তর আমি গ্রহণ করতে পারি নি। এবং আর ব্যাখ্যা দেওয়ার কোন প্রয়োজন অনুভব করছি না।

উত্তর-১.৩। খেজুরের আটি আছে কিন্তু গমের কোন আটি নেই। তাই গমের বেলায় এক সা’ না দিয়ে আধা সা’ দিলে হয়ে যাবে।

এ উত্তরটিও আমি নিতে পারলাম না। কারণ রসূলুল্লাহ (সঃ) এর যমানায় খেজুরও দেওয়া হ’ত আবার পনির বা যব দেওয়া হ’ত। তখন খেজুরের আটির জন্যে কি পনিরের পরিমান কম দেওয়া হ’ত? তখন যা-ই দেওয়া হোক না কেন তার পরিমান ছিল এক সা’।

উত্তর-১.৪। এক সা’ এর পরিবর্তে আধা সা’ করায় তা আদায় করা জনগনের জন্যে সহজ হয়েছে। এক সা’ পরিমান নির্ধারিত থাকলে অনেকের পক্ষে ফিতরা আদায় করা সহজ হ’ত না।

এ উত্তরটি আরও মারত্মক। অধিক মানুষ পালন করতে পারবে এ যুক্তিতে শরীয়তকে অর্ধেক করা কি মারাত্মক জঘণ্য কাজ। আসুন মানুষ পালন করবে এ যুক্তিতে আমরা নামাজকে, যাকাতকে বা রমজানের রোযাকে অর্ধেক করে দি? তওবা, আল্লাহ আমাদের হেফাযত করুন।

প্রশ্ন ২: হাদিসে উল্লেখিত বিভিন্ন উপকরনের কোন একটা দিয়ে সাদকায়ে ফিতরা আদায় করার কথা বলা হয়েছে। তাহলে বাংলাদেশের আলেমগণ কি ভাবে একটা রেট উল্লেখ করে থাকেন? কেন শুধু গমের বা চালের মূল্যে সাদকায়ে ফিতরা আদায় করা হবে? বাংলাদেশে কি খেজুর পাওয়া যায় না বা বাংলাদেশের মানুষ কি খেজুর খায়না? সকল ব্র্যান্ডের চাল, খেজুর বা গমের মূল্য কি একই? এর উত্তর অবশ্যই সকলের জানা। তা হলে আলেমগণ কেন একটা রেট বলে দেন?

এর কোন সদুত্তর আলেমগন আমাকে দিতে পারেন নি। তাদের কেউ কেউ বলতে চান হাদিসে খাবারের কথা উল্লেখ আছে। আর বাংলাদেশের জনগনের প্রধান খাবার হ’ল ভাত। তাই তারা চালের মূল্য দিতে বলেন। এ উত্তর একেবারেই গ্রহণ যোগ্য নয়। কারণ বাংলাদেশের সকল ব্র্যান্ডের চালের মূল্য এক নয়। আর আমার দৃঢ় বিশ্বাস সব মুসলমান যেহেতু এক ব্র্যান্ডের একই জিনিস খায় না তাই সাদকাতুল ফিতরের রেট এক হবে না।

সাদকায়ে ফিতরার রেট কমানোর প্রেক্ষাপট

১। হযরত আলী (রাঃ) খেলাফত গ্রহণ করে ১০টি প্রদেশের দূর্নীতিপরায়ন গভর্ণদের পদচুত্য করেন। মুয়াবিয়া সিরিয়া প্রদেশের গভর্ণরের পদ হারায়।

২। মুয়াবিয়া হযরত আলী (রাঃ) এর প্রতি বিদ্রোহী হয়ে ওঠে। হযরত আলী (রাঃ) এর সঙ্গে সিফফিন নামক স্থানে যুদ্ধ করে। কথিত আছে এ যুদ্ধে ৫৬০০০ (ছাপ্পান্ন হাজার) লোক মারা যায়।

৩। মুবিয়া অর্থের লোভ দেখিয়ে, পদের লোভ দেখিয়ে, অত্যাচারের ভয় দেখিয়ে লোকদের নিজ দলে আকৃষ্ট করত।

৪। মুয়াবিয়া জানত দরিদ্রদের চেয়ে ধনীরা দৃশতঃ সমাজে বেশী প্রভাব রাখে।

৫। সাদকায়ে ফিতরার রেট কমিয়ে ধনীদের হাত করা মুবিয়ার একটা অপকৌশল ছিল মাত্র।

প্রশ্ন ৩: কেন বাংলাদেশের আলেমগণ সাদকায়ে ফিতরের একটা রেট নির্ধারণ করে এমন ঘোষণা প্রচার করেন?

আলেমদের কাছ থেকে এর কোন সদুত্তর পাই নি। তাদের অন্য কোন ঘোষণা এত নিরঙ্কুশভাবে পালিত হয় না। আলেমদের একটা বড় অংশ (জনগনের বড় অংশ নয়) ধর্মীয় রাজনীতি (ধরুন বাংলাদেশ জামাতে ইসলামী) করে কিন্তু তারা কখনই সংসদীয় নির্বাচনে আসন প্রাপ্তিতে শতকরা সাত ভাগ অতিক্রম করতে পারে নি। আলেমদের এক এক অংশ উলামা লীগ, উলামা দল বা উলামা পার্টি বা অন্য কোন রাজনৈতিক সংস্কৃতির চর্চা করে থাকে। ঐ আলেমদের কথা সাধারন মানুষের মনে দাগকাটা দূরে থাকুক তাদের নিজ নিজ রাজনৈতিক অঙ্গনেই কোন প্রভাব রাখে না। তা হলে তারা এ ক্ষেত্রে ঘোষণা দেয় কোন উৎসাহে? এ ক্ষেত্রে বার বার আমার একটা কথা মনে হয়। তা হ’ল মুয়াবিয়ার সময়ে আলেম পরিচয়ের কিছু লোক অর্থের বা ক্ষমতার লোভে অথবা রাজনৈতিক নিপীড়নের ভয়ে রাজতন্ত্রের পৃষ্ঠপোষকতা করেছে বা পক্ষে কাজ করেছে। আর আজকেও আলেম পরিচয়ের লোকেরাও ঐ একই কাজ করছে। তারা কোন না কোন বিশেষ গোষ্ঠীর সেবা দাসে পরিণত হয়েছে অর্থাৎ তারা স্বাধীন নয়। বাংলাদেশের তিন লক্ষাধিক মসজিদের ইমামগণ ‘মসজিদ কমিটি’ নামক বস্ত্তর অধীনে কাজ করে ইমামতি রক্ষার তাগিদে তার সদস্যদের মর্জিমাফিক আওয়াজ তুলে থাকে। আমাদের দেশের সামাজিক প্রতিষ্ঠানসমূহের কমিটিতে কারা থাকে? হয় তারা অফিসার (যেমন জেলা প্রশাসক, এসপি, রেজিষ্টার বা কোন ডিডি জেলা যেমন পরিষদের মসজিদের জন্যে; ইউএনও, ওসি, এ্যাকাউন্টস অফিসার বা সাব-রেজিষ্টার উপজেলা মসজিদের জন্যে), মহল্লার মসজিদের জন্যে কোন দাতা ঠিকাদার, কোন রাজনৈতিক গোষ্ঠির সভাপতি/সম্পাদক এমন এমন সব ব্যক্তি। বাংলাদেশের এমপিও ভুক্ত মাদ্রাসাসমূহের অধ্যক্ষ বা সুপরিদের কথা আর কি বলব। তারাও স্বাধীন নয়। চাকুরী রক্ষার্থে সরকার যন্ত্রের অধীনে কাজ করে তারা। সরকার পরিবর্তনের পর পরই আমরা তা টের পাই। কওমী মাদ্রাসার আলেমদের কথা বলার নয়! বর্তমানে তারা দারিদ্রের ভীষণ কষাঘাতে জর্জরিত। যারা বলে ‘আমরা স্বাধীণভাবে ইসলামী রাজনীতি’ করি তারা অন্তত আমাদেন দেশের প্রেক্ষাপটে সত্য কথা বলে না। আমরা ইস্পষ্টই দেখতে পাই ‘স্বাধীন ইসলামী রাজনীতি’র নামে তারা সৌদি আরবের বা আমেরিকার সেবা দাসত্ব করে থাকে। আর কেউ কেউ এর বাইরে কাজ করে বলে মনে করলেও অজজ্ঞাতসরে তারা মুয়াবিয়ার মত লোকের দাসত্ব করে থাকে। মুয়াবিয়া আজ নেই এবং তার শরীয়তের কারণে অসহায় বঞ্চিতেরা আরও বঞ্চিত হচ্ছে এবং সহায় সম্পদশালীরা আরও লাভবান হচ্ছে এবং বিবেকের কাছে কোন কৈফিয়ত দেয়া যাচ্ছে না তারপরও তারা মুয়াবিয়ার মত লোকদের শরীয়তের প্রচলন করে যাচ্ছে। আমরা নাকি স্বাধীন বাংলাদেশের নাগরিক হয়ে আজও বৃটিশদের আইন বদলাতে পারছি না। সে রূপ নিজেদেরকে খাটি উম্মতে মুহাম্মাদী (সঃ) দাবী করছি অথচ মুয়াবিয়ার শরীয়তকে পরিত্যাগ করতে পারছি না। তা হলে তারা এমন ঘোষণা দিতে যায় কেন? এর উত্তর এটাই যে ‘গায়ে মানে না আপনি মোড়ল সাজা’ অথবা তোষণ নীতি অবলম্বন করে সরকার বা কমিটি নামক বস্ত্ত বা উপর ওয়ালাদের প্রিয় ভাজন হতে চাওয়া।

(সূত্র:ইন্টারনেট)