হযরত আলীর ভাষ্যে খোদা পরিচিতি ও আল্লাহর গুণবৈশিষ্ট

সঙ্কলনে: আলহাজ্ব ড. মো. সামিউল হক

হযরত আলী (আ.) 'র আধ্যাত্মিক জ্ঞান অনুধাবন করে তাঁর অনেক ভক্তবৃন্দ বাড়াবাড়ি করে এমন পর্যায়ে চলে গিয়েছিল যে, তাকে আল্লাহর সাথে শরিক করতেও দ্বিধাবোধ করে নি। অথচ স্বয়ং আলী (আ.) আল্লাহর একত্ববাদ ও তৌহিদের প্রতি এতটাই যুক্তিশীল ছিলেন যেরূপ যুক্তি আজ পর্যন্ত কেউ তুলে ধরেন নি। নাহজুল বালাগার প্রথম খোৎবার শুরুতে আল্লাহর প্রশংসা করতে গিয়ে তিনি আল্লাহর বিশেষত্বসমূহ এভাবে তুলে ধরেন:

প্রশংসা আল্লাহর জন্য যার গুণরাজী কোন বর্ণনাকারী বর্ণনা করে শেষ করতে পারে না। তাঁর নেয়ামতসমূহ গণনাকারীরা গুনে শেষ করতে পারে না। প্রচেষ্টাকারীগণ তাঁর নেয়ামতের হক আদায় করতে পারে না। গভীর চিন্তাসমূহ তাঁকে অনুভব করতে পারে না এবং অতি শুক্ষ চিন্তা দ্বারাও তাঁর কাছে পৌঁছা সম্ভব নয়। তিনি এমন সত্তা যার গুণ বর্ণনার কোন পরিসীমা নির্ধারিত নেই এবং সেজন্য কোন লেখা বা বক্তব্য, কোন সময় বা স্থিতিকাল নির্দিষ্ট করা হয় নি। তিনি নিজ কুদরতে সৃষ্টিকে অস্তিত্বশীল করেছেন, আপন করুনায় বাতাসকে প্রবাহিত করেছেন এবং শিলাময় পাহাড় দ্বারা কম্পমান পৃথিবীকে সুদৃঢ় করেছেন।

আল্লাহর মারেফাতই দ্বিনের ভিত্তি। এ মা’রেফাতের পরিপূর্ণতা আসে তাঁকে সত্য বলে সাক্ষ দেয়ায়; সাক্ষের পরিপূর্ণতা হয় তাঁর তৌহিদের বিশ্বাসে; বিশ্বাসের পরিপূর্ণতা হয় তাঁর প্রতি ঐকান্তিকতার (এখলাসের) মাধ্যমে; ঐকান্তিকতার পূর্ণতা অর্জিত হয় তাঁর প্রতি কোন গুণ আরোপ না করায়। কারণ কোন কিছুতে গুণ আরোপিত হলে এটাই প্রমাণিত হয় যে, আরোপিত বিষয় থেকে গুণ পৃথক এবং যার ওপর গুণ আরোপিত হয় সে নিজে সেই গুণ থেকে পৃথক। যে কেউ আল্লাহতে সত্তা বহির্ভূত কোন সিফাত বা গুণ আরোপ করে সে তাঁকে ঐ গুণের আপেক্ষিক সদৃশতার স্বীকৃতি দেয়; যে তাঁর সদৃশতা স্বীকার করে সে দ্বৈতবাদের স্বীকৃতি দেয়; যে তাঁর দ্বৈতের স্বীকৃতি দেয় সে তাঁকে খন্ডভাবে দেখে; যে তাকে খন্ডভাবে দেখে সে তাঁকে ভুল বুঝে;  যে তাঁকে ভুল বুঝে সে তাঁর দিকে ঈশারা করে; যে তাঁর দিকে ঈশারা করে সে তাঁকে সীমাবদ্ধ করে; যে তাঁকে সীমাবদ্ধ করে সে তাঁকে শুধু গণনা করল।

 যদি কেউ বলে তিনি কিসের মধ্যে, সে তাঁকে কিছুর মধ্যে স্থান দিল; এবং যদি কেউ বলে তিনি কিসের ওপর আছেন, সে কিছু কিছু স্থানকে আল্লাহবিহীন মনে করল। (ঐ ব্যক্তি জেনে নিক) তিঁনি (নির্দিষ্ট কোন কিছুর ওপর নেই কারণ) তখন থেকে আছেন যখন কোন কিছুই সৃষ্টি হয় নি। তিনি ওই সত্তা যাঁর আগমন সৃষ্টি প্রক্রিয়ার মাধ্যমে ঘটে নি। তিনি অস্তিত্বশীল, কিন্তু অনস্তিত্ব থেকে অস্তিত্বে আসেন নি। (তিঁনি অনস্তিত্ব থেকে অস্তিত্বশীল হন নি।) তিনি সব কিছুতেই আছেন, কিন্তু কোন প্রকার ভৌত নৈকট্য দ্বারা নয়। তিনি সব কিছু থেকে ভিন্ন, কিন্তু বস্তুগত দ্বান্দ্বিকতা ও বিচ্ছেদের মধ্য দিয়ে নয়। তিনি কর্ম সম্পাদন করেন কিন্তু সঞ্চলন ও হাতিয়ারের মাধ্যমে নয়। তিনি তখনও দেখতেন যখন তাঁর সৃষ্টি মধ্যে দেখার মতো কিছু সৃষ্টি হয় নি। তিনিই একমাত্র একক শত্ত্বা, যখন এমন কিছুই ছিল না, যার সাথে তিনি সঙ্গ রাখতেন অথবা যার অনুপস্থিতির কারণে (একাকিত্বের) আতঙ্ক অনুভব করতেন।

الْحَمْدُ لِلَّهِ الَّذِي لَا يَبْلُغُ مِدْحَتَهُ الْقَائِلُونَ، وَ لَا يُحْصِي نَعْمَاءَهُ الْعَادُّونَ، وَ لَا يُؤَدِّي حَقَّهُ الْمُجْتَهِدُونَ، الَّذِي لَا يُدْرِكُهُ بُعْدُ الْهِمَمِ، وَ لَا يَنَالُهُ غَوْصُ الْفِطَنِ، الَّذِي لَيْسَ لِصِفَتِهِ حَدٌّ مَحْدُودٌ، وَ لَا نَعْتٌ مَوْجُودٌ وَ لَا وَقْتٌ مَعْدُودٌ، وَ لَا أَجَلٌ مَمْدُودٌ، فَطَرَ الْخَلَائِقَ بِقُدْرَتِهِ، وَ نَشَرَ الرِّيَاحَ بِرَحْمَتِهِ، وَ وَتَّدَ بِالصُّخُورِ مَيَدَانَ أَرْضِهِ: أَوَّلُ الدِّينِ مَعْرِفَتُهُ وَ كَمَالُ مَعْرِفَتِهِ التَّصْدِيقُ بِهِ، وَ كَمَالُ التَّصْدِيقِ بِهِ تَوْحِيدُهُ، وَ كَمَالُ تَوْحِيدِهِ الْإِخْلَاصُ لَهُ، وَ كَمَالُ الْإِخْلَاصِ لَهُ نَفْيُ الصِّفَاتِ عَنْهُ، لِشَهَادَةِ كُلِّ صِفَةٍ أَنَّهَا غَيْرُ الْمَوْصُوفِ، وَ شَهَادَةِ كُلِّ مَوْصُوفٍ أَنَّهُ غَيْرُ الصِّفَةِ، فَمَنْ وَصَفَ اللَّهَ سُبْحَانَهُ فَقَدْ قَرَنَهُ، وَ مَنْ قَرَنَهُ فَقَدْ ثَنَّاهُ وَ مَنْ ثَنَّاهُ فَقَدْ جَزَّأَهُ، وَ مَنْ جَزَّأَهُ فَقَدْ جَهِلَهُ وَ مَنْ‏ جَهِلَهُ فَقَدْ أَشَارَ إِلَيْهِ، وَ مَنْ أَشَارَ إِلَيْهِ فَقَدْ حَدَّهُ وَ مَنْ حَدَّهُ فَقَدْ عَدَّهُ، وَ مَنْ قَالَ فِيمَ فَقَدْ ضَمَّنَهُ، وَ مَنْ قَالَ عَلَا مَ فَقَدْ أَخْلَى مِنْهُ: كَائِنٌ لَا عَنْ حَدَثٍ مَوْجُودٌ لَا عَنْ عَدَمٍ، مَعَ كُلِّ شَيْ‏ءٍ لَا بِمُقَارَنَةٍ وَ غَيْرُ كُلِّ شَيْ‏ءٍ لَا بِمُزَايَلَةٍ، فَاعِلٌ لَا بِمَعْنَى الْحَرَكَاتِ وَ الْآلَةِ، بَصِيرٌ إِذْ لَا مَنْظُورَ إِلَيْهِ مِنْ خَلْقِهِ، مُتَوَحِّدٌ إِذْ لَا سَكَنَ يَسْتَأْنِسُ بِهِ وَ لَا يَسْتَوْحِشُ لِفَقْدِهِ

সূত্র: নাহজুল বালাগা, খোৎবা নং ১।