স্বামী-স্ত্রীর সর্বপ্রথম দায়িত্ব

নতুন জীবনের প্রারম্ভে ¯^vgx-¯¿x পরস্পরকে চিনা আবশ্যক। পরস্পরের চিন্তার ধরন, চরিত্র, চাহিদাসমূহ, শারীরিক প্রবণতা ও সক্ষমতাকে জানা দরকার। পরস্পরের দুর্বল ও সবল বিষয়সমূহ সম্পর্কে অবগতি অর্জন করা প্রয়োজন। আর এই পরিচিতি, দাম্পত্য জীবনের ভিত্তিকে সুদৃঢ়, জীবনকে সুশৃঙ্খল করার পদ্ধতি অর্জন, আকাঙ্খাসমূহের ভারসাম্য রক্ষা এবং উপস্থিত দ্রব্য-সামগ্রি হতে সর্বোচ্চ ব্যবহারের উদ্দেশ্যে হতে হবে; না দোষ-ত্রুটি A‡š^lY এবং বিপরীত ব্যক্তির দুর্বল বিষয়সমূহ আবিষ্কারের উদ্দেশ্যে। সংক্ষিপ্ত কথা এই যে, এই পরিচিতি অবশ্যই সংশোধন, কল্যাণ কামনা ও পারিবারিক ভিত্তি সুদৃঢ় করার উদ্দেশ্যে হতে হবে; না দোষ-ত্রুটি ও wQ`ªv‡š^lY এবং সমস্যা সৃষ্টির জন্যে।

        যদি এই দৃষ্টিকোণ হতে পরস্পরের পরিচিতি অর্জন করার উদ্যোগ গ্রহণ করেন এবং পরস্পরের মধ্যে কোনো দুর্বল বিষয় খুঁজে পান, তাহলে কোনোক্রমেই গণ্ডগোলের সূত্রপাত করবেন না! বরং বিদ্যমান অবস্থাকে সংশোধন করার চেষ্টা করবেন! দুর্বল বিষয়টি দুই অবস্থা থেকে খালি নয়: হয় শারীরিক কিংবা চারিত্রিক ও মানসিক ত্রুটি। যদি শারীরিক ত্রুটিটি সংশোধনের যোগ্য হয়, তাহলে উপায় খুঁজার উদ্যোগ নিতে হবে এবং সাধারণ পদ্ধতিতেই সেটিকে সংশোধন করতে হবে। আর যদি শারীরিক ত্রুটিটি সংশোধনের যোগ্য না হয়, তাহলে বিদ্যমান অবস্থার সঙ্গেই ¯^xq জীবনকে খাপ খাওয়াতে হবে এবং জীবনের অন্তিমকাল পর্যন্ত পরস্পরে মিলে জীবন যাপন করতে হবে। আর যদি চারিত্রিক ও মানসিক ত্রুটি হয়, তাহলে পারস্পরিক কল্যাণ কামনা ও সমঝোতার মাধ্যমে তা সংশোধন করার উদ্যোগ নিতে হবে। যদি সহনশীলতা ও নম্রতার সঙ্গে কাজ করেন তাহলে অধিকাংশ ক্ষেত্রেই সংশোধন হয়ে প্রায় ভারসাম্যপূর্ণ হয়ে যাবে। আর যদি চারিত্রিক ত্রুটি সংশোধনের সামর্থ্য না পান, তবুও তাদের জন্যে কল্যাণকর হবে যে, ক্ষমা ও উপেক্ষা করার মাধ্যমে সেটিকে দেখেও না দেখার ভান করতে হবে এবং বিদ্যমান অবস্থার সঙ্গে নিজেকে খাপ খাওয়াতে হবে। পুরুষ যদি ¯^xq স্ত্রীর মাঝে কোনো ত্রুটি দেখেন এবং উপলব্ধি করেন যে, তা সংশোধনের যোগ্য নয়, তাহলে ¯^xq স্ত্রীকে সেই ত্রুটিসহই গ্রহণ করবেন এবং এমর্মে সিদ্ধান্ত নিতে হবে যে, যে কোনো প্রক্রিয়াই হোক না কেন তার সঙ্গে জীবন যাপন করব। D`vniY¯^iƒc: যদি তার স্ত্রী উত্তেজিত ও রগচটা হন, তাহলে তার উত্তেজিত হওয়ার উপকরণগুলো প্রস্তুত করতে হবে না। আর যদি তিনি উত্তেজিত হয়ে উঠেন তাহলে সহনশীলতা ও ক্ষমা প্রদর্শন করতে হবে। যদি তিনি দ্রুত দুঃখ ও ব্যথা-বেদনা অনুভব করেন, তাহলে তার দুঃখ ও ব্যথা-বেদনার উপকরণগুলো তৈরী না করার চেষ্টা করতে হবে। যদি দুঃখিতা হয়ে উঠেন তাহলে তার মনোরঞ্জন করতে হবে। যদি জীবন যাপনে তিনি বিশৃঙ্খল হন এবং তার ক্ষেত্রে গুরুত্বারোপ ও উপদেশ ফলপ্রসূ না হয়, তাহলে ক্ষমা ও আত্মত্যাগের মাধ্যমে নিজেকে বিদ্যমান অবস্থার সঙ্গে খাপ খাওয়াতে হবে, অংশবিশেষকে দেখেও না দেখার ভান করতে হবে এবং কতককে নিজেকেই সুশৃঙ্খল করতে হবে। যদি তিনি দ্বিধা-সংশয় ও হতাশাবাদিনী হন, তাহলে তার হতাশাবাদিতার উপকরণগুলো প্রস্তুত করতে হবে না এবং তার হতাশাবাদিতা ও খারাপ ধারণাকে নম্রতা ও কল্যাণকামিতার মাধ্যমে দূরিভূত করার চেষ্টা করতে হবে- ইত্যাদি।

        যাই হোক, ¯^vgx ও স্ত্রীকে খেয়াল রাখতে হবে যে, মাসুম ও নিষ্পাপ ব্যক্তি (আ.) ব্যতীত অপর কেউই দোষ-ত্রুটিহীন নন। তবে সর্বশেষ এটি বলা যেতে পারে যে, প্রত্যেক মানুষেরই আলাদা আলাদা দোষ-ত্রুটি রয়েছে। মানুষের চিন্তা করা উচিত যে, তিনি নিজে কি ত্রুটিহান যে, ¯^xq স্ত্রীর সম্পূর্ণরূপে ত্রুটিহীনতার অপেক্ষা রাখবেন? অবশ্য অধিকাংশ দোষ-ত্রুটিই উপেক্ষা করার যোগ্য এবং সেসব সয্য করার মাধমে আনন্দিত ও মনোরম জীবন যাপন করা যেতে পারে। এটি কি অনুতাপের বিষয় নয় যে, মানুষ একটি ছোট-খাট দোষ-ত্রুটি লক্ষ্য করলেই জীবনকে নিজের ও ¯^xq স্ত্রীর নিকট তিক্ত ও অপ্রিয় করে তুলবেন?

        যাই হোক, জীবনের প্রারম্ভে ¯^vgx ও স্ত্রীর সর্বাধিক গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব হল পরস্পরকে চেনা এবং পরবর্তী পর্যায়ে পরিবার পরিচালনার নিয়ম-পদ্ধতি শিখা। ধারণা করবেন না যে, পরিবার পরিচালনা করা একেবারেই সহজ কাজ। বরং এটি একটি অতিব সূক্ষ্ম ও অনুভূতিশীল কৌশল এবং এটি জ্ঞান ও অবগতির মুখাপেক্ষী।

        ¯^vgx ও স্ত্রীর উচিত হবে, জীবনের প্রারম্ভেই পরিবার পরিচালনার কৌশল শিখা এবং কাজে পরিণত করা। আর যদি এ ব্যাপারে অলসতা দেখান, তাহলে অদূর ভবিষ্যতে এর খারাপ পরিণতি দেখতে পাবেন। সে সময় সংশোধন করাটা কঠিন হয়ে পড়বে, এমনকি একেবারেই অসম্ভব হয়ে পড়বে।

        স্মরণ করা আবশ্যক যে, বিবাহের প্রথম কালগুলো, অর্থাৎ দাম্পত্য জীবনের প্রথম দুই, তিনটি বছর, অতিব অনুভূতিশীল ও গুরুত্বপূর্ণ কাল এবং প্রকৃতপক্ষে বিপদজনকও বটে। কারণ যে ছেলে ও মেয়েটি নতুন জীবন যাপন শুরু করছেন, তারা ইতিপূর্বে পরিবার পরিচালনার জন্যে প্রস্তুত হন নি। এই কারণে, অধিকাংশ ক্ষেত্রেই তাদের চলাফেরা হিসাবকৃত নয়। ফলে নিরুপায় হয়েই তাদেরকে অভিজ্ঞতা ও দীর্ঘ সময়ের পরিক্রমায় পরিবার পরিচালনার নিয়ম-পদ্ধতি শিখতে হবে। আর µgvš^‡q নিজেদেরকে ভারসাম্যপূর্ণ করতে হবে এবং নতুন শর্তাদির সঙ্গে খাপ খাওয়াতে হবে। যেহেতু তারা কাঁচা ও অভিজ্ঞতা শুন্য সেহেতু সম্ভবতঃ কোনো বিপদজনক কাজের পদক্ষেপ নিতে পারেন এবং পারিবারিক ভিত্তিকে বিলুপ্তির মুখে উপনীত করতে পারেন।

        এমনও অগণিত লোক রয়েছেন যারা জীবনের সূচনাকালগুলোতেই তাড়াহুড়া ও অযৌক্তিক জিদ করার কারণে ¯^xq বিবাহের ভিত্তিকে তছনছ করে দিয়েছেন। অথচ তারা যদি একটু ধৈর্য ধরতেন ও সহনশীলতা দেখাতেন তাহলে পরস্পরকে সয্য করার মাধ্যমে জীবন যাপন অব্যাহত রাখতে পারতেন। সুতরাং যুবক নববর ও যুবতী নববধুগণকে অনুরোধ করব যে, বিবাহের প্রথমকালগুলোতে অধিকতর ধৈর্য ধরবেন এবং পরিণতির কথা চিন্তা করবেন, ¯^xq স্নায়ুসমূহের ভারসাম্যতা রক্ষা করবেন, যে কোনো প্রকারের উগ্রতামূলক পদক্ষেপ নেয়া হতে সম্পূর্ণরূপে বিরত থাকবেন এবং সমঝোতা ও ন্যায়নীতির মাধ্যমে নিজেদের সমস্যাসমূহের সমাধান করবেন! এমনকি যদি অনুভব করেন যে, আপনাদের বিবাহ অব্যাহত থাকা সম্ভব নয়, তবুও তালাকের ক্ষেত্রে তাড়াহুড়া করবেন না! শ্রেয়তর হবে, বিষয়টিকে সজাগ ও কল্যাণকামী ব্যক্তিদের গোচরীভূত করবেন এবং তাদের মতামত কামনা করবেন! জিদ ও একগুঁয়েমী হতে বিরত হবেন এবং বিষয়টিকে চুলচেরাভাবে বিশ্লেষণ করবেন, অতঃপর কল্যাণ অনুযায়ী কাজ করবেন!