সুফিদের উদারতার কারনেই কি এদেশে ওহাবীজম প্রতিষ্ঠা পেয়েছে?

প্রথমেই প্রশ্নটির ব্যাখ্যা দেয়ার প্রয়োজন বোধ করছি। মূল প্রশ্নটি এরূপ: সুফিদের উদারতার কারনেই কি এদেশে ওহাবীজম/সালাফিজম প্রতিষ্ঠা পেয়েছে? নাকি সবই সৌদিআরবের পেট্রোডলারের খেইল?

যে সৌদিআরব ইয়েমেন-সিরিয়ার অসহায় মুসলমানদের জন্য বিন্দুমাত্র সহযোগিতা করছেনা। সিরিয়ার মুসলমানরা যখন না খেয়ে মরছে এবং আশ্রয়ের জন্য ছুটাছুটি করছে তখন সৌদি তাদের আশ্রয় না দিয়ে সীমানা বন্ধ করে দেয়। সেই সৌদিআরব কোটিডলার খরচ করে বাংলাদেশের মুসলমানদের জন্য ৫৬০টি মডেল মসজিদ বানিয়ে দিবে! এ কোন ভানুমতীর খেইল।

বাংলাদেশে ইসলামের বিশুদ্ধতা বলতে বুঝাতো সুফিজম ও হানাফি মাজহাব। সব ধর্মের প্রতিই ছিলো এরা সহনশীল। সব ধর্মের মানুষই এদের ধর্মীয় অনুষ্ঠানে অংশ নিতে পরতো। সবাইকে বাঙ্গালী ও মানুষ হিসেবেই দেখতো এরা।

কিন্তু ওহাবীরা/ সালাফিরা অমুসলিমদের বিষয়ে অনমনীয়। ভিন্ন মাজহাবের বিষয়ে তারা হিংস্র। তাই যখনই এদেশে ওহাবী/সালাফি মতের লোক আশা শুরু করলো তখন থেকেই মাজহাব দ্বন্দ্ব শুরু হলো, তরিকা দ্বন্দ্ব শুরু হলো। ইসলাধর্মে দলাদলি শুরু হলো। একদল আরেকদলকে কাফের বলছে, হামলা করছে, হত্যা করছে। মতের অমিল হওয়াতে হত্যা করা হয়েছে মাওলানা ফরুকিকে ও পীর দাবী করা পিডিবির সাবেক চেয়ারম্যান লুৎফুর রহমানকে, অতঃপর কাদিয়ানী মসজিদে করা হয়েছে হামলা। ওহাবীজমে ভিন্নমতের মানুষের স্থান নেই। ভিন্ন মতের স্থান নেই।

সুফিরা যে মানবতার কথা বলে গেছেন,আত্মশুদ্ধির কথা বলে গেছেন তার কিছুই আজ নেই।

এদেশে ওহাবীজম প্রতিষ্ঠার জন্য মধ্যপ্রাচ্যে বিপুল পরিমান বাংলাদেশী শ্রমিক আসা-যাওয়াও একটা বড় কারন। অন্যদিকে মাদ্রাসার পন্ডিতরাও মধ্যপ্রাচ্য থেকে দীক্ষা নেওয়া। তাই তারাও ছড়াচ্ছে ওহাবীজম। তার উপর চলছে সৌদিআরবের ডলার ডলার খরচ করে ওহাবীমত প্রতিষ্ঠার নীলনকশা।

পীর আউলিয়ার বাংলাদেশ হয়ে যাচ্ছে সৌদিমতাদর্শের ওহাবীজমের বাংলাদেশ। মুসলমানদের প্রতি সৌদির আগ্রহ নেই, মানবতার প্রতি তাদের আগ্রহ নেই, তাদের আগ্রহ ওহাবীজম প্রতিষ্ঠা করা। তাই বাংলাদেশে ডলার ডলার খরচ করে চলছে তাদের মসজিদ-মাদ্রাসা নির্মান।

মধ্যপ্রাচ্যের ওহাবীমতবাদ ধ্বংস করে দিবে বাংলার সংস্কৃতি, বাংলার ইতিহাস। তারাই পহেলা বৈশাখ নিয়ে ফতোয়া দিবে, শহীদ মিনারে ফুল দেওয়া নিয়ে ফতোয়া দিবে, তারাই লালনভক্তদের উপর হামলা করবে। তারাই জাতীয় সংগীতকে হারাম বলে নিষিদ্ধ করে দিবে। দেশে কোনও মুর্তি থাকবে না, ধ্বংস হবে সব। কথা বলা নিষিদ্ধ হবে, লেখালেখি নিষিদ্ধ হবে। স্বাধীনতা নিষিদ্ধ হবে।

তাই আসুন সবাই মিলে ইসলামের সঠিক ঝান্ডাকে আকড়ে ধড়ে নবীর আদর্শ প্রচার করি ও ওহাবীদের চেহারা সাধারণ মানুষের জন্য উম্মোচন করি।