হযরত মুহাম্মদ(সা.) ও তাঁর আহলে বাইতের প্রতি দূরুদ পড়ার ফজিলত

সঙ্কলনে: আলহাজ্জ ড. মো. সামিউল হক

বিসমিল্লাহির রাহমানির রহিম  রাহমানির রাহিম

দূরুদ পড়ার ফজিলতের বিষয়ে মুসলিম সমাজের মধ্যে কোন বিরোধ নেই এবং ছোট্ট একটি গোষ্টি ছাড়া সকলেই তা পড়ার প্রতি আগ্রহ পোষণ করে থাকেন।  এই ছোট গোষ্টির মধ্যে ওহাবি গ্রুপ অন্যতম।  তবে তারাও দূরুদ ও সালামের বিরোধিতা করে না। 

কারণ স্বয়ং মহান আল্লাহ তা’য়ালাই এরশাদ করেন:

اِإنَّ اللهَ وَ مَلائِکَتَهُ یُصَلّونَ عَلَی النّبیَّ یاَ أیُّهَا الَّذینَ آمَنوا صلّوا عَلیهَ و سَلِّمُوا تَسلیماً

আল্লাহ এবং তাঁর ফেরেশতারা  নবীর উপর দূরুদ প্রেরণ করেন; হে  মুমিনগণ তোমরাও তাঁর উপর দূরুদ পড় এবং তাঁর আদেশের প্রতি পরিপূর্ণরূপে অনুগত হও।  (সূরা আহযাব-৫৬)

এর কারণস্বরূপ আল্লাহ তা’য়ালা বলেন:

لَقَدْ كَانَ لَكُمْ فِي رَسُولِ اللَّهِ أُسْوَةٌ حَسَنَةٌ لِّمَن كَانَ يَرْجُو اللَّهَ وَالْيَوْمَ الْآخِرَ وَذَكَرَ اللَّهَ كَثِيرًا 

প্রকৃত পক্ষে তোমাদের মধ্যে যারা আল্লাহ ও ফিয়ামত দিবসের প্রতি আশা করে তাদের জন্য রাসূলের মধ্যে রয়েছে উত্তম আদর্শ।  (সূরা আহযাব-২১)

হাদিসের ভাষ্যে দূরুদ পড়ার ফযিলতঃ

১।  কানযুল উম্মালে ‘ইমাম হাসান’ থেকে তিনি মহানবী (সা.) হতে বর্ণিত হয়েছে যে, বলেনঃ

أکثِرُوا الصَّلاةَ عَلَيَّ. فَإنَّ صَلاتَکُم عَلَيَّ مَغفِرَةُ لِذُنُو بِکُم.

আমার প্রতি অধিক দূরুদ পড়; কারণ, আমার প্রতি তোমাদের দূরুদ তোমাদের গুণাহ মাফের উপায় হবে। [কানযূল উম্মাল খঃ১ পৃঃ৪৩৬  ]

২।  অনুরূপ আবুদারদা থেকে, তিনি রাসূল (সা.) থেকে বর্ণিত হয়েছে যে, তিনি বলেনঃ

مَن صَلّي عَلَيَّ حينَ يُصبِحُ عَشراً وَ حينَ يُمسي عَشراً أدرَ کَتهُ شَفاعَتي.

যে প্রতি সকাল ও সন্ধ্যায় ১০ বার আমার উপর দূরুদ পড়ে আমার শাফা’য়াত তাকে স্পর্শ করবে।  [কানযূল উম্মাল পৃঃ৪৩৯]

৩।  সাহল ইবনে সা’দ থেকে বর্ণিত হয়েছেঃ

قَدِمَ رَسُولَ الله ص. فَاءذا بِأبي طَلحَة, فَقامَ إلَيهِ فَتَلَقّاه فَقالَ : بِأبي اَنتَ وَ اُمّي يا رَسُولَ الله إنّي لَأرَي السُّرُورَ في وَجهِکَ , قالَ ص. أتاني جبرئيلُ آنفاً فقالَ: يا مُحمّد! مَن صَلّي عَلَيکَ مَرَّةً کَتَبَ اللهُ بِها عَشرَ حَسَناتٍ وَ مَحي عَنهُ عَشرَ سَيِّئاتٍ وَرَ فَعَ لَهُ بِها عَشرَ دَرَجاتٍ

রাসূল (সা.) প্রবেশ করলে আবু তালহা তাঁর নিকট দ্রুত পৌঁছলেন, তাঁকে অভ্যর্থনা জানালেন এবং বললেনঃ ‘আমার পিতা-মাতা আপনার জন্য উৎসর্গিত হোক হে আল্লাহর রাসূল! আপনার চেহারাতে আনন্দ উপলব্দি করচ্ছি। আল্লাহর রাসূল (সা.) বলেনঃ জিব্রাইল (আ.) সবেমাত্র আমার নিকট এসেছিলেন ও বললেনঃ হে মুহাম্মাদ! যে কেউ একবার আপনার উপর দূরুদ পড়ে মহান আল্লাহ তাকে দশটি (হাসানাহ) পুরস্কার দেন, দশটি অপকর্ম ও গুনাহ থেকে তাকে মুক্ত করেন এবং তাকে দশ ধাপ উপরে তুলেন।  [কানযুল উম্মাল খঃ১, পৃঃ৪৩৬,৪৪৮,খঃ২ পৃঃ১৭৯ এ রেওয়ায়েতটি আবু তালহার ভাষায় এরূপ অতিরিক্তি সহকারে এসেছে  এবং ফেরশতা তাকে (=দূরুদ পাঠকারীকে) সেটিই বলে যা তোমাকে বলা হয়েছে।  বললামঃ হে জিব্রাইল! এ ফেরেশতাটিকে? বললেনঃ মহিয়ান আল্লাহ যখন আপনাকে সৃষ্টি করেছেন তখন থেকে আপনার নবুওতি অভিষেকের (নেবুওয়াতের ঘোষণা দেয়া ) সময় পর্যন্ত দু’টি ফেরেশতা আপনার জন্য নিযুক্ত করা হয়েছে।  আপনার এমন কোন উম্মত নেই যে দূরুদ পড়েনি আর ফেরেশতা তাকে বলেনিঃ মহান আল্লাহ তোমার উপর দূরুদ পাঠিয়েছেন।  কানযুল উম্মাল খঃ১ পৃঃ৪৪০,৪৪৯এবং খঃ২ পৃঃ১৮১। এ রেওয়াতেটি  সাঈদ ইবনে ওমর আনসারী ও আবু বারদা বিন নাইয়র ও আনাস থেকে ও বর্ণিত হয়েছে।  কানযুল উম্মল খঃ১,পৃঃ৪৩৮-৪৩৯ এবং ৪৪৮-৪৪৯ সূনানে নাসাঈ খঃ৩, পৃঃ৫০ কিতাবুস সালাত।  অধ্যায় মাহানবীর উপর দূরুদের ফযিলত।  ফারায়িদুল সাযাতিন,খঃ১ পৃঃ২৪, তারিখে বাগদাদ খঃ৮ পৃঃ২৮১]

৪।  সহী মুসলিম, সূনানে তিরমিযি, সূনানে নাসাঈ, মুসনাদে আহমাদ এবং এছাড়া আবু হোরায়রা থেকে এসেছে ৪ যে, রাসূল (সা.) বলেনঃ

     مَن صَلّي عَلَيَّ و احِداً صلَّي اللهُ عَلَيهِ عَشراً

যে কেউ আমার উপর একবার দূরুদ পড়ে মহান আল্লাহ তার উপর দশবার দূরূদ পাঠান। [সহী মুসলিম খঃ১,পৃঃ৩০৬, কিতাবুস সলোত, সালাওয়াত আলান্নবী (আঃ) অধ্যায়।  সুনানে তিরমিযি খঃ২ পৃঃ২৭০, সুনানে নাসাঈ খঃ৩ পৃঃ৫০, মুসনাদে তাইয়াসী খঃ১ পৃঃ২৮৩ হাদীস ২১ ২২; রিয়াজুস সালেহীন পৃঃ ৩৮১।  আসাবাবু আলতানযিল ওয়াহেদী পৃঃ২৫০, দূররিল মানসূও সূয়ূতী খঃ৫, পৃঃ ২১৮, তাফসীওে কুরতুবী খঃ১৪ পৃঃ ২৯৪]

৫।  কানযূল উম্মালে আম্মার ইয়াসির রাসূল (সা.) থেকে বর্ণনা করেন যে তিনি বলেনঃ

اِنَّ اللّهَ أعطي مَلَکاً مِنَ الملائکة أسماعَ الخَلق, فَهُوَ قائمُ عَلي قَبري إلي يَومِ القِيا مة لايُصَلّي عَلَيَّ اَحَدُ صَلاةً إلاّ سمّاۀ بِاسمِه وَاسمِ أبيه و قلَ: يا مُحمّد صَلّي عَليک فُلانُ بن فُلان. وَ قَد ضَمِنَ لي رَبِي ـ تَبارَکَ وَ تَعالي ـ انّه أردُّ عَلَيه بِکُلِّ صَلاةٍ عَشرا.

মহান আল্লাহ ফেরেশতাগনের কোন একজন ফেরেশতাকে সমস্ত মানুষের সমান শ্রবণশক্তি দিয়েছে এবং তিনি কিয়ামত দিবস পর্যন্ত আমার কবরে দাঁড়িয়ে আছে। এমন কেউ নেই যে আমার উপর দূরুদ পড়েনা আর তাকে নাম ও পিতার নামে পরিচয় দিয়ে বলেনঃ হে মুহাম্মাদ! অমূকের পুত্র অমূক আপনার প্রতি দূরুদ পাঠিয়েছে।  মহান আল্লাহ আমাকে এ  [কানযুল উম্মাল খঃ১ পৃঃ৪৪৮-৪৫০] কাজে নিযুক্ত করেছেন যে তার প্রতিটি দূরুদের জন্য দশবার তাকে জবাব দিব।সুনানে আবু দাউদ তিরমিযি, নাসাঈ, মুসনাদে আহমাদ ও মুস্তাদরাক ফাযালাত বিন উবাইদ থেকে বর্ণিত হয়েছে যে তিনি বলেনঃ [আবু দাউদে বর্ণিত বিষয়বস্তু অনুসারে]

আল্লাহর রাসূল (সা.) শুণতে পেলেন এবং ব্যক্তি নামাযে দোয়া পড়ছেন কিন্তু না আল্লাহকে স্মরণ করছে না আল্লাহর পয়গাম্বরের উপর দূরুদ পড়ছে। আল্লাহর রাসূল বললেনঃ সে তাড়াহুড়া করলো। অতঃপর তাকে ডাকলেন এবং তাকে ও অন্যদেরকে বললেনঃ যখন তোমাদের কেউ নামায পড়লো সে যেন প্রথমে আল্লাহর হামদ ও সানা পড়ে,অতঃপর আল্লাহর রাসূলের উপর দূরুদ পড়ে। অতঃপর যা ইচ্ছা আল্লাহর নিকট  চাইতে পারে।৮ [সূনানে আবু দাউদ খঃ২ পৃঃ৭৭, হাদীস ১৪৮০, সূনানে তিরমিযি, কিতাবে দোয়া খঃ১৩ পৃঃ২১, অন্য এক রেওয়ায়েতে এ বিষয়ে এসেছে যে, আল্লাহর রাসূল (সা.) এক ব্যক্তিকে, যে নামায পড়লো ও নিজের জন্য দোয়া করলো কিন্তু না আল্লাহর প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করলো এবং না আল্লাহর নবীর উপর দূরুদ পড়লো, বলেনঃ “হে নামায আদায়কারী! যখনই নামায পড়লে ও বসলে আল্লাহর প্রতি  কৃতজ্ঞতা প্রকাশ ও আমার প্রতি দূরুদ পড়বে। অতঃপর আল্লাহর নিকট কিছু চাইবে।’  হযরত (সা.) অপর এক ব্যাক্তিকে যে নামায পড়লো, আল্লাহর প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ ও রাসূলের প্রতি দূরুদ পাঠ করলো, বললেনঃহে নামায আদায়কারী, তুম দোয় কর যা কবুল হবে। ” মুসনাদে আহমাদ খঃ৬ পৃঃ ১৮, সূনাচন নাসাঈ খঃ৩ পৃঃ৪৪, মুস্তাদরকে হাকিম কঃ১ পৃঃ ২৬৮, রিয়াযুস সালিহীন পৃঃ ৩৮২]

৭।  সা’দ সাঈদী আল্লাহর রাসূল থেকে বর্ণনা করেছেন যে বলেনঃ

لاصَلاةَ لِمَن لا يُصَلّي علي النَّبي ص.

যে আল্লাহর রাসূলের প্রতি দূরুদ না পড়লো তার নামায নামায নয়।  [সূনানে ইবনে মা’যা খঃ১, পৃঃ১৪০, হাদীস ৪০০]

৮ ।  জাবির রাসুলল্লাহ (সা.)থেকে বর্ণনাকরেছেন যে, বলেনঃ

مَن ذُکرتُ عِندهُ فَلَم يُصَلِّ عَلَيَّ فَقَد شقي

আমার নাম কারো কাছেউচ্চারিত হলো, আর যদি সে আমার উপর দূরুদ পড়লোনা, নিশ্চিত ভাবে সে (আমার প্রতি অত্যাচার করেছে।  [সুনানে ইবনে মা’যা খঃ১ পৃঃ১৪০, হাদীস ৪০০]

৯।  ইমাম হুসাইন ইবনে আলী (আঃ) থেকে, তিনি রাসূল (সা.) থেকে বর্ণনাকরেছেন যে বলেনঃ

مَن ذُکِرتُ عِندهُ فخطَئ الصلاةَ عَلَيَّ خَطَئ طَريقَ الحَنَّة

যদি কারো নিকট আমার নাম স্মরণ করা হলো আর সে আমার প্রতি দূরুদ পড়ার ব্যাপরে উদাসীন থাকলো, সে যেন বেহেশতের পথের প্রতি উদাসীন থাকলো।  [কানযুল উম্মাল খঃ১, পৃঃ৪৩৮ তোবরানী থেকে। অুুরূপ হাদীস হাদীস ইবনে আব্বাস থেকে ও পাওয়া যায় খঃ২ পৃঃ ৪৩৮ । তদ্রুপ ‘তাফসীরে দূররে মানসূরেও ’ খঃ৫, পৃঃ২১৮ এবং ইবনে মাযা পৃঃ২৯৪ বর্ণিত হয়েছে।]

১০।  মুসনাদে আহমাদ ও সূনানে তিরমিযি এবং অন্যান্য কিতাবে হুসাইন ইবনে আলী (আঃ) থেকে তিনি আল্লাহর  রাসূল থেকে, বর্ণিত হয়েছে যে, তিনি বলেনঃ

البَخِيلُ مَن ذُکِرتُ عِندَهُ فَلَم يُصَلِّ عَلَيَّ

সে-ই হলো বখিল (কৃপণ) যার নিকট আমার নাম স্মরণ করা হলো, আর সে আর সে আমার উপর দূরুদ পড়লো না । [মুসনাদে আহমাদ,খঃ১ পৃঃ২০১, সূনানে তিরমিযি, কিতাবে দোয়া খঃ১৩, পৃঃ ৬২ও৬৩ , কানযুল উম্মাল খঃ১, পৃঃ ৪৩৭, হাসান থেকে বাহ্যও! ভুল । কারন লেখক স্বয়ং বলেছেন ” এ হাদীসটি আহমদ, তিরমিযি, নাসাঈ ও ইবনে হাবান থেকে বর্ণনা করেছেন ( ফলে হুসাইন (আঃ) থেকে হওয়া উচিৎ।) এরূপ হাদীসের মত হাদীস আউফ বিন মালেক, হাসান, জাবির আবু হুরাইরা কাতাদাহ থেকেও কানযুল উম্মালখঃ১,পৃঃ৩৩৬-৩৩৮ ও ৪৫৩ তে ও পাওয়া যায়। অনুরূপ তাফসীরে দূররুল মানসূর খঃ৫,পৃঃ২১৮ এবং রিয়ায আলসালেহীন পৃঃ ৩৮২ তে ও পাওয়া যায়।]

মহানবী (সা.) উপর কিরূপে দূরুদ পড়বো?

১। কানযূল উম্মালে ইমাম আলী ইবনে আবি তালিব (আঃ) বর্ণিত হয়েছে যে,

قالُوايارَسُولَ الله! وَکَيفَ نُيفَ نُصَلّي عَلَيک ؟ قالَ <قُولُوا: أللّهُمَّ صَلِّ عَلي مُحَمَّدٍ وَ آلِ مُحَمَّدٍ کَما  صَلَّيتَ عَلي إبراهيمَ وَ آلِ أبراهيم إنَّکَ حَميدُ مَجيدُ وَبارِک عَل مُحَمَّدٍ وَ آلِ مُحَمَّدٍ کَما بارَکتَ عَلي إبراهيمَ وَ عَلي آلِ إبراهيمَ إبَّکَ حَميدُ مَجيدُ

(সাহাবীরা ) বললেনঃ হে আল্লাহর রাসূল (সা.)! আমরা কিরূপে আপনার উপর দূরুদ পাঠ করবো? বললেনঃ বলবে; হে আল্লাহ মুহাম্মাদ (সা.)ও আলে মুহাম্মাদের প্রতি দূরুদ পাঠাও, যেরূপে ইব্রাহীম (আঃ) ও আলে ইব্রাহীমের প্রতি দূরুদ পাঠিয়েছ। প্রকৃতপক্ষে আপনি প্রশংসিত সমুন্নত। এবং মুহাম্মাদ ও আলে মুহাম্মাদের উপর বরকত দান কর যেরূপে ইব্রাহীম (আঃ) ও আলে ইব্রাহীমের উপর বরকত দান করেছ। প্রকৃতপক্ষে আপনি প্রশংসিত ও সমুন্নত।

২।  সহী মুসলিম, সুনানে আবু দাউদ, তিরমিযি, নাসাঈ, মুয়াত্তা মালিক,মুসনাদে আহমাদ, সুনানে দারামীতে আবু মাসউদ আনসারী থেকে বর্ণিত হয়েছে যে, বলেনঃ

আল্লাহর রাসূল (সা.) এলেন ও আমাদের সাথে ‘সাদ ইবনে এবাদা’র মজলিশে বসলেন। বাশির বিন সা’দ (অবু নো’মান বিন বাশির ) তাঁকে বললেনঃ হে আল্লাহর রাসূল! মহান আল্লাহ আপনার উপর দূরুদ পড়ার নিদের্শ দিয়েছেন। আমরা কিরূপে দূরুদ পড়বো? বর্ণনা কারী বলেনঃ আল্লাহর রাসূল ( এতটা ) নিরবতা অবলম্বন করলেন যে আমাদের মনে হচ্ছিল যে হায় যদি এমন প্রশ্ন না করতাম। অতঃপর বললেনঃ হে আল্লাহ! মুহাম্মাদ ও আলে মুহম্মাদের প্রতি দূরুদ পাঠাও , যেমন ভাবে পাঠিয়েছ, মুহাম্মাদ ও আচল মুহাম্মাদের প্রতি বরকত দান কর, যেমন ভাবে দান করেছ পৃথিবী বাসীদের মধ্যে ইব্রাহীমকে দিয়েছ। প্রকৃতপক্ষে তুমি প্রশংসিত ও সমুন্নত। সালামও ঠিক এরমই যা জেনেছ। [সহী মুসলিম, কিতাবুস সালাত খঃ১ পৃঃ৩০৫, হাদীস ৬৭ সূনানে দারামী, খঃ১ পৃঃ৩১০, সুনানে আবু দাউদ খঃ১ পৃঃ ২৫৮ , হাদীস ৯৮০, সুনানে নাসাঈ খঃ৩ পৃঃ৪৫-৪৭ সূনানে তিরমিযি, কিতাবে তাযাসীর, তাফসীরে সূরা আহযাব খঃ  পৃঃ ৯৫ মুয়াত্তায়ে মালিক খঃ১, পৃঃ ১৬৫ ও ১৬৬, মুসনাদে আহমাদ খঃ৫ পৃঃ২৭৪, খঃ৪, পৃঃ১১৮, কানযুল উম্মাল খঃ২ পৃঃ১৮২ তাফসীরে কুরতুবী খঃ৪, পৃঃ২৩৩। তাফসীরে ‘দূররুল মানসূর খঃ৫ পৃঃ২১৬ও২১৭। তাফসীরে ইবনে কাসির খঃ৩ পৃঃ৫০৮। তাফসীরে খাযান খঃ৩ পৃঃ৪৭৭, মুস্তাদরাকুস সহীহাইন খঃ১, পৃঃ২৬৮, সূনানে বায়হাকী খঃ২ পৃঃ৩৭৮]

৩।  সহী বোখারী, সুনানে নাসাঈ ও ইবনে মাযা, এবং মুসনাদে আহমাদে আবু সাঈদ খুদরী থেকে বর্ণিত হয়েছে যে, বলেনঃ

قُلتُ: يارَسُولَ الله! هذَا السَّلامُ عَلَيک قَد عَرَفناه فَکَيفَ الصَّلاة؟ قالَ: <قُولُوا: أللّهُمَّ صَلِّ عَلي مُحَمَّدٍ عَبدِکَ وَرَسُولِکَ کَما  صَلَّيتَ عَلي إبراهيم. وَبارِک عَلي مُحَمَّدٍ وَ آلِ مُحَمَّدٍ کَما بارَکتَ عَلي إبراهيم.

বললাম হে আল্লাহর রাসূল! এটি ছিল আপনার প্রতি সালাম, তা আমরা জেনেছি। (আপনার উপর) কিরূপে পড়বো? ঊললেন, বলোঃ আল্লাহ! আপনার বান্দা ও রাসূল মুহাম্মাদের প্রতি দূরুদ প্রেরণ কর, যেরূপে ইব্রাহীসের প্রতি দূরুদ পাঠিয়েছ। এবং মুহাম্মাদ ও আচল মুহাম্মাদের উপর বরকত দান কর যেরূপে বরকত দিয়েছ ইব্রাহীমের প্রতি ।  [সহী বোখারী, কিতাবে তাফসীর, তাফসীরে সূরা আহযাব, খঃ৩, পৃঃ১১৯ এবং কিতাবে দাওয়াত খঃ৪পৃঃ৭২, সূনানে  নাসাঈ খঃ৩পৃঃ৪৯ । সূনানে ইবনে মা’যা খঃ১ পৃঃ২৯২, হাদীস ৯০২, মুসনাদে আহমাদ খঃ৩ পৃঃ৪৭ । তাফসীরে দূররুল খঃ৫ পৃঃ২১৭]

৪।  তাফসীরে তাবারী ও সূয়ুবতী ইবনে আব্বাস থেকে বর্ণনা করেছে

.. فَقُلنا:أو قالوا: يارَسُولَ الله!قَد علمنا السَّلام عَلَيک َفکَيفَ الصَّلاة عَليکَ؟ فقالَ:

অতঃপর বললাম বা বললোঃ হে আল্লাহর রাসূল (সা.) আপনার উপর সালাম সম্পর্কে জেনেছি, কিন্তু আপনার উপর দূরুদ কিরূপে (পড়ে)? বললেনঃ হে আল্লাহ! মুহাম্মাদ ও আলে মুহাম্মাদের উপর দূরুদ পাঠাও, যেরূপ পাঠিয়েছ ইব্রাহীম ও আলে ইব্রাহীমের  উপর।  তুমিতো প্রশংসিত ও উন্নত এবং মুহাম্মাদ ও আলে মুহাম্মাদের উপর বরকত প্রদান কর, যেরূপ বরকত প্রদান করেছে ইব্রাহীম ও আলে ইব্রাহীমের উপর।  নিশ্চয়ই তুমি প্রশংসিত ও সমুন্নত। [তাফসীরে তাবারী, তাফসীরে সূরা আহযাব খঃ২২ পৃঃ৩১, তাফসীরে দূররুল মনসূর খঃ৫, পৃঃ২১৬]

৫।  সুনানে নাসাঈতে “যাইদ ইবনে খারিজাহ” থেকে এবং তিনি রাসূল (সা.) থেকে, বর্ণিত হয়েছে যে, বলেন!

<صَلُّوا عَلَيَّ و اُجتهد وُا فِي الدُّعاءِو قُولُوا:  <قُولُوا: أللّهُمَّ صَلِّ عَلي مُحَمَّدٍ وَ آلِ مُحَمَّدٍ کَما صَلَّيتَ عَلي إبراهيم وَ آلِ إبراهيم. وَبارِک عَلي مُحَمَّدٍ وَ آلِ مُحَمَّدٍ کَما بارَکتَ عَلي إبراهيم وَ آلِ إبراهيم.

 আমার উপর দূরুদ পাঠবে এবং দোয়া করবে ও বলবেঃ হে আল্লাহ! মুহাম্মাদ ও আলে মুহাম্মাদের উপর দূরুদ পাঠাও এবং মুহাম্মাদ ও আলে মুহাম্মাদের উপর বরকত দান কর যেরূপ বরকত দান করেছ ইব্রাহীম ও আলে ইব্রাহীমের উপর। নিশ্চয়ই তুমি প্রশংসিত ও সমুন্নত। [সুনানে নাসাঈ, কিতাবে সাহু খঃ৩ পৃঃ৪৯]

৬। মূনানে নাসাঈ ও মুসনাদে আহমাদ আবু তালহা থেকে বর্ণনা করেছে যে,বলেনঃ

বললাম! হে আল্লাহর রাসূল! আপনার উপর কিরূপে দূরুদ পড়বো? বললেনঃ বল! হে আল্লাহ মুহাম্মাদ ও আলে মুহাম্মাদের উপর দূরুদ পাঠাও যেরূপে দূরদ পাঠিয়েছ ইব্রাহীম ও আলে ইব্রাহীমের উপর।  নিশ্চয়ই তুমি প্রশংসিত ও সমুন্নত। এবং মুহাম্মাদ ও আলে মুহাম্মাদের উপর বরকত দান কর যেরূপে বরকত দান করেছ ইব্রাহীম ও আলে ইব্রাহীমের উপর। নিশ্চয়ই তুমি প্রশংসিত ও উন্নত।

অপর এক রেওয়ায়েতে এসেছে যে, একব্যক্তি আল্লাহর রাসূল (সা.)-এর নিকট আসলেন এবং বললেনঃ হে আল্লাহর রাসূল! আপনার উপর কিরূপে দূরুদ পড়ব? বললেনঃ বল, হে আল্লাহ মুহাম্মাদ ও আলে মুহাম্মাদের উপর দূরূদ পাঠাও যেরূপে দূরুদ পাঠিয়েছ  ইব্রাহীমের উপর। নিশ্চয়ই তুমি  প্রশংসিত ও সমুন্নত। এবং মুহাম্মাদ ও আলে মুহাম্মাদের উপর বরকত দান কর যেরূপে ইব্রাহীনের উপর বরকত দান করেছ।  নিশ্চয়ই তুমি প্রশংসিত ও সমুন্নত। [সুনানে নাসাঈ, কিতাবে সাহু খঃ৩ পৃঃ৪৯]

৭।  তালহা থেকে কানযুল ইম্মালেবর্ণিত হয়েছেযে,বলেন ;

قُلنا: يارَسول الله!قَد علمنا  کَيفَ السَّلام عَلَيک.فَکَيفَ الصَّلاة عَليکَ ؟قالَ : قولوا:  أللّهُمَّ صَلِّ عَلي مُحَمَّدٍ وَ علي آلِ مُحَمَّدٍ  وَ بارِک عَلي مُحَمَّدٍ وَ آلِ مُحَمَّدٍ کَماصَلَّيتَ   و بارَکتَ عَلي إبراهيم وعلي آلِ ابراهيم إنَّکَ حَميدُ مَجيدُ

ঊললামঃ হে আল্লাহর রাসূল! কিরূপে আপনার উপর সালাম বলবো তা জেনেছি।  আপনার উপর দূরুদ কিরূপ? বললেনঃ বল, হে আল্লাহ! মুহাম্মাদ  ও আলে মুহাম্মাদের উপর দূরুদ পাঠাও এবং মুহাম্মাদ ও আলে মুহাম্মাদের উপর বরকত দান কর যেরূপে ইব্রাহীম ও আলে ইব্রাহীনের উপর দূরুদ ও বরকত দান  করেছ। নিশ্চয়ই তুমি প্রশংসিত ও সমুন্নত। [কানযুল উম্মাল খঃ২, পৃঃ১৭৬, তাফসীরে দূররুল মানসূর খঃ৫, পৃঃ ২১৬]

৮। সহী বোখারী, মুসলিম, সুনানে আবু দাউদ, দরামী, নাসাঈ, তিরমিযি,ইবনে মা’জা, মুসনাদে আহমাদ, তাফসীরে তাবারী ও সূয়ূতি ‘কা’ব ইবনি ও জযা’ থেকে বর্ণনা করেন যে তিনি বলেনঃ

کُنتُ جالِساً عِندَ النبيإذ جاءَ رجل فقالَ : قَد علمنا کَيفَ نسلّمُ عَليکَ يا رَسُول الله فَکيفَ نصلّي عَليکَ؟ قالَ :                               

আল্লাহর রাসূলের নিকট বসে ছিলাম।  এক ব্যাক্তি এসে বললোঃ হে আল্লাহর রাসূল। আমরা আপনার প্রতি কিরূপে সালাম করবো তা জেনেজি। কিরূপে আপনার প্রতি দূরুদ পড়বো? বললেন! বল! হে আল্লাহ মুহাম্মাদ ও আলে মুহাম্মাদের উপর দূরুদ পাঠিও যেরূপে ইব্রাহীম ও আলে ইব্রাহীমের উপর দূরুদ পাঠিয়েছিলে নিশ্চয়ই তুমি প্রশংসিত  সমুন্নত। হে আল্লাহ! মুহাম্মাদ ও আলে মুহাম্মাদের উপর  বরকত দান কর, যেরূপে বরকত দান করেছ ইব্রাহীম ও আলে ইব্রাহীমের উপর । নিশ্চয়ই তুমি প্রশংসিত ও সমুন্নত।১৯ [সহী বোখারী কিতাবে বাদাউল খালক্ব খঃ২ পৃঃ১৫৯ও ১৬০ কিতাবে তাফসীর, তাফসীরে সূরা আহযাব খঃ৩ পৃঃ ১১৯, কিতাবুদ্দাওয়াত খঃ৪ পৃঃ৭২, সহী মুসলিম, কিতাবে সালাত, খঃ১, পৃঃ৩০৫, হাদীস ৬৬, সুনানে আবুদাউদ খঃ১ পৃঃ২৫৭ হাদীস ৯৭৬, সুনানে দারামী খঃ১, পৃঃ৩০১, সুনানে নাসাঈ কঃ৩ পৃঃ৪৭ও ৪৮, সুনানে তিরমিযি খঃ২ পৃঃ২৬৮, সুনানে উবনে মাজা’ হাদীস ৯০৪, মুসনাদে আহমাদ খঃ৪ পৃঃ২৪১-২৪৪।  তাফসীরে তাবারী খঃ২২, পৃঃ৩১,তাফসীওে কুরতুবী, খঃ১৪, পৃঃ৩৩৪, তাফসীরে দূররুল মানসূর খঃ৫, পৃঃ২১৫ও২১৬,কারণযুল উম্মাল খঃ২, পৃঃ১৮০, তাফসীরে ইবনে কাসির খঃ৩ পৃঃ৫০৭]

৯।  মুসনাদে আহমাদ ও সুয়ুতির দূররুল মানসূরে ‘বারদেয়ে খাযায়ী” রাসূল (সা.) থেকে বর্ণনা করেছেন যে, বলেনঃ

قُولُوا : أللّهُمَّ اُ جعَل صَلَو اتکَ وَرَ حمتکَ وَ بَرَکاتک عَلي مُحَمَّذٍ کَما جَعَلتَها
علي إبراهيم إنَّکَ حَميدُ مَجيدُ

বলঃ হে আল্লাহ! মুহাম্মাদ ও আলে মুহাম্মাদের উপর দূরুদ, রহমতও বরকত দান কর যেরূপে এ গুলো ইব্রাহীমকে দান করেছ।  নিশ্চযই তুমি প্রশংসিত ও সমুন্নত।

১০।  কানযুল উম্মালে মুহাম্মাদ ইবনে আব্দুল্লাহ বিন যাইদ রাসূল (সা.) থেকে বর্ণনা করেছে যে, বলেনঃ

বলঃ হে আল্লাহ মুহাম্মাদ (সা.) ও আলে মুহাম্মাদের উপর দূরুদ প্রেরণ কর যেরূপভাবে ইব্রাহীম(আঃ)-এর উপর দূরুদ পাঠিয়েছ।  মুহাম্মাদ (সা.) ও আলে মুহাম্মাদের উপর বরকত দান কর যেরুপে ইব্রাহীমকে পৃথিবীবাসীর মধ্যে বরক দিয়েছ।  নিশ্চয়ই তুমি প্রশংসিত ও সমুন্নত।  একইভাবে সালাম ও সেরূপ যেমন টি জেনেছ।  [কানযুল উম্মাল খঃ১,  পৃঃ৪৪২]

১১।  তাফসীরে তাবারী ও সুয়ূতি ইব্রাহীম থেকে    اِنّ الله وَ ملا کته এ আয়াতের প্রসঙ্গে বর্ণনা করেছে যে,

قالُوا يا رَسُولَ الله! هذَا السَّلام قَد عَرفناه  .فَکَيفَ الصَّلاة عَليکَ ؟ فَقالَ :

বললেনঃ হে আল্লাহর রাসূল (সা.)! এ  সালামটি জানতাম।  আপনার উপর দূরুদ কিরূপ? বললেনঃ বল, হে আল্লাহ! তোমার বান্দা ও রাসূল মুহাম্মাদের উপর দূরুদ পাঠাও, যেমন ভাবে দূরুদ পাঠিয়েছ ইব্রাহিমের উপর।  সত্যিই তুমি প্রশংসিত ও সনুন্নত।  [তাফসীরে তাবারী, খঃ২, পৃঃ৩২, তাফসীরে দূররে মানসূর খঃ৫, পৃঃ ২১৬]

১২।  কানযূল উম্মালে, উম্মুল মুমিনীন আয়শা থেকে থেকে বর্ণিত যে, বললেনঃ

قالَ اَصحابُ النَّبيّ  يا رَسُول الله أُمِرنا أن نکثر الصَّلاةَ عَلَيکَ فِي اللَّيلَةِ الغراء وَ اليَوم الأزهَر وَ أحبّ ما صَلّينا عَلَيکَ کَم تُحِبّ. قالَ

নবীর সাহাবীরা বললেনঃ হে আল্লাহর রাসূল! আমাদেরকে আদেশ দেয়া হয়েছে অন্ধকার রাতে ও আলোকিত দিবালোকে আপনার উপর দূরুদ বেশী পড়তে।  (তা কতই না সুন্দর যে )আপনার উপর আমাদের দূরুদ এমন হবে যা আপান পছন্দ করবেন।  বললেনঃ বল; হে আল্লাহ মুহাম্মাদ ও আলে মুহাম্মাদের উপর দূরুদ পাঠাও, যেরূপ ভাবে ইব্রাহীম ও আলে ইব্রাহীমের উপর দূরুদ পাঠিয়েছ এবং মুহাম্মাদ  ও আলে মুহাম্মাদের উপর রহমত বর্ষণ কর, যেরূপে ইব্রাহীম ও আলে ইব্রাহীমের উপর রহমত করেছো।  মুহাম্মাদ ও আলে মুহাম্মাদের উপর বরক দাত্ত, যেরুপে বরকত দিয়েছোইব্রাহীম ও আলে ইব্রাহমকে নিশ্ময়ই  তুমি প্রশংসিত ও সমুন্নত ।  আর সালামের প্রক্রিয়া সম্পর্কেতো নিজেই জেনেছ।  [কানযুল উম্মাল খঃ২, পৃঃ১৮২, খঃ১ পৃঃ৪৪৩]

পর্যালোচনা

উপরোল্লেখিত হাদিসগুলো থেকে একটি প্রশ্ন উত্থাপিত হতে পারে যে, কেন নবী ও তাঁর আহলে বাইতের উপর দূরুদ ও সালামকে ইবরাহিম আ. ও তাঁর আহলে বাইতের উপর দূরুদ ও সালামের সাথে তুলনা করা হয়েছে? এতে কি আমাদের নবী ও তাঁর আহলে বাইতের মর্যাদা ইবরাহিম আ. ও তাঁর আহলে বাইতের মর্যাদার চেয়ে কম?!

জবাবে বলতে হয় যে, না কোনমতেই কম নয়।

তবে আরেকটি প্রশ্ন থাকতে পারে, তা এমন যে, যদি আমাদের নবী ও তাঁর আহলে বাইতের মর্যাদা ইবরাহিম আ. ও ও তাঁর আহলে বাইতের মর্যাদার চেয়ে কম না হয় তবে কেন অধিকাংশ হাদিসে ইবরাহিম আ. এর কথা পূনর্ব্যক্ত হয়েছে?

জবাব: ইবরাহিম আ. এর উপর যতসব ঐশি পরীক্ষা এসেছে তা ছিল অনেক কঠিন এবং তিনি সবটাতেই উত্তীর্ণ হয়েছেন বলেই আল্লাহ তা’য়ালা তাকে নবুওত দান করার পর ইমামত দান করেছিলেন।  (সূরা বাকারা, আয়াত নং ১২৪) আর এ থেকে বুঝা যায় যে, নবুওতের চেয়ে ইমামতের মর্যাদা অধিক।  আর তারপর আল্লাহ তা’য়ালা হযরত ইবরাহিমের বংশ থেকেই যে ইমামতের ধারা চালু রেখেছিলেন তাতেই হযরত মুহাম্মদ সা. ও তাঁর আহলে বাইতগণ এসেছেন।  আর তাই আমাদের শেষ নবীর বংশ থেকে ১২জন ইমাম এসেছেন যাদের শেষ ইমাম হবেন ইমাম মাহদী আ.

এ থেকে বুঝা যায় যে, আমাদের নবী স. ও তাঁর আহলে বাইতের উপর দূরুদ ও সালামের মর্যাদা হযরত ইবরাহিম ও তাঁর আহলে বাইতের উপর দূরুদের মর্যাদার চেয়ে কোন অংশেই কম নয়।   আর যেহেতু হযরত মুহাম্মদ সা. হলেন সর্বশ্রেষ্ট ও সর্বশেষ নবী তাই তাঁর উপর ও তাঁর আহলে বাইতের উপর দূরুদের মর্যাদা যাতে কোন মতেই হযরক ইবরাহিম ও তাঁর আহলে বাইতের উপর দূরুদের চেয়ে মূল্যহীন না হয় তাই উপরোল্লেখিত হাদিসসমূহে তাগাদা প্রদান করা হয়েছে।  এ থেকে যদি কেউ গাফিল হয়ে মনে করে যে, হযরত ইবরাহিমের মর্যাদা আমাদের নবী হযরত মুহাম্মদ সা. এর চেয়ে বেশি ততে তা হবে নিতান্তেই বোকামি।  তবে আমাদের সমাযে প্রচলিত সংক্ষিপ্ত দূরুদ থেকে তাঁর আহলে বাইতকে বাদ দেয়া হয়েছে।  যা একটি বিরাট স্বরযন্ত্র যার মাধ্যমে আমাদের শেষ নবীর আহলে বাইতকে ভুলে যাওয়া হয়েছে।  অথচ হাদিসসমূহে তারই তাগাদা প্রদান করা হয়েছে যাতে শেষ নবীর উপর দূরুদ থেকে তাঁর আহলে বাইতকে দেয়া না হয়।  তাই নবীর ও তাঁর আহলে বাইতের উপর সংক্ষেপে দূরুদ পেশ করতে হলে নবীর নাম শুনার পর আমরা বলব:

اللهم صلّ علی محمدٍ و آل محمد

নবী ও তাঁর আহলে বাইতের উপর আল্লাহর দূরুদ বর্ষিত হোক।    

والحمد لله ربّ العا لمين

সূত্র: http://www.islamibd.com