রোযার আহকাম

রোযার সজ্ঞা : সুবহে সাদেক থেকে আরম্ভ করে মাগরিব পর্যন্ত আল্লাহর কাছে নতী স্বীকার বা তাঁর নৈকট্য হাসিলের উদ্দেশ্যে নয়টি কাজ (যা পরবর্তীতে বর্ণিত হবে) থেকে বিরত থাকাকে রোযা বলা হয়।

নিয়ত

মাসআলা : ১৫৩১- নিয়ত মুখে বা কলবের মাধ্যমে উচ্চারণ করার প্রয়োজন নেই বরং রোযার প্রতি চেতনা থাকলেই যথেষ্ট[1]। রোযার ব্যাপারে নিশ্চিত হবার জন্য ফজরের আজানের একটু আগে থেকে সেসব কাজ থেকে বিরত থাকা আবশ্যক।

মাসআলা : ১৫৩২- রমজান মাসের প্রতিদিনের রোযার নিয়ত তার আগের রাতে করা যেতে পারে।[2]

মাসআলা : ১৫৩৩- সজাগ ব্যক্তির জন্য নিয়ত করার শেষ সময় হল : ফজরের আজানের সময়। এহতিয়াতে ওয়াজিবের ভিত্তিতে তখন সেসব কাজ থেকে বিরত থাকার মনোবাসনা পোষণ করতে হবে।

মাসআলা : ১৫৩৪- মুস্তাহাব রোযার নিয়ত করার জন্য নির্দিষ্ট কোন সময় নেই বরং সারাদিন সেসব কাজ থেকে বিরত থেকে মাগরিবের একটু আগে নিয়ত করলেও রোযা সহীহ হবে।

মাসআলা : ১৫৩৫- আর যদি পুরো মাসের অথবা রোযার প্রতিদিনে ফজরের আজানের পূর্বে নিয়ত করা না হয়, তাহলে আজানের সময়ে ঘুমন্ত ব্যক্তি যখনই ঘুম থেকে জেগে উঠবে সেরূপ বাসনা পোষণ করবে; তবে যোহরের পরে ঘুম থেকে জাগা হলে আল্লাহর নৈকট্য হাসিলের উদ্দেশ্যে সেসব কাজ থেকে বিরত থাকতে হবে, কিন্তু পরে তার কাযাও আদায় করতে হবে।

মাসআলা : ১৫৩৬- রমজান মাসের রোযা ছাড়া অন্য কোন রোযার নিয়ত করার সময় সে রোযাকে নির্দিষ্ট করতে হবে। তবে মানত করার কারণে রোযা রাখা হলে নিয়তে তা উল্লেখ করা আবশ্যক নয়।

১৫৩৭- রমজান মাসের কথা জানার পরও যদি কেউ ইচ্ছা করে অন্য কোন রোযার নিয়ত করে, তাহলে কোন রোযাই সহীহ হবে না, এমনকি যদি সে নিয়ত কাসদে কোরবাতের সাথে বিরোধ হয়ে থাকে তবুও রমজান মাসের রোযা বলে পরিগণিত হবে না।

মাসআলা : ১৫৩৮- যদি রমজান মাসের প্রথম দিনের রোযার নিয়ত করার পর জানা যায় যে, তা রমজান মাসের দ্বিতীয় বা তৃতীয় দিন, তাহলে তা সহীহ হবে।

মাসআলা : ১৫৩৯- নিয়ত করার পর কেউ যদি সারাদিনের কোন একটি সময় বেহুঁশ বা অজ্ঞান হয়ে পড়ে ও তারপর হুঁশ বা জ্ঞান ফিরে পায়, তাহলে এহতিয়াতে ওয়াজিবের ভিত্তিতে তারপর থেকে মাগরিব পর্যন্ত সেসব কাজ থেকে বিরত থাকতে হবে; নতুবা পরে তার কাজা আদায় করতে হবে।

মাসআলা : ১৫৪০- নিয়ত করার পর কেউ যদি সারাদিনের কোন একটি সময় মাতাল হয়ে যায় ও তারপর সুস্থ হয়, তাহলে এহতিয়াতে ওয়াজিবের ভিত্তিতে তারপর থেকে মাগরিব পর্যন্ত পানাহার থেকে বিরত থাকতে হবে এবং পরে তার কাযাও আদায় করতে হবে।

মাসআলা : ১৫৪১- ফজরের আজানের পূর্বে নিয়ত করার পর কেউ ঘুমিয়ে গিয়ে যদি মাগারিবের পর ঘুম থেকে জেগে উঠে, তার রোযা সহীহ হবে।

মাসআলা : ১৫৪২- না জেনে বা রমজান মাসের কথা ভুলে গিয়ে যদি কেউ যোহর নামাযের আগে ঘুম থেকে জেগে উঠে এবং রোযা ভঙ্গের কিছু করে থাকে, তাহলে তার রোযা বাতিল বলে গণ্য হবে, তবে মাগরিব পর্যন্ত পানাহার থেকে বিরত থাকতে হবে এবং পরে তার কাযাও আাদায় করতে হবে। আর যদি যোহর নামাযের পরে জানতে পারে যে, রমজান মাস চলছে তবে মাগরিব পর্যন্ত ভরসা নিয়ে বিরত থাকতে হবে এবং পরে তার কাযাও আাদায় করতে হবে।

মাসআলা : ১৫৪৩- কোন বাচ্চা যদি ফজরের আজানের আগে বালেগ হয়, তাহলে তাকে ঐ দিনের রোযা রাখতে হবে নতুবা (যদি ফজরের আজানের পরে কোন বাচ্চা বালেগ হয়) সে রোযা ঐ বাচ্চার জন্য ওয়াজিব হবে না; তবে যদি সে মুস্তাহাব রোযার নিয়ত করে থাকে তাহলে তা পূর্ণ করতে হবে।

মাসআলা : ১৫৪৪- কাজা রোযা বা কারো রোযার দায়িত্ব নেয়ার পরও মুস্তাহাব রোযা রাখা যাবে, কিন্তু কারো নিজের রমজান মাসের রোযা কাজা থাকলে মুস্তাহাব রোযা রাখা যাবে না; আর কেউ যদি তারপরও নফল বা মুস্তাহাব রোযার নিয়ত করে থাকে, তখন যদি যোহরের আগে তা বুঝতে পারে, তাহলে সে নিয়ত পরিবর্তন করে রমজান মাসের রোযার নিয়ত করতে হবে; আর যদি যোহরের পরে তা বুঝতে পারে, তাহলে সে রোযা বাতিল বলে গণ্য হবে; কিন্তু মাগরিবের পর বুঝতে পারলে রোযা সহীহ হবে।

মাসআলা : ১৫৪৫- রমজান মাসের রোযা ছাড়া অন্য কোন নির্দিষ্ট ওয়াজিব রোযার নিয়ত যদি ইচ্ছা করে ফজরের আজান পর্যন্ত না করা হয়, সে রোযা বাতিল হয়ে যাবে। কিন্তু অনিচ্ছাসত্বেও কেউ যদি তা ভুলে যায় এবং যোহরের আগে তা স্মরণ হয়, তাহলে যদি সে রোযা ভঙ্গের কোন কাজ না করে থাকে এবং নিয়ত করে থাকে, তাহলে সে রোযা সহীহ হবে; আর যদি যোহরের পরে স্মরণ হয়, তাহলে রমজান মাসের এহতিয়াত সম্পর্কিত বিধান সেখানে পালন করতে হবে।

মাসআলা : ১৫৪৬- রমজান মাসের রোযা ছাড়া অন্য কোন অনির্দিষ্ট ওয়াজিব রোযা; যেমন : কাফ্‌ফারার রোযার নিয়ত যদি ইচ্ছা করে যোহরের আজানের কাছাকাছি সময় পর্যন্ত করা না হয়, কিন্তু যদি রোযা ভঙ্গের কোন কাজ না হয়ে থাকে এবং যোহরের আগে নিয়ত করা হয় সে রোযা সহীহ হবে।

মাসআলা : ১৫৪৭- রমজান মাসের দিনে যদি কোন কাফের মুসলমান হয়, তাহলে যদি সে রোযা ভঙ্গের কোন কাজ না করে থাকে; তবে এহতিয়াতে ওয়াজিবের ভিত্তিতে মাগরিব পর্যন্ত নিজের করণীয় হিসেবে তাকে রোযা ভঙ্গের কারণ থেকে বিরত থাকতে হবে এবং সে রোযা সহীহ হবে; কিন্তু যদি এরূপ না করে, তাহলে পরে ঐ দিনের কাজা আদায় করতে হবে।

মাসআলা : ১৫৪৮- রমজান মাসের মধ্যখানে কেউ যদি যোহরের আজানের আগে সুস্থ হয় এবং যদি রোযা ভঙ্গের কোন কাজ না করে থাকে, তাহলে এহতিয়াতে ওয়াজিবের ভিত্তিতে নিয়ত করে ঐ রোযা পূর্ণ করতে হবে। আর যদি যোহরের পরে কেউ সুস্থ হয়, তাহলে ঐ দিনের রোযা তার উপর ওয়াজিব হবে না এবং পরে তার কাযাও আদায় করতে হবে না।

মাসআলা : ১৫৪৯- শাবান মাস ও রমজান মাসের মাঝের দিন সম্পর্কে যদি সন্দেহ হয় যে, তা শাবান মাসের শেষ দিন না রমজান মাসের প্রথম দিন, তাহলে সেদিনের রোযা রাখা ওয়াজিব নয়, যদি সেদিন কেউ রোযা রাখতে চায়, তাহলে রমজান মাসের নিয়তে রোযা রাখা যাবে না, তবে নফল বা কাজা রোযার নিয়ত করে রোযা রাখা যাবে এবং যদি পরে বুঝা যায় যে, সেদিন রমজান মাসের প্রথম দিন ছিল তাহলে সে রোযার নিয়ত পরিবর্তন করতে হবে এবং তখন তা রমজান মাসের রোযা বলে পরিগণিত হবে। এমনকি যদি সার্বিকভাবে রোযার নিয়ত করা হয় এবং যদি পরে বুঝা যায় যে, সেদিন রমজান মাসের প্রথম দিন ছিল তাহলেও যথেষ্ট।

মাসআলা : ১৫৫১- কোন নির্দিষ্ট রোযা ভেঙ্গে ফেলার ব্যাপারে সন্দেহ করার পর কেউ যদি পুনরায় রোযার নিয়ত না করে, তাহলে সে রোযা বাতিল হয়ে যাবে; অন্যদিকে পুনরায় রোযার নিয়ত করা হলে এহতিয়াতে ওয়াজিবের ভিত্তিতে তা পূর্ণ করতে হবে এবং পরে তার কাজা আদায় করতে হবে।

মাসআলা : ১৫৫২- কোন মুস্তাহাব বা ওয়াজিব রোযা যা আদায় করার কোন নির্দিষ্ট সময় নেই যেমন কাফ্‌ফারার রোযা, তার নিয়ত করার পর কেউ যদি রোযা ভঙ্গের কোন কাজ করে বা রোযা ভাঙ্গার ব্যাপারে সন্দিহান হয় এবং না ভেঙ্গে থাকে, তাহলে যোহরের আগে ওয়াজিব রোযার জন্য এবং মাগরিবের আগে মুস্তাহাব রোযার জন্য নিয়ত করলে রোযা সহীহ হবে।