৫৩. সূরা আন-নাজ্‌ম

অনুবাদ: আলহাজ্জ ড. মোহাম্মদ সামিউল হক

بسم الله الرحمن الرحيم

وَالنَّجْمِ إِذَا هَوَى (1) مَا ضَلَّ صَاحِبُكُمْ وَمَا غَوَى (2) وَمَا يَنطِقُ عَنِ الْهَوَى (3) إِنْ هُوَ إِلَّا وَحْيٌ يُوحَى (4) عَلَّمَهُ شَدِيدُ الْقُوَى (5) ذُو مِرَّةٍ فَاسْتَوَى (6) وَهُوَ بِالْأُفُقِ الْأَعْلَى (7) ثُمَّ دَنَا فَتَدَلَّى (8) فَكَانَ قَابَ قَوْسَيْنِ أَوْ أَدْنَى (9)فَأَوْحَى إِلَى عَبْدِهِ مَا أَوْحَى (10) مَا كَذَبَ الْفُؤَادُ مَا رَأَى (11) أَفَتُمَارُونَهُ عَلَى مَا يَرَى (12) وَلَقَدْ رَآهُ نَزْلَةً أُخْرَى(13) عِندَ سِدْرَةِ الْمُنْتَهَى (14) عِندَهَا جَنَّةُ الْمَأْوَى (15) إِذْ يَغْشَى السِّدْرَةَ مَا يَغْشَى (16) مَا زَاغَ الْبَصَرُ وَمَا طَغَى (17) لَقَدْ رَأَى مِنْ آيَاتِ رَبِّهِ الْكُبْرَى (18) أَفَرَأَيْتُمُ اللَّاتَ وَالْعُزَّى (19) وَمَنَاةَ الثَّالِثَةَ الْأُخْرَى (20) أَلَكُمُ الذَّكَرُ وَلَهُ الْأُنثَى (21) تِلْكَ إِذاً قِسْمَةٌ ضِيزَى (22) إِنْ هِيَ إِلَّا أَسْمَاء سَمَّيْتُمُوهَا أَنتُمْ وَآبَاؤُكُم مَّا أَنزَلَ اللَّهُ بِهَا مِن سُلْطَانٍ إِن يَتَّبِعُونَ إِلَّا الظَّنَّ وَمَا تَهْوَى الْأَنفُسُ وَلَقَدْ جَاءهُم مِّن رَّبِّهِمُ الْهُدَى (23) أَمْ لِلْإِنسَانِ مَا تَمَنَّى (24) فَلِلَّهِ الْآخِرَةُ وَالْأُولَى (25) وَكَم مِّن مَّلَكٍ فِي السَّمَاوَاتِ لَا تُغْنِي شَفَاعَتُهُمْ شَيْئاً إِلَّا مِن بَعْدِ أَن يَأْذَنَ اللَّهُ لِمَن يَشَاءُ وَيَرْضَى (26)‏ إِنَّ الَّذِينَ لَا يُؤْمِنُونَ بِالْآخِرَةِ لَيُسَمُّونَ الْمَلَائِكَةَ تَسْمِيَةَ الْأُنثَى (27) وَمَا لَهُم بِهِ مِنْ عِلْمٍ إِن يَتَّبِعُونَ إِلَّا الظَّنَّ وَإِنَّ الظَّنَّ لَا يُغْنِي مِنَ الْحَقِّ شَيْئاً (28) فَأَعْرِضْ عَن مَّن تَوَلَّى عَن ذِكْرِنَا وَلَمْ يُرِدْ إِلَّا الْحَيَاةَ الدُّنْيَا (29) ذَلِكَ مَبْلَغُهُم مِّنَ الْعِلْمِ إِنَّ رَبَّكَ هُوَ أَعْلَمُ بِمَن ضَلَّ عَن سَبِيلِهِ وَهُوَ أَعْلَمُ بِمَنِ اهْتَدَى (30) وَلِلَّهِ مَا فِي السَّمَاوَاتِ وَمَا فِي الْأَرْضِ لِيَجْزِيَ الَّذِينَ أَسَاؤُوا بِمَا عَمِلُوا وَيَجْزِيَ الَّذِينَ أَحْسَنُوا بِالْحُسْنَى (31) الَّذِينَ يَجْتَنِبُونَ كَبَائِرَ الْإِثْمِ وَالْفَوَاحِشَ إِلَّا  اللَّمَمَ إِنَّ رَبَّكَ وَاسِعُ الْمَغْفِرَةِ هُوَ أَعْلَمُ بِكُمْ إِذْ أَنشَأَكُم مِّنَ الْأَرْضِ وَإِذْ أَنتُمْ أَجِنَّةٌ فِي بُطُونِ أُمَّهَاتِكُمْ فَلَا تُزَكُّوا أَنفُسَكُمْ هُوَ أَعْلَمُ بِمَنِ اتَّقَى (32) أَفَرَأَيْتَ الَّذِي تَوَلَّى (33) وَأَعْطَى قَلِيلاً وَأَكْدَى (34) أَعِندَهُ عِلْمُ الْغَيْبِ فَهُوَ يَرَى (35) أَمْ لَمْ يُنَبَّأْ بِمَا فِي صُحُفِ مُوسَى (36) وَإِبْرَاهِيمَ الَّذِي وَفَّى (37) أَلَّا تَزِرُ وَازِرَةٌ وِزْرَ أُخْرَى (38) وَأَن لَّيْسَ لِلْإِنسَانِ إِلَّا مَا سَعَى (39) وَأَنَّ سَعْيَهُ سَوْفَ يُرَى (40) ثُمَّ يُجْزَاهُ الْجَزَاء الْأَوْفَى (41) وَأَنَّ إِلَى رَبِّكَ الْمُنتَهَى (42) وَأَنَّهُ هُوَ أَضْحَكَ وَأَبْكَى (43) وَأَنَّهُ هُوَ أَمَاتَ وَأَحْيَا (44)‏ وَأَنَّهُ خَلَقَ الزَّوْجَيْنِ الذَّكَرَ وَالْأُنثَى (45) مِن نُّطْفَةٍ إِذَا تُمْنَى (46)وَأَنَّ عَلَيْهِ النَّشْأَةَ الْأُخْرَى (47) وَأَنَّهُ هُوَ أَغْنَى وَأَقْنَى (48) وَأَنَّهُ هُوَ رَبُّ الشِّعْرَى (49) وَأَنَّهُ أَهْلَكَ عَاداً الْأُولَى(50) وَثَمُودَ فَمَا أَبْقَى (51) وَقَوْمَ نُوحٍ مِّن قَبْلُ إِنَّهُمْ كَانُوا هُمْ أَظْلَمَ وَأَطْغَى (52) وَالْمُؤْتَفِكَةَ أَهْوَى (53) فَغَشَّاهَا مَا غَشَّى (54) فَبِأَيِّ آلَاء رَبِّكَ تَتَمَارَى (55) هَذَا نَذِيرٌ مِّنَ النُّذُرِ الْأُولَى (56) أَزِفَتْ الْآزِفَةُ (57) لَيْسَ لَهَا مِن دُونِ اللَّهِ كَاشِفَةٌ (58) أَفَمِنْ هَذَا الْحَدِيثِ تَعْجَبُونَ (59) وَتَضْحَكُونَ وَلَا تَبْكُونَ (60) وَأَنتُمْ سَامِدُونَ (61) فَاسْجُدُوا لِلَّهِ وَاعْبُدُوا (62)

দয়ালু আল্লাহর নামে শুরু করছি
১. নক্ষত্রের কসম, যখন অস্তমিত হয়।

২. তোমাদের সংগী (নবী) পথভ্রষ্ট হননি এবং বিপথগামীও হননি।

৩. আর তিনি কখনোই প্রবৃত্তির তাড়নায় কথা বলেন না।

৪. বরং তাঁর কথা শুধু কোআনি ওহী, যা প্রত্যাদেশ হয়।

৫. তাঁকে শিক্ষা দান করে চরম শক্তিশালী শত্বা,

৬. সহজাত শক্তিসম্পন্ন, স্থিতিশীল হলেন।

৭. যখন (নবী) উর্ধ্ব দিগন্তে ছিলেন,

৮. অতঃপর নিকটবর্তী হল ও অতি নিকটবর্তী।

৯. তখন তাঁদের মাঝে ব্যবধান ছিল ধনুকের দুই প্রান্তের ব্যবধান অথবা আরও কম।

১০. তখন আল্লাহ্‌ তাঁর বান্দার প্রতি যা প্রত্যাদেশ করবার, তা প্রত্যাদেশ করলেন।

১১. রসূলের অন্তর মিথ্যা বলেনি যা সে দেখেছে।

১২. তোমরা কি সে বিষয়ে বিতর্ক করবে যা সে দেখেছে?

১৩. নিশ্চয় সে তাকে আরেকবার দেখেছিল,

১৪. সিদরাতুলমুন্তাহার নিকটে,

১৫. যার কাছে অবস্থিত আবসস্থল জান্নাত।

১৬. যখন বৃক্ষটি আচ্ছন্ন হল যা দ্বারা আচ্ছন্ন হতে পারে।

১৭. তাঁর দৃষ্টিবিভ্রম হয় নি এবং সীমালংঘনও করেনি।

১৮. নিশ্চয় সে তার পালনকর্তার মহান নিদর্শনাবলী অবলোকন করেছে।

১৯. তোমরা কি ভেবে দেখেছ লাত ও ওযযা সম্পর্কে।

২০. এবং তৃতীয় আরেকটি মানাত সম্পর্কে?

২১. পুত্র-সন্তান কি তোমাদের জন্যে এবং কন্যা-সন্তান আল্লাহ্‌র জন্য?

২২. এমতাবস্থায় এটা তো হবে খুবই অসংগত বন্টন।

২৩. এগুলো কতগুলো নাম বৈ নয়, যা তোমরা এবং তোমাদের পূর্ব-পুরুষদের রেখেছ। এর সমর্থনে আল্লাহ্‌ কোন দলীল নাযিল করেননি। তারা অনুমান এবং প্রবৃত্তিরই অনুসরণ করে। অথচ তাদের কাছে তাদের পালনকর্তার পক্ষ থেকে পথ নির্দেশ এসেছে।

২৪. মানুষ যা চায়, তাই কি পায়?

২৫. অতএব, আখেরাত ও দুনিয়ার সব মঙ্গল আল্লাহ্‌রই হাতে।

২৬. আকাশে অনেক ফেরেশতা রয়েছে। তাদের কোন সুপারিশ ফলপ্রসূ হয় না যতক্ষণ আল্লাহ্‌ যার জন্যে ইচ্ছা ও যাকে পছন্দ করেন, অনুমতি না দেন।

২৭. যারা পরকালে বিশ্বাস করে না, তারাই ফেরেশতাকে নারীবাচক নাম দিয়ে থাকে।

২৮. অথচ এ বিষয়ে তাদের কোন জ্ঞান নেই। তারা কেবল অনুমানের উপর চলে। অথচ সত্যের ব্যাপারে অনুমান মোটেই ফলপ্রসূ নয়।

২৯. অতএব যে আমার স্মরণে বিমুখ এবং কেবল পার্থিব জীবনই কামনা করে তার তরফ থেকে আপনি মুখ ফিরিয়ে নিন।

৩০. তাদের জ্ঞানের পরিধি এ পর্যন্তই। নিশ্চয় আপনার পালনকর্তা ভাল জানেন, কে তাঁর পথ থেকে বিচ্যুত হয়েছে এবং তিনিই ভাল জানেন কে সুপথপ্রাপ্ত হয়েছে।

৩১. নভোমন্ডল ও ভূমন্ডলে যা কিছু আছে, সবই আল্লাহ্‌র, যাতে তিনি মন্দকর্মীদেরকে তাদের কর্মের প্রতিফল দেন এবং সৎকর্মীদেরকে দেন ভাল ফল।

৩২. যারা বড় বড় গোনাহ ও অশ্লীলকার্য থেকে বেঁচে থাকে ছোটখাট অপরাধ করলেও নিশ্চয় আপনার পালনকর্তার ক্ষমা সুদূর বিস্তৃত। তিনি তোমাদের সম্পর্কে ভাল জানেন, যখন তিনি তোমাদেরকে সৃষ্টি করেছেন মাটি থেকে এবং যখন তোমরা মাতৃগর্ভে কচি শিশু ছিলে। অতএব তোমরা আত্নপ্রশংসা করো না। তিনি ভাল জানেন কে সংযমী।

৩৩. আপনি কি তাকে দেখেছেন, যে মুখ ফিরিয়ে নেয়।

৩৪. এবং দেয় সামান্যই ও পরে বন্ধ করে দেয়।

৩৫. তার কাছে কি অদৃশ্যের জ্ঞান আছে যে, সে দেখে?

৩৬. তাকে কি জানানো হয়নি যা আছে মূসার কিতাবে ছিল।

৩৭. আর যা ইবরাহীমের কিতাবে ছিল, যে তার দায়িত্ব পালন করেছিল?

৩৮. এসব কিতাবে এই আছে যে, কোন ব্যক্তি কারও গোনাহ নিজে বহন করবে না।

৩৯. আর মানুষ তাই পায়, যা সে করে।

৪০. তার কর্ম শীঘ্রই দেখা হবে।

৪১. অতঃপর তাকে পূর্ণ প্রতিদান দেয়া হবে।

৪২. তোমার পালনকর্তার কাছে সবকিছুর সমাপ্তি,

৪৩. তিনিই হাসান ও কাঁদান

৪৪. তিনিই মারেন ও বাঁচান,

৪৫. তিনিই সৃষ্টি করেন যুগল-পুরুষ ও নারী।

৪৬. একবিন্দু বীর্য থেকে যখন স্খলিত করা হয়।

৪৭. পুনরুত্থানের দায়িত্ব তাঁরই;

৪৮. আর তিনিই ধনবান করেন ও সম্পদ দান করেন।

৪৯. তিনি শিরা নক্ষত্রের মালিক।

৫০. তিনিই প্রথম আদ সম্প্রদায়কে ধ্বংস করেছেন

৫১. এবং সামুদকেও; অতঃপর কাউকে অব্যহতি দেননি।

৫২. আর তাদের পূর্বে নূহের সম্প্রদায়কে, তারা ছিল আরও জালেম ও অবাধ্য।

৫৩. তিনিই জনপদকে শুন্যে উত্তোলন করে নিক্ষেপ করেছেন। ৫৪. অতঃপর তাকে আচ্ছন্ন করে নেয় যা আচ্ছন্ন করার।

৫৫. অতঃপর তুমি তোমার পালনকর্তার কোন অনুগ্রহ সম্পর্কে অযথা বিতর্ক করবে?!

৫৬. অতীতের সতর্ককারীদের মধ্যে সে-ও একজন সতর্ককারী।

৫৭. কেয়ামত নিকটে এসে গেছে।

৫৮. আল্লাহ্‌ ব্যতীত কেউ একে প্রকাশ করতে সক্ষম নয়।

৫৯. তোমরা কি এই বিষয়ে আশ্চর্যবোধ করছ?

৬০. এবং হাসছ! ক্রন্দন করছ না?

৬১. তোমরা কি ক্রীড়া-কৌতুক করছ?!

৬২. এসব না করে তোমরা সবাই আল্লাহকে সেজদা কর এবং তাঁর এবাদত কর।