স্বামীর প্রতি স্ত্রীর বিশেষ কর্তব্য

বিষয়টিকে এরূপভাবে উত্থোপন করা যেতে পারে:‎

পুরুষ প্রেম-ভালবাসার মুখাপেক্ষী

সকল মানুষই বন্ধুত্ব ও প্রেম-ভালবাসার পিপাসী এবং অন্যদের প্রেমিক হতে পছন্দ করেন। মানুষের অন্তর ‎প্রেম-ভালবাসা দ্বারা জীবিত রয়েছে। যিনি অন্যদের প্রেমিক নন বলে জানেন, তিনি নিজেকে নিঃসঙ্গ ও ‎একা গণ্য করেন এবং সর্বদাই বিবর্ণ ও বিষাদগ্রস্ত থাকেন।

হে সম্মানিত নারী! আপনার স্বামীও এই সহজাত অনুভূতি হতে খালি নন। তিনিও প্রেম ও ‎ভালবাসার পিপাসী। বিবাহের পূর্বে, তিনি পিতা-মাতার নিখুঁত প্রেম-ভালবাসা পেতেন; কিন্তু যখন ‎থেকে আপনারা দাম্পত্যের চুক্তি স্বাক্ষর করেছেন, তখন থেকে তিনি নিজেকে আপনার অধিনস্ত করেছেন এবং তাদের প্রেম-ভালবাসা আপনার পক্ষ থেকেও পাবার আশা করেন। ‎আরও আশা করেন যে, আপনি তাকে অন্তরের অন্তস্থল থেকে ভালবাসবেন। সবার থেকে ‎ভালবাসার সংযোগ কেটে দিয়ে আপনার সঙ্গে সংযুক্ত করেছেন এবং আশা করেন যে, আপনি ‎একাই, সবার ভালবাসার সমপরিমাণ তাকে ভালবাসা দিবেন। তিনি রাত-দিন ধরে আপনার ‎প্রশান্তি ও সুযোগ-সুবিধার জন্যে কষ্ট করছেন এবং স্বীয় কষ্টের ফলাফলকে আপনার হাতে তুলে ‎দিচ্ছেন। তিনি আপনার জীবনের অংশীদার এবং আপনার স্থায়ী সহচর ও প্রকৃত সমব্যথী। ‎এমনকি আপনার পিতা-মাতার চেয়েও বেশি তিনি আপনার সৌভাগ্য ও আনন্দের প্রতি সজাগ। ‎তার মূল্য অনুধাবন করবেন এবং অন্তরের অন্তস্থল থেকে তাকে ভালবাসবেন! যদি আপনি তাকে ‎ভালবাসেন, তাহলে তিনিও আপনাকে ভালবাসবেন। কারণ প্রেম-ভালবাসা একটি দ্বিপাক্ষিক ‎সংযোগ এবং দয়া ও ভালবাসা প্রকাশ প্রকৃতপক্ষে একটি অলৌকিক বিষয়।

প্রেম-ভালবাসা যদি দ্বিপাক্ষিক হয়, তাহলে দাম্পত্যের ভিত্তি সুদৃঢ় হবে এবং পৃথক হওয়ার ‎ভয়ও দূরিভূত হবে।

এ বলে গর্বিত হবেন না যে, আমার স্বামী এক দৃষ্টিতেই আমার প্রতি আগ্রহী হয়ে ‎উঠেছেন এবং তার ভালবাসা সর্বদাই অটুট থাকবে। কেননা, যে ভালবাসা এক দৃষ্টিতেই সৃষ্টি হয়, ‎তা মোটেই স্থায়ী হয় না। যদি তার ভালবাসাকে অটুট রাখতে চান, তাহলে স্থায়ী প্রেম-ভালবাসা ‎দ্বারা সেটিকে নিজের জন্যে সংরক্ষণ করেন। আপনি যদি আপনার স্বামীকৈ ভালবাসেন, তাহলে ‎সর্বদাই তার অন্তর সজীব ও তরতাজা থাকবে, আয়-উপার্জনে তিনি সদা তৎপর থাকবেন এবং ‎জীবনের প্রতি আগ্রহী ও সকল কাজকামে কৃতকার্য হবেন। তিনি যদি জানেন যে, তিনি ‎প্রকৃতপক্ষে স্বীয় স্ত্রীর প্রেমিক, তাহলে তিনি নিজ পরিবারের সৌভাগ্য ও সুযোগ-সুবিধা যোগানোর ‎জন্যে আপ্রাণ চেষ্টা ও আত্মত্যাগ করবেন। যে পুরুষ প্রেম-ভালবাসায় ঘাটতি অনুভব করবেন ‎না, তিনি খুব কমই আত্মিক রোগ-ব্যধী ও স্নায়ুবিক দুর্বলতার সম্মুখীন হবেন।

হে সম্মানিত নারী! আপনার স্বামী যদি জানতে পারেন যে, আপনি তাকে ভালবাসেন না, ‎তাহলে তিনি আপনার উপর থেকে হতোদ্যম হয়ে যাবেন, জীবন ও আয়-উপার্জনের প্রতি ‎বিরাগভাজন হয়ে উঠবেন, মানসিক পীড়া ও রোগ-ব্যধীতে আক্রান্ত হয়ে উঠবেন, গৃহ ও পরিবার ‎হতে পলায়ন করতঃ জীবন ময়দানে দিশেহারা হয়ে উঠবেন। হতে পারে, নিরুপায় হয়ে ‎পাপাচারের আড্ডাখানায়ও আশ্রয় নিতে পারেন। এরূপ ব্যক্তিই নিজে নিজে এ বলে চিন্তা করতে ‎পারেন যে, কেন আমি কষ্ট করব এবং আমার কষ্টার্জিত ফলকে এমন লোকদের হাতে প্রদান ‎করব যারা আমাকে ভালবাসে না? শ্রেয়তর হবে, বিলাসিতা ও মুক্ত জীবনের অনুসন্ধান করব ‎এবং আমার নিজের জন্যে প্রকৃত বন্ধু-বান্ধব খুঁজব।

হে সম্মানিত নারী! ভালবাসার সূত্রকে আপনার  স্বামীর কাঁধে অর্পণ করুন এবং এর ‎মাধ্যমে তাকে গৃহ ও পরিবারের দিকে আকর্ষণ করুন! সম্ভবতঃ আপনি আপনার স্বামীকে ‎আন্তরিকভাবে ভালবাসেন; কিন্তু এতটুকুই যথেষ্ট নয়। বরং তা ভাষায় ব্যক্ত করুন এবং আরও ‎শ্রেয়তর হবে যে, আপনার আচার-ব্যবহার, কথাবার্তা ও চলাফেরায় প্রেম ও অনুরাগের ছাপ যেন ‎প্রকাশ পায়। কখনও কখনও এ কথা বলতে কি সমস্যা আছে যে, ‘হে প্রিয়তম! প্রকৃতপক্ষেই ‎আমি তোমাকে ভালবাসি?’ কিংবা, তিনি কোনো প্রবাস হতে আগমন করলে, তাকে আপনি নতুন ‎পোশাক অথবা ফুলের তোড়া উপহার দেন এবং বলেন: ‘তোমার আগমন করাতে কতই না ভাল ‎হল, আমার অন্তর তোমার জন্যে উদ্বেলিত হয়ে উঠেছিল।’ তার প্রবাস অবস্থায়, তাকে আপনি ‎পত্র লিখেন এবং তার দূরুত্ব ও পৃথক হওয়াকে কেন্দ্র করে আপনার অন্তরের বেদনা জানান। যদি ‎সাধারণ অবস্থার চেয়ে বিলম্বে আগমন করেন, তাহলে আপনি প্রকাশ করেন: ‘তোমার আসার ‎অপেক্ষায় ছিলাম এবং তোমার আসতে বিলম্ব হওয়ার কারণে আমি চিন্তিত ছিলাম।’‎

তার অনুপস্থিতিতে বন্ধু-বান্ধব ও আত্মীয়-স্বজনের নিকট তার প্রশংসা করুন! আর যদি ‎কেউ, তার সম্পর্কে বদনাম করতে চায়, তাহলে আপনি আপনার  স্বামীর পক্ষ্যে প্রতিরক্ষা ‎করুন! আপনি যতই বেশি তার প্রতি প্রেম-ভালবাসা ও অনুরাগ প্রকাশ করবেন, তিনি ততই ‎বেশি আপনার প্রতি অনুরাগী হয়ে উঠবেন এবং তার ফলে, আপনাদের দাম্পত্য জীবনের সংযোগ ‎দৃঢ়তর হবে, আর আপনি একটি সৌভাগ্যবান পরিবার লাভ করবেন।

সেক্সপিয়ার বলেন: ‘নারীর যে জিনিসটি আমার হৃদয়কে বশীভূত করে তা হচ্ছে তার ‎অনুগ্রহ ও স্নেহ, না তার বায্যিক সৌন্দর্য। আমি সেই নারীকে অধিকতর ভালবাসি যে অধিকতর ‎অনুগ্রহ ও স্নেহশীল।’‎

মহান আল্লাহ কুরআনুল করিমে,  স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে বিদ্যমান প্রেম ও অনুরাগের প্রতি ইঙ্গিত ‎করেছেন এবং সেটিকে স্বীয় শক্তিমত্তার অন্যতম নিদর্শন গণ্য করেছেন: ‘আল্লাহর অন্যতম ‎নিদর্শন এই যে, তিনি তোমাদের জন্যে তোমাদের শ্রেণী হতে স্ত্রীদেরকে সৃষ্টি করেছেন, যাতে ‎তোমরা তাদের সঙ্গে অন্তরঙ্গ হতে পার; আর তোমাদের মাঝে প্রেম ও ভালবাসা স্থাপন করেছেন...।

হজরত ইমাম রেজা [আ.] বলেন: ‘অনেক নারী তাদের  স্বামীদের জন্যে সর্বোত্তম গনিমত, ‎তারা সেসব নারী যারা তাদের  স্বামীর প্রতি প্রেম-ভালবাসা ও অনুরাগ প্রকাশ করেন।’‎

রসুল আকরাম [সা.] বলেন: ‘তোমাদের মাঝে সর্বোত্তম নারী তারাই যারা প্রেম-ভালবাসা ‎ও অনুরাগের অধিকারিনী।’‎

ইমাম সাদেকও [আ.] বলেন: ‘তুমি কাউকে ভালবাসলে, তাকে তা অবহিত কর!’‎